লাস ভেগাস থেকে জানানো হয়েছে, বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে আরও এক ধাপ এগোল চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান লেনোভো। যুক্তরাষ্ট্রের চিপ নির্মাতা এনভিডিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্লাউড গিগাফ্যাক্টরি কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ব্যক্তিগত যন্ত্র, কর্পোরেট কাঠামো এবং উন্মুক্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্ল্যাটফর্মে এই প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
লাস ভেগাসে ঘোষণার মঞ্চে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ
লাস ভেগাসের স্পিয়ার মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে লেনোভোর চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী ইয়াং ইউয়ানছিং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কারখানার ধারণা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, ভবিষ্যতে ক্লাউড সেবা প্রদানকারীরা বড় পরিসরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাজ চালাতে এই ধরনের কারখানা গড়ে তুলবে বা ভাড়া নেবে। তাঁর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং। দুই প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নেতৃত্বের মতে, এই অংশীদারিত্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে দ্রুত বাস্তব উৎপাদনে নিয়ে যেতে সহায়ক হবে।
চ্যাটবট ছাড়িয়ে বাস্তব প্রয়োগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
ইয়াং ইউয়ানছিং বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর শুধু ক্লাউডভিত্তিক চ্যাটবট বা মডেলের প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ নেই। এখন এটি হার্ডওয়্যার ও বাস্তব জীবনের ব্যবহারে গভীরভাবে যুক্ত হচ্ছে। সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিবেদনে লেনোভো জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তাদের ব্যবসায় সহায়ক ভূমিকা ছাড়িয়ে প্রবৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তিতে পরিণত হচ্ছে।
কুইরা ও নতুন পণ্যে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার লক্ষ্য
অনুষ্ঠানে লেনোভো নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পণ্যও উন্মোচন করে। এর মধ্যে রয়েছে কুইরা নামের একটি নীরব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা, যা ব্যবহারকারীর আচরণ শিখে বিভিন্ন যন্ত্রকে একত্রে কাজ করাতে সক্ষম। কণ্ঠ, লেখা কিংবা কিবোর্ডের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে এটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তৈরি করবে বলে জানানো হয়। পাশাপাশি নতুন বাণিজ্যিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কম্পিউটার, মোটোরোলা স্মার্টফোন এবং স্মার্ট চশমার মতো ধারনাভিত্তিক যন্ত্র ও প্রদর্শন করা হয়।

ডেটা সেন্টার থেকে স্বয়ংচালিত প্রযুক্তি পর্যন্ত বিস্তার
লেনোভো কেবল ব্যক্তিগত যন্ত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, ডেটা সেন্টার সার্ভার নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রতিষ্ঠানের সেবা বিষয়ক বিভাগের প্রধান কেন ওয়াং জানান, এনভিডিয়ার সঙ্গে তাদের অংশীদারিত্ব ডেটা সেন্টারের গণ্ডি পেরিয়ে স্বয়ংচালিত গাড়ির জন্য বিশেষ প্ল্যাটফর্ম উৎপাদন পর্যন্ত বিস্তৃত। তাঁর ভাষায়, বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সংশয় থাকলেও চাহিদা সরবরাহ কে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
বিনিয়োগের ফল মিলবে দুই হাজার ছাব্বিশে
কেন ওয়াং স্বীকার করেন, অনেক গ্রাহক এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগের আর্থিক ফল জানতে চাইছেন। তাঁর মতে, প্রাথমিক পরীক্ষামূলক প্রকল্পের পর দুই হাজার ছাব্বিশ সাল থেকেই বিনিয়োগের দৃশ্যমান সুফল পাওয়া যাবে। লেনোভোর ধারণা, এই সময় পর্যন্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাহিদা আরও বাড়বে এবং প্রতিষ্ঠানের প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















