০৪:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে অস্বীকার: এরপর কী, কী বলছে নিয়ম পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে চুরির অভিযোগে গাছে বেঁধে নির্যাতন, দুই শিশুকে ঘিরে তোলপাড় গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্তদের আন্দোলন স্থগিত, ঈদের আগেই দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস এপ্রিলে মব ভায়োলেন্সে ২২ নিহত, রাজনৈতিক সংঘাতে আরও ৬: এইচআরএসএস প্রতিবেদন ৩৯ কর্মকর্তার বড় রদবদল, এক দিনে বদলি ৯ ডিআইজি এক ভোটেই হার-জিত: তামিলনাড়ু ভোটে সাবেক মন্ত্রীর পরাজয়, ‘সারকার’-এর বার্তা ফের প্রমাণিত বাংলা-আসাম ফলাফল ঘিরে গণতন্ত্রে হুমকি, ঐক্যের ডাক রাহুল গান্ধীর সংসার যখন চালায় ভাগ্য, তখন অর্থনীতি কোথায় দাঁড়িয়ে? গ্রামেও ভ্যাট বসাতে চায় সরকার, টোকেন কর নিয়ে নতুন পরিকল্পনা ইন্দোনেশিয়ায় ম্যালেরিয়ার রেকর্ড সংক্রমণ, জলবায়ু ও মানুষের চলাচলে বাড়ছে ঝুঁকি

সংস্কৃতির আলোয় জাতিসত্তা, ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণে আল আইন

সংস্কৃতি শুধু অতীতের স্মৃতি নয়, একটি জাতির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পথ চলার মূল শক্তি—এমন বার্তাই আবারও স্পষ্ট করলেন আবুধাবির সংস্কৃতি ও পর্যটন দপ্তরের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ খলিফা আল মুবারক। তাঁর মতে, দেশের জাতিসত্তার কেন্দ্রে রয়েছে সংস্কৃতি, আর ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্জাগরণ সেই বিশ্বাসের প্রতিফলন।

আল আইনের ঐতিহাসিক হৃদস্পন্দন

সম্প্রতি পুনরায় খুলে দেওয়া আল আইন জাদুঘরকে তিনি বর্ণনা করেন আমিরাতের ঐতিহাসিক হৃদয়ের সঙ্গে সংযোগকারী এক গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে। আল আইন অঞ্চলকে তিনি শুধু একটি ভৌগোলিক স্থান নয়, মানব সভ্যতার বৈশ্বিক ঐতিহ্যে অবদান রাখা এক অনন্য কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরেন। এই অঞ্চলে অবস্থিত দেশের প্রথম বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত স্থানগুলো, যা আন্তর্জাতিক পরিসরে আল আইনের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

আট হাজার বছরের ইতিহাসের সাক্ষ্য

Mohamed Khalifa Al Mubarak, Chairman of the Department of Culture and Tourism – Abu Dhabi

পুনর্নির্মিত আল আইন জাদুঘর এখন আট হাজার বর্গ মিটারেরও বেশি জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। এখানে আট হাজার বছরের পুরোনো নিদর্শন, প্রাচীন সেচ ব্যবস্থা ও প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে পূর্বপুরুষদের সৃজনশীলতা ও টেকসই জীবনদর্শন। স্মৃতি ও আধুনিক ভাবনার মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এই জাদুঘর দর্শনার্থীদের অতীতকে নতুনভাবে বুঝতে সহায়তা করছে।

পর্যটন কৌশল ও আল আইনের নতুন যাত্রা

পর্যটন কৌশল দুই হাজার তিরিশের আওতায় আল আইন অঞ্চলে বছরে প্রায় পাঁচ লাখ বিশ হাজার রাত যাপনের পর্যটক আকর্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কাসর আল মুওয়াইজি, আল জাহিলি দুর্গ ও আল কাতারা শিল্প কেন্দ্রের মতো স্থাপনাগুলোর প্রচার এই লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এরই ধারাবাহিকতায় উপসাগরীয় দেশগুলোর পর্যটন মন্ত্রীদের এ বছর আল আইনকে উপসাগরীয় পর্যটন রাজধানী হিসেবে নির্বাচন করেছেন।

বিশ্ব সংস্কৃতির কেন্দ্রে আবুধাবি

আল মুবারক বলেন, সার্বজনীন জাদুঘর লুভর আবুধাবি ও ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র শিক্ষার কেন্দ্র বাইত আল উদ—এই উদ্যোগগুলো আবুধাবিকে বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। একদিকে আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপ, অন্যদিকে অদৃশ্য ঐতিহ্য সংরক্ষণ—দুটোই সমান গুরুত্ব পাচ্ছে।

 Al Ain Museum

দর্শনার্থীর আগ্রহে বড় উল্লম্ফন

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দুই হাজার পঁচিশ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আবুধাবির ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোতে চার মিলিয়নের বেশি দর্শনার্থী এসেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় অর্ধশতাংশ বেশি, যা সংস্কৃতি নির্ভর পর্যটনের বাড়তি আগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ভবিষ্যতের গবেষণা ও জ্ঞানকেন্দ্র

আগামী দিনে আল আইন জাদুঘর আন্তর্জাতিক গবেষণা ও শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে বলে জানান আল মুবারক। এখানে গবেষণাগার ও শিক্ষামূলক স্থান তৈরি করা হচ্ছে, যাতে বিশ্বের নানা প্রান্তের গবেষক ও দর্শনার্থীরা একসঙ্গে কাজ করতে পারেন।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, দেশের প্রতিষ্ঠাতা শেখ জায়েদের দূরদর্শিতার ফলেই জাতি গঠনের আগেই প্রথম জাদুঘরের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল। তাঁর বিশ্বাস ছিল, অতীত ছাড়া বর্তমান ও ভবিষ্যৎ অর্থহীন। সেই দর্শনকে ধারণ করেই আজ দেশজুড়ে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে জীবন্ত করে রাখার চেষ্টা চলছে।

Al Ain Museums Guide: Timings, Tickets & Tips | Pickyourtrail

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে অস্বীকার: এরপর কী, কী বলছে নিয়ম

সংস্কৃতির আলোয় জাতিসত্তা, ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণে আল আইন

০৫:০১:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

সংস্কৃতি শুধু অতীতের স্মৃতি নয়, একটি জাতির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পথ চলার মূল শক্তি—এমন বার্তাই আবারও স্পষ্ট করলেন আবুধাবির সংস্কৃতি ও পর্যটন দপ্তরের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ খলিফা আল মুবারক। তাঁর মতে, দেশের জাতিসত্তার কেন্দ্রে রয়েছে সংস্কৃতি, আর ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্জাগরণ সেই বিশ্বাসের প্রতিফলন।

আল আইনের ঐতিহাসিক হৃদস্পন্দন

সম্প্রতি পুনরায় খুলে দেওয়া আল আইন জাদুঘরকে তিনি বর্ণনা করেন আমিরাতের ঐতিহাসিক হৃদয়ের সঙ্গে সংযোগকারী এক গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে। আল আইন অঞ্চলকে তিনি শুধু একটি ভৌগোলিক স্থান নয়, মানব সভ্যতার বৈশ্বিক ঐতিহ্যে অবদান রাখা এক অনন্য কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরেন। এই অঞ্চলে অবস্থিত দেশের প্রথম বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত স্থানগুলো, যা আন্তর্জাতিক পরিসরে আল আইনের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

আট হাজার বছরের ইতিহাসের সাক্ষ্য

Mohamed Khalifa Al Mubarak, Chairman of the Department of Culture and Tourism – Abu Dhabi

পুনর্নির্মিত আল আইন জাদুঘর এখন আট হাজার বর্গ মিটারেরও বেশি জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। এখানে আট হাজার বছরের পুরোনো নিদর্শন, প্রাচীন সেচ ব্যবস্থা ও প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে পূর্বপুরুষদের সৃজনশীলতা ও টেকসই জীবনদর্শন। স্মৃতি ও আধুনিক ভাবনার মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এই জাদুঘর দর্শনার্থীদের অতীতকে নতুনভাবে বুঝতে সহায়তা করছে।

পর্যটন কৌশল ও আল আইনের নতুন যাত্রা

পর্যটন কৌশল দুই হাজার তিরিশের আওতায় আল আইন অঞ্চলে বছরে প্রায় পাঁচ লাখ বিশ হাজার রাত যাপনের পর্যটক আকর্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কাসর আল মুওয়াইজি, আল জাহিলি দুর্গ ও আল কাতারা শিল্প কেন্দ্রের মতো স্থাপনাগুলোর প্রচার এই লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এরই ধারাবাহিকতায় উপসাগরীয় দেশগুলোর পর্যটন মন্ত্রীদের এ বছর আল আইনকে উপসাগরীয় পর্যটন রাজধানী হিসেবে নির্বাচন করেছেন।

বিশ্ব সংস্কৃতির কেন্দ্রে আবুধাবি

আল মুবারক বলেন, সার্বজনীন জাদুঘর লুভর আবুধাবি ও ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র শিক্ষার কেন্দ্র বাইত আল উদ—এই উদ্যোগগুলো আবুধাবিকে বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। একদিকে আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপ, অন্যদিকে অদৃশ্য ঐতিহ্য সংরক্ষণ—দুটোই সমান গুরুত্ব পাচ্ছে।

 Al Ain Museum

দর্শনার্থীর আগ্রহে বড় উল্লম্ফন

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দুই হাজার পঁচিশ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আবুধাবির ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোতে চার মিলিয়নের বেশি দর্শনার্থী এসেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় অর্ধশতাংশ বেশি, যা সংস্কৃতি নির্ভর পর্যটনের বাড়তি আগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ভবিষ্যতের গবেষণা ও জ্ঞানকেন্দ্র

আগামী দিনে আল আইন জাদুঘর আন্তর্জাতিক গবেষণা ও শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে বলে জানান আল মুবারক। এখানে গবেষণাগার ও শিক্ষামূলক স্থান তৈরি করা হচ্ছে, যাতে বিশ্বের নানা প্রান্তের গবেষক ও দর্শনার্থীরা একসঙ্গে কাজ করতে পারেন।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, দেশের প্রতিষ্ঠাতা শেখ জায়েদের দূরদর্শিতার ফলেই জাতি গঠনের আগেই প্রথম জাদুঘরের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল। তাঁর বিশ্বাস ছিল, অতীত ছাড়া বর্তমান ও ভবিষ্যৎ অর্থহীন। সেই দর্শনকে ধারণ করেই আজ দেশজুড়ে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে জীবন্ত করে রাখার চেষ্টা চলছে।

Al Ain Museums Guide: Timings, Tickets & Tips | Pickyourtrail