০৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৮৪) সিইএসে শকজের ‘ওপেনফিট প্রো’: ওপেন-ইয়ার ইয়ারবাড এখন আরও প্রিমিয়াম ফিলিপাইনে সাবেক জেনারেলের গ্রেপ্তারকে আইনের শাসনের উদাহরণ বলল সেনাবাহিনী ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান নিন্দা করল মেক্সিকো, ‘পরের টার্গেট’ হওয়া এড়াতে সতর্ক শেইনবাউম প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-৩৫১) সাত বিষয়ে ফেল করায় প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা দিল বিএনপি নেতার ছেলে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় গলা কাটা অবস্থায় স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার রমজান বাজার স্থিতিশীল রাখতে ডাল ও ভোজ্যতেল আমদানির অনুমোদন সরকারের ভেনেজুয়েলার শান্তির নোবেলের বয়ান  শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় স্থবির উত্তরাঞ্চল, রংপুর মেডিক্যালে রোগীর চাপ বাড়ছে

সমুদ্রের তলায় ইন্টারনেট, ভাঙলে থেমে যায় আধুনিক জীবন

সমুদ্রের নিচে লুকিয়ে থাকা এক নীরব অবকাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে আজকের পৃথিবী। সেই বাস্তবতা হঠাৎ স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন কোথাও সংযোগ ছিঁড়ে যায়। দুই হাজার বাইশ সালের জানুয়ারিতে প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র টোঙ্গায় আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর মুহূর্তেই থেমে যায় যোগাযোগ। সমুদ্রতলের তার ছিঁড়ে পড়ায় দেশটি কার্যত বিশ্বের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। প্রিয়জনকে নিরাপদ থাকার খবর জানানো যায়নি, ব্যাংক বন্ধ হয়ে যায়, হাসপাতাল থেকে রোগীর নথি পাঠানো সম্ভব হয়নি, এমনকি বিমান চালকদেরও ভরসা করতে হয় অনুমানের ওপর।

Image

অদৃশ্য নির্ভরতার বাস্তব রূপ
এই ঘটনা শুধু টোঙ্গার নয়, বরং আজকের সবার গল্প। আধুনিক ডিজিটাল জীবন যে ভারহীন মনে হয়, তা আসলে নির্ভর করছে সমুদ্রের তলায় ছড়িয়ে থাকা প্রায় চৌদ্দ লাখ কিলোমিটার দীর্ঘ অপটিক্যাল তারের ওপর। বাগানের পাইপের মতো চিকন এই তারগুলোর মধ্য দিয়েই বিশ্ব ইন্টারনেটের প্রায় সব তথ্য যাতায়াত করে। দৈনন্দিন জীবনে ইন্টারনেট এতটাই মিশে গেছে যে, বন্ধ না হলে তার গুরুত্ব টের পাওয়া যায় না।

Image

ইতিহাস, পথ ও ঝুঁকি
সমুদ্রতলের এই তারের ইতিহাস সাম্রাজ্য যুগের টেলিগ্রাফ লাইনের মানচিত্রের সঙ্গে আশ্চর্য মিল রাখে। নিরাপদ পথ, কম ভূকম্পন আর ধারালো শিলামুক্ত অঞ্চল বেছে নিয়েই তখন যেমন তার পাতা হতো, আজও তেমনটাই চলছে। অল্প কয়েকটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান এই তার পাতা ও মেরামতের কাজ করে। কিন্তু এই নেটওয়ার্ক ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে। কখনো জাহাজের নোঙর, কখনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আবার কখনো ইচ্ছাকৃত হস্তক্ষেপে ছিঁড়ে যেতে পারে সংযোগ।

ভূরাজনীতি ও সমুদ্রতলের টানাপোড়েন
সমস্যা শুধু প্রযুক্তিগত নয়, রাজনৈতিকও। কিছু দেশ নির্দিষ্ট দেশের জাহাজ দিয়ে তার পাততে দেয় না বা তাদের ভূখণ্ডে সংযোগ নামতে বাধা দেয়। আবার দক্ষিণ চীন সাগরের মতো এলাকায় কে তার পাতা ও রক্ষণাবেক্ষণের কর্তৃত্ব পাবে, তা নিয়েও টানাপোড়েন চলছে। দুই হাজার তেইশ সালে তাইওয়ানের নিকটবর্তী দ্বীপপুঞ্জে হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনাও সন্দেহের জন্ম দেয়, যা অনেকের চোখে নিছক দুর্ঘটনা নয়।

মানুষের গল্পে গভীর সমুদ্র
এই গভীর সমুদ্রের কাহিনি কেবল তার আর মানচিত্রের নয়, মানুষেরও। যারা ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রের তলায় নেমে এই নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে ও মেরামত করে, তাদের সাফল্য ও ব্যর্থতার সরাসরি প্রভাব পড়ে কোটি মানুষের জীবনে। তাই ইন্টারনেটের এই গল্প পড়তে পড়তে স্পষ্ট হয়ে যায়, তথাকথিত মেঘ আসলে মাটির সঙ্গেই, কিংবা বলা যায় সমুদ্রের তলার সঙ্গেই শক্তভাবে বাঁধা।

জনপ্রিয় সংবাদ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৮৪)

সমুদ্রের তলায় ইন্টারনেট, ভাঙলে থেমে যায় আধুনিক জীবন

০১:৪৬:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

সমুদ্রের নিচে লুকিয়ে থাকা এক নীরব অবকাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে আজকের পৃথিবী। সেই বাস্তবতা হঠাৎ স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন কোথাও সংযোগ ছিঁড়ে যায়। দুই হাজার বাইশ সালের জানুয়ারিতে প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র টোঙ্গায় আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর মুহূর্তেই থেমে যায় যোগাযোগ। সমুদ্রতলের তার ছিঁড়ে পড়ায় দেশটি কার্যত বিশ্বের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। প্রিয়জনকে নিরাপদ থাকার খবর জানানো যায়নি, ব্যাংক বন্ধ হয়ে যায়, হাসপাতাল থেকে রোগীর নথি পাঠানো সম্ভব হয়নি, এমনকি বিমান চালকদেরও ভরসা করতে হয় অনুমানের ওপর।

Image

অদৃশ্য নির্ভরতার বাস্তব রূপ
এই ঘটনা শুধু টোঙ্গার নয়, বরং আজকের সবার গল্প। আধুনিক ডিজিটাল জীবন যে ভারহীন মনে হয়, তা আসলে নির্ভর করছে সমুদ্রের তলায় ছড়িয়ে থাকা প্রায় চৌদ্দ লাখ কিলোমিটার দীর্ঘ অপটিক্যাল তারের ওপর। বাগানের পাইপের মতো চিকন এই তারগুলোর মধ্য দিয়েই বিশ্ব ইন্টারনেটের প্রায় সব তথ্য যাতায়াত করে। দৈনন্দিন জীবনে ইন্টারনেট এতটাই মিশে গেছে যে, বন্ধ না হলে তার গুরুত্ব টের পাওয়া যায় না।

Image

ইতিহাস, পথ ও ঝুঁকি
সমুদ্রতলের এই তারের ইতিহাস সাম্রাজ্য যুগের টেলিগ্রাফ লাইনের মানচিত্রের সঙ্গে আশ্চর্য মিল রাখে। নিরাপদ পথ, কম ভূকম্পন আর ধারালো শিলামুক্ত অঞ্চল বেছে নিয়েই তখন যেমন তার পাতা হতো, আজও তেমনটাই চলছে। অল্প কয়েকটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান এই তার পাতা ও মেরামতের কাজ করে। কিন্তু এই নেটওয়ার্ক ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে। কখনো জাহাজের নোঙর, কখনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আবার কখনো ইচ্ছাকৃত হস্তক্ষেপে ছিঁড়ে যেতে পারে সংযোগ।

ভূরাজনীতি ও সমুদ্রতলের টানাপোড়েন
সমস্যা শুধু প্রযুক্তিগত নয়, রাজনৈতিকও। কিছু দেশ নির্দিষ্ট দেশের জাহাজ দিয়ে তার পাততে দেয় না বা তাদের ভূখণ্ডে সংযোগ নামতে বাধা দেয়। আবার দক্ষিণ চীন সাগরের মতো এলাকায় কে তার পাতা ও রক্ষণাবেক্ষণের কর্তৃত্ব পাবে, তা নিয়েও টানাপোড়েন চলছে। দুই হাজার তেইশ সালে তাইওয়ানের নিকটবর্তী দ্বীপপুঞ্জে হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনাও সন্দেহের জন্ম দেয়, যা অনেকের চোখে নিছক দুর্ঘটনা নয়।

মানুষের গল্পে গভীর সমুদ্র
এই গভীর সমুদ্রের কাহিনি কেবল তার আর মানচিত্রের নয়, মানুষেরও। যারা ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রের তলায় নেমে এই নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে ও মেরামত করে, তাদের সাফল্য ও ব্যর্থতার সরাসরি প্রভাব পড়ে কোটি মানুষের জীবনে। তাই ইন্টারনেটের এই গল্প পড়তে পড়তে স্পষ্ট হয়ে যায়, তথাকথিত মেঘ আসলে মাটির সঙ্গেই, কিংবা বলা যায় সমুদ্রের তলার সঙ্গেই শক্তভাবে বাঁধা।