নতুন বছরের শুরুতে শরীরচর্চার প্রতিজ্ঞা নতুন কিছু নয়। কয়েক মাস ভালোভাবে চলার পর কাজের চাপ, ঘুমের অভাব আর পারিবারিক ব্যস্ততায় সেই অভ্যাস ভেঙে যায় বহু মানুষের। এই বাস্তবতার মাঝেই হাজির হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নতুন প্রজন্মের ফিটনেস প্রশিক্ষক, যারা আর অজুহাত শুনতে চায় না, বরং সময়, সামর্থ্য আর লক্ষ্য বুঝে ব্যায়াম চালিয়ে যেতে চাপ দেয়।
ব্যস্ত জীবনে মানিয়ে নেওয়া প্রশিক্ষক
সময় না থাকার সমস্যাই সবচেয়ে বড় বাধা। এই জায়গায় নতুন ডিজিটাল প্রশিক্ষকরা ব্যক্তিগত তথ্য শুনে ও বুঝে কাজ করে। লক্ষ্য কী, কী সরঞ্জাম আছে, দিনে কত সময় দেওয়া সম্ভব, সব বিবেচনায় নিয়ে কয়েক মিনিটেই পুরো সপ্তাহের অনুশীলন পরিকল্পনা তৈরি হয়। পরিকল্পনা ভেঙে গেলে সেটি নিজেই বদলে নেয়। ভ্রমণে থাকলে দাঁড়িয়ে করা ব্যায়াম দেখায়, একদম সময় না থাকলে কয়েক সেকেন্ডের শরীর সোজা রাখার অনুশীলনও সাজেস্ট করে।
তবে এই ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দুর্বলতাও আছে। কখনো কখনো ভুল তথ্য ধরে নিয়ে ভুল ওজন বা ভুল অনুশীলনের নির্দেশ দেয়, যা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, এই সমস্যা কমাতে প্রশিক্ষককে আরও নির্ভুল করে তোলা হচ্ছে।
সঠিক ভঙ্গির পাহারাদার
একাই ব্যায়াম করার বড় ঝুঁকি হলো ভুল ভঙ্গি। এতে ফল কম হয়, আবার আঘাতের আশঙ্কাও বাড়ে। এই সমস্যা সমাধানে কিছু যন্ত্রে বসানো হয়েছে নড়াচড়া শনাক্তকারী ক্যামেরা। ব্যায়ামের সময় ক্যামেরা চালু থাকলে সেটি আপনার নড়াচড়া গুনে নেয়, ভঙ্গি ঠিক আছে কি না দেখে এবং ওজন কম বা বেশি করার পরামর্শ দেয়।
ভঙ্গি ঠিক থাকলে পর্দায় ছোট সংকেত আসে, ভুল হলে সঙ্গে সঙ্গে সতর্কবার্তা। স্কোয়াটে আরও নিচে নামতে বলে, পুশআপে কোমর নামাতে বলে, ক্লান্ত হলে শরীর দোলানো বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। এই তদারকি ব্যবহারকারীকে নিয়ম মেনে ব্যায়াম করতে বাধ্য করে এবং প্রতিটি সঠিক অনুশীলনের জন্য উৎসাহ জোগায়।
একা ব্যায়ামে প্রেরণার সঙ্গী
বাইরে দৌড়ানো বা ঘরে একা অনুশীলনের সময় প্রেরণা ধরে রাখা কঠিন। এই জায়গায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আরেকটি রূপ কাজ করে কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে। কানে হেডফোন থাকলেই প্রশিক্ষক কথা বলে উৎসাহ দেয়। দৌড় শুরুর আগে বলে সময় বের করে নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ, মাঝপথে জানায় সাম্প্রতিক সাফল্যের পরিসংখ্যান, শেষে বলে পারছো তুমি।
গতি ধীর হলেও প্রশংসা থামে না। বরং নির্দিষ্ট দূরত্ব বা ধারাবাহিক অনুশীলনের মাইলফলক মনে করিয়ে দেয়। বার্তাগুলো সহজ, কিন্তু অনেকের জন্য এই সাধারণ স্বীকৃতিই নিয়ম ধরে রাখার শক্তি হয়ে ওঠে।
কোনটি সবচেয়ে কার্যকর
আদর্শ ডিজিটাল ফিটনেস সঙ্গী এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি। কারও শক্তি ব্যক্তিগত পরিকল্পনায়, কারও শক্তি ভঙ্গি ঠিক করায়, আবার কারও শক্তি প্রেরণায়। সব গুণ একসঙ্গে পাওয়া গেলে সেটিই হতো সেরা সমাধান। আপাতত ভঙ্গি শনাক্তকারী ক্যামেরাভিত্তিক ব্যবস্থাই সবচেয়ে কার্যকর বলে মনে করছেন অনেকে, যদিও এর খরচ বেশ চড়া।
সবশেষে মানব প্রশিক্ষকদের মতামতও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের মতে, সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিগত উন্নতি হতে পারে রাতে মোবাইল দূরে রেখে একটু আগে ঘুমানো। এতে সকালে শরীরচর্চা সহজ হয়। আর যদি কোনো দিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভোরে ব্যায়ামের আগে কফিও এনে দিতে পারে, সেটাই হবে সত্যিকারের বিপ্লব।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















