০১:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পাকিস্তানে পেট্রোল ভর্তুকিতে ৩০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়, লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন পটিয়ায় কক্সবাজার এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকা-চট্টগ্রামের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব, দূরপাল্লায় ২০ পয়সা ও শহরে ১৮ পয়সা তৃতীয় দেশে নির্বাসন: পানামায় পাঠানো ইরানি খ্রিষ্টানের অনিশ্চিত জীবন জার্মানিতে ডানপন্থার উত্থানের জ্বালানি: হারিয়ে যাওয়া গৌরবের নস্টালজিয়া জিন্নাহর প্রতিকৃতি সরানোয় তাইয়েবকে হুমকির অভিযোগ, তদন্তের দাবি এডিপি বাস্তবায়নে পাঁচ বছরের সর্বনিম্ন হার, দুই মাসে অগ্রগতি মাত্র ১.৮৫ শতাংশ ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১,৬৫৫ বাংলাদেশকে পাকিস্তানের ছকে দেখলে ভারতেরই কৌশলগত ক্ষতি নাক থেকে অন্ত্র—শরীরের অদৃশ্য প্রতিরক্ষা দেয়াল, কীভাবে কাজ করে মিউকোসাল ইমিউন সিস্টেম?

সমুদ্রের তলায় ইন্টারনেট, ভাঙলে থেমে যায় আধুনিক জীবন

সমুদ্রের নিচে লুকিয়ে থাকা এক নীরব অবকাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে আজকের পৃথিবী। সেই বাস্তবতা হঠাৎ স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন কোথাও সংযোগ ছিঁড়ে যায়। দুই হাজার বাইশ সালের জানুয়ারিতে প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র টোঙ্গায় আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর মুহূর্তেই থেমে যায় যোগাযোগ। সমুদ্রতলের তার ছিঁড়ে পড়ায় দেশটি কার্যত বিশ্বের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। প্রিয়জনকে নিরাপদ থাকার খবর জানানো যায়নি, ব্যাংক বন্ধ হয়ে যায়, হাসপাতাল থেকে রোগীর নথি পাঠানো সম্ভব হয়নি, এমনকি বিমান চালকদেরও ভরসা করতে হয় অনুমানের ওপর।

Image

অদৃশ্য নির্ভরতার বাস্তব রূপ
এই ঘটনা শুধু টোঙ্গার নয়, বরং আজকের সবার গল্প। আধুনিক ডিজিটাল জীবন যে ভারহীন মনে হয়, তা আসলে নির্ভর করছে সমুদ্রের তলায় ছড়িয়ে থাকা প্রায় চৌদ্দ লাখ কিলোমিটার দীর্ঘ অপটিক্যাল তারের ওপর। বাগানের পাইপের মতো চিকন এই তারগুলোর মধ্য দিয়েই বিশ্ব ইন্টারনেটের প্রায় সব তথ্য যাতায়াত করে। দৈনন্দিন জীবনে ইন্টারনেট এতটাই মিশে গেছে যে, বন্ধ না হলে তার গুরুত্ব টের পাওয়া যায় না।

Image

ইতিহাস, পথ ও ঝুঁকি
সমুদ্রতলের এই তারের ইতিহাস সাম্রাজ্য যুগের টেলিগ্রাফ লাইনের মানচিত্রের সঙ্গে আশ্চর্য মিল রাখে। নিরাপদ পথ, কম ভূকম্পন আর ধারালো শিলামুক্ত অঞ্চল বেছে নিয়েই তখন যেমন তার পাতা হতো, আজও তেমনটাই চলছে। অল্প কয়েকটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান এই তার পাতা ও মেরামতের কাজ করে। কিন্তু এই নেটওয়ার্ক ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে। কখনো জাহাজের নোঙর, কখনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আবার কখনো ইচ্ছাকৃত হস্তক্ষেপে ছিঁড়ে যেতে পারে সংযোগ।

ভূরাজনীতি ও সমুদ্রতলের টানাপোড়েন
সমস্যা শুধু প্রযুক্তিগত নয়, রাজনৈতিকও। কিছু দেশ নির্দিষ্ট দেশের জাহাজ দিয়ে তার পাততে দেয় না বা তাদের ভূখণ্ডে সংযোগ নামতে বাধা দেয়। আবার দক্ষিণ চীন সাগরের মতো এলাকায় কে তার পাতা ও রক্ষণাবেক্ষণের কর্তৃত্ব পাবে, তা নিয়েও টানাপোড়েন চলছে। দুই হাজার তেইশ সালে তাইওয়ানের নিকটবর্তী দ্বীপপুঞ্জে হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনাও সন্দেহের জন্ম দেয়, যা অনেকের চোখে নিছক দুর্ঘটনা নয়।

মানুষের গল্পে গভীর সমুদ্র
এই গভীর সমুদ্রের কাহিনি কেবল তার আর মানচিত্রের নয়, মানুষেরও। যারা ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রের তলায় নেমে এই নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে ও মেরামত করে, তাদের সাফল্য ও ব্যর্থতার সরাসরি প্রভাব পড়ে কোটি মানুষের জীবনে। তাই ইন্টারনেটের এই গল্প পড়তে পড়তে স্পষ্ট হয়ে যায়, তথাকথিত মেঘ আসলে মাটির সঙ্গেই, কিংবা বলা যায় সমুদ্রের তলার সঙ্গেই শক্তভাবে বাঁধা।

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানে পেট্রোল ভর্তুকিতে ৩০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়, লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন

সমুদ্রের তলায় ইন্টারনেট, ভাঙলে থেমে যায় আধুনিক জীবন

০১:৪৬:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

সমুদ্রের নিচে লুকিয়ে থাকা এক নীরব অবকাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে আজকের পৃথিবী। সেই বাস্তবতা হঠাৎ স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন কোথাও সংযোগ ছিঁড়ে যায়। দুই হাজার বাইশ সালের জানুয়ারিতে প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র টোঙ্গায় আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর মুহূর্তেই থেমে যায় যোগাযোগ। সমুদ্রতলের তার ছিঁড়ে পড়ায় দেশটি কার্যত বিশ্বের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। প্রিয়জনকে নিরাপদ থাকার খবর জানানো যায়নি, ব্যাংক বন্ধ হয়ে যায়, হাসপাতাল থেকে রোগীর নথি পাঠানো সম্ভব হয়নি, এমনকি বিমান চালকদেরও ভরসা করতে হয় অনুমানের ওপর।

Image

অদৃশ্য নির্ভরতার বাস্তব রূপ
এই ঘটনা শুধু টোঙ্গার নয়, বরং আজকের সবার গল্প। আধুনিক ডিজিটাল জীবন যে ভারহীন মনে হয়, তা আসলে নির্ভর করছে সমুদ্রের তলায় ছড়িয়ে থাকা প্রায় চৌদ্দ লাখ কিলোমিটার দীর্ঘ অপটিক্যাল তারের ওপর। বাগানের পাইপের মতো চিকন এই তারগুলোর মধ্য দিয়েই বিশ্ব ইন্টারনেটের প্রায় সব তথ্য যাতায়াত করে। দৈনন্দিন জীবনে ইন্টারনেট এতটাই মিশে গেছে যে, বন্ধ না হলে তার গুরুত্ব টের পাওয়া যায় না।

Image

ইতিহাস, পথ ও ঝুঁকি
সমুদ্রতলের এই তারের ইতিহাস সাম্রাজ্য যুগের টেলিগ্রাফ লাইনের মানচিত্রের সঙ্গে আশ্চর্য মিল রাখে। নিরাপদ পথ, কম ভূকম্পন আর ধারালো শিলামুক্ত অঞ্চল বেছে নিয়েই তখন যেমন তার পাতা হতো, আজও তেমনটাই চলছে। অল্প কয়েকটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান এই তার পাতা ও মেরামতের কাজ করে। কিন্তু এই নেটওয়ার্ক ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে। কখনো জাহাজের নোঙর, কখনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আবার কখনো ইচ্ছাকৃত হস্তক্ষেপে ছিঁড়ে যেতে পারে সংযোগ।

ভূরাজনীতি ও সমুদ্রতলের টানাপোড়েন
সমস্যা শুধু প্রযুক্তিগত নয়, রাজনৈতিকও। কিছু দেশ নির্দিষ্ট দেশের জাহাজ দিয়ে তার পাততে দেয় না বা তাদের ভূখণ্ডে সংযোগ নামতে বাধা দেয়। আবার দক্ষিণ চীন সাগরের মতো এলাকায় কে তার পাতা ও রক্ষণাবেক্ষণের কর্তৃত্ব পাবে, তা নিয়েও টানাপোড়েন চলছে। দুই হাজার তেইশ সালে তাইওয়ানের নিকটবর্তী দ্বীপপুঞ্জে হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনাও সন্দেহের জন্ম দেয়, যা অনেকের চোখে নিছক দুর্ঘটনা নয়।

মানুষের গল্পে গভীর সমুদ্র
এই গভীর সমুদ্রের কাহিনি কেবল তার আর মানচিত্রের নয়, মানুষেরও। যারা ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রের তলায় নেমে এই নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে ও মেরামত করে, তাদের সাফল্য ও ব্যর্থতার সরাসরি প্রভাব পড়ে কোটি মানুষের জীবনে। তাই ইন্টারনেটের এই গল্প পড়তে পড়তে স্পষ্ট হয়ে যায়, তথাকথিত মেঘ আসলে মাটির সঙ্গেই, কিংবা বলা যায় সমুদ্রের তলার সঙ্গেই শক্তভাবে বাঁধা।