১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে অস্বীকার: এরপর কী, কী বলছে নিয়ম পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে চুরির অভিযোগে গাছে বেঁধে নির্যাতন, দুই শিশুকে ঘিরে তোলপাড় গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্তদের আন্দোলন স্থগিত, ঈদের আগেই দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস এপ্রিলে মব ভায়োলেন্সে ২২ নিহত, রাজনৈতিক সংঘাতে আরও ৬: এইচআরএসএস প্রতিবেদন ৩৯ কর্মকর্তার বড় রদবদল, এক দিনে বদলি ৯ ডিআইজি এক ভোটেই হার-জিত: তামিলনাড়ু ভোটে সাবেক মন্ত্রীর পরাজয়, ‘সারকার’-এর বার্তা ফের প্রমাণিত বাংলা-আসাম ফলাফল ঘিরে গণতন্ত্রে হুমকি, ঐক্যের ডাক রাহুল গান্ধীর সংসার যখন চালায় ভাগ্য, তখন অর্থনীতি কোথায় দাঁড়িয়ে? গ্রামেও ভ্যাট বসাতে চায় সরকার, টোকেন কর নিয়ে নতুন পরিকল্পনা ইন্দোনেশিয়ায় ম্যালেরিয়ার রেকর্ড সংক্রমণ, জলবায়ু ও মানুষের চলাচলে বাড়ছে ঝুঁকি

থাইল্যান্ডের বিমানবন্দর সংযোগ দ্রুতগতি রেল প্রকল্প অনিশ্চয়তায়, রাজনৈতিক টানাপোড়েনে আটকে সাত বিলিয়ন ডলারের উদ্যোগ

ব্যাংকক—থাইল্যান্ডে তিনটি প্রধান বিমানবন্দরকে যুক্ত করার উচ্চগতির রেল প্রকল্পটি আবার ও অনিশ্চয়তার মুখে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, সরকার পরিবর্তন এবং নির্বাচনকালীন আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকল্পটির কাজ শুরুর তারিখ এখনো ঝুলে আছে। পর্যটন নির্ভর অর্থনীতিতে গতি আনতে যে উদ্যোগটি বড় ভূমিকা রাখার কথা ছিল, সেটি এখন থমকে যাওয়ার আশঙ্কায়।

তিন বিমানবন্দর এক সুতোয় গাঁথার পরিকল্পনা

এই রেলপথের মাধ্যমে রাজধানীর দন মুআং ও সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরকে রায়ং প্রদেশের উ তাপাও বিমানবন্দরের সঙ্গে যুক্ত করার কথা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এতে যাতায়াতের সময় ও খরচ কমবে এবং ব্যাংক কেন্দ্রিক পর্যটকদের জন্য দেশের পূর্বাঞ্চলের পর্যটন এলাকায় পৌঁছানো সহজ হবে। প্রায় দুই শত বিশ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে দুই লক্ষ পঁচিশ হাজার কোটি বাথ।

ঠিকাদার পেলেও কাজ শুরু হয়নি

দুই হাজার উনিশ সালে বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী চারোয়েন পোক ফান্ড গ্রুপ-এর নেতৃত্বে একটি কনসোর্টিয়াম এই প্রকল্পের চুক্তি জেতে। তবে নির্মাণ সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি এবং মহামারির পর ভ্রমণ চাহিদার পরিবর্তনের কারণে কাজ শুরু করা যায়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সরকারের কাছে চুক্তির শর্ত সংশোধনের প্রস্তাব দেয়, বিশেষ করে অর্থ পরিশোধের পদ্ধতি নিয়ে।

Image

অর্থ পরিশোধ নিয়ে মতবিরোধ

প্রাথমিকভাবে কাজ শেষ হলে এককালীন অর্থ পরিশোধের কথা ছিল। পরে নির্মাণকালীন পর্যায়ে ধাপে ধাপে অর্থ পরিশোধের প্রস্তাব দেয় ঠিকাদারি পক্ষ, যাতে ব্যয়বৃদ্ধির সঙ্গে সমন্বয় করা যায়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন শিনাওয়াত্রা এই প্রস্তাবে সম্মতি দিলেও ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নতুন সরকারের অবস্থান বদলে যায়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনুটিন চানভিরাকুলের সরকার মনে করে, এই পরিবর্তন গ্রহণ করলে রাষ্ট্রের আর্থিক শৃঙ্খলা দুর্বল হবে এবং ভবিষ্যতে অন্যান্য ঠিকাদারও একই দাবি তুলতে পারে।

নির্বাচন ও আইনি জটিলতা

আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের কারণে সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমান সরকার তত্ত্বাবধায়ক ভূমিকায় রয়েছে। থাইল্যান্ডের আইন অনুযায়ী, এমন সরকার বড় অবকাঠামো প্রকল্প নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। ফলে চুক্তি সংশোধন বা নির্মাণ শুরুর সিদ্ধান্ত নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকছে।

অর্থনীতি ও পর্যটনে প্রভাব

থাইল্যান্ডের অর্থনীতি বড় অংশে পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। তবে সস্তা শ্রম নির্ভর প্রবৃদ্ধি মডেল সীমায় পৌঁছানোয় দেশটি মধ্যম আয়ের ফাঁদে পড়ার ঝুঁকিতে। পূর্বাঞ্চলীয় অর্থনৈতিক করিডর এলাকায় বৈদ্যুতিক যান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। রেলপথ বিলম্বিত হলে বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধির সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ভবিষ্যৎ কোন পথে

নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠিত হলে প্রকল্পের ভাগ্য নির্ধারিত হবে। ক্ষমতার পালাবদলে নীতিগত অবস্থান বদলালে চুক্তি সংশোধনের দরজা আবার খুলতে পারে। তবে দীর্ঘসূত্রতা চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ অবকাঠামো বিনিয়োগেও অনিশ্চয়তার ছায়া পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে অস্বীকার: এরপর কী, কী বলছে নিয়ম

থাইল্যান্ডের বিমানবন্দর সংযোগ দ্রুতগতি রেল প্রকল্প অনিশ্চয়তায়, রাজনৈতিক টানাপোড়েনে আটকে সাত বিলিয়ন ডলারের উদ্যোগ

১০:১০:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

ব্যাংকক—থাইল্যান্ডে তিনটি প্রধান বিমানবন্দরকে যুক্ত করার উচ্চগতির রেল প্রকল্পটি আবার ও অনিশ্চয়তার মুখে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, সরকার পরিবর্তন এবং নির্বাচনকালীন আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকল্পটির কাজ শুরুর তারিখ এখনো ঝুলে আছে। পর্যটন নির্ভর অর্থনীতিতে গতি আনতে যে উদ্যোগটি বড় ভূমিকা রাখার কথা ছিল, সেটি এখন থমকে যাওয়ার আশঙ্কায়।

তিন বিমানবন্দর এক সুতোয় গাঁথার পরিকল্পনা

এই রেলপথের মাধ্যমে রাজধানীর দন মুআং ও সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরকে রায়ং প্রদেশের উ তাপাও বিমানবন্দরের সঙ্গে যুক্ত করার কথা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এতে যাতায়াতের সময় ও খরচ কমবে এবং ব্যাংক কেন্দ্রিক পর্যটকদের জন্য দেশের পূর্বাঞ্চলের পর্যটন এলাকায় পৌঁছানো সহজ হবে। প্রায় দুই শত বিশ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে দুই লক্ষ পঁচিশ হাজার কোটি বাথ।

ঠিকাদার পেলেও কাজ শুরু হয়নি

দুই হাজার উনিশ সালে বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী চারোয়েন পোক ফান্ড গ্রুপ-এর নেতৃত্বে একটি কনসোর্টিয়াম এই প্রকল্পের চুক্তি জেতে। তবে নির্মাণ সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি এবং মহামারির পর ভ্রমণ চাহিদার পরিবর্তনের কারণে কাজ শুরু করা যায়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সরকারের কাছে চুক্তির শর্ত সংশোধনের প্রস্তাব দেয়, বিশেষ করে অর্থ পরিশোধের পদ্ধতি নিয়ে।

Image

অর্থ পরিশোধ নিয়ে মতবিরোধ

প্রাথমিকভাবে কাজ শেষ হলে এককালীন অর্থ পরিশোধের কথা ছিল। পরে নির্মাণকালীন পর্যায়ে ধাপে ধাপে অর্থ পরিশোধের প্রস্তাব দেয় ঠিকাদারি পক্ষ, যাতে ব্যয়বৃদ্ধির সঙ্গে সমন্বয় করা যায়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন শিনাওয়াত্রা এই প্রস্তাবে সম্মতি দিলেও ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নতুন সরকারের অবস্থান বদলে যায়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনুটিন চানভিরাকুলের সরকার মনে করে, এই পরিবর্তন গ্রহণ করলে রাষ্ট্রের আর্থিক শৃঙ্খলা দুর্বল হবে এবং ভবিষ্যতে অন্যান্য ঠিকাদারও একই দাবি তুলতে পারে।

নির্বাচন ও আইনি জটিলতা

আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের কারণে সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমান সরকার তত্ত্বাবধায়ক ভূমিকায় রয়েছে। থাইল্যান্ডের আইন অনুযায়ী, এমন সরকার বড় অবকাঠামো প্রকল্প নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। ফলে চুক্তি সংশোধন বা নির্মাণ শুরুর সিদ্ধান্ত নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকছে।

অর্থনীতি ও পর্যটনে প্রভাব

থাইল্যান্ডের অর্থনীতি বড় অংশে পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। তবে সস্তা শ্রম নির্ভর প্রবৃদ্ধি মডেল সীমায় পৌঁছানোয় দেশটি মধ্যম আয়ের ফাঁদে পড়ার ঝুঁকিতে। পূর্বাঞ্চলীয় অর্থনৈতিক করিডর এলাকায় বৈদ্যুতিক যান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। রেলপথ বিলম্বিত হলে বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধির সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ভবিষ্যৎ কোন পথে

নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠিত হলে প্রকল্পের ভাগ্য নির্ধারিত হবে। ক্ষমতার পালাবদলে নীতিগত অবস্থান বদলালে চুক্তি সংশোধনের দরজা আবার খুলতে পারে। তবে দীর্ঘসূত্রতা চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ অবকাঠামো বিনিয়োগেও অনিশ্চয়তার ছায়া পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।