শুক্রবার দুপুরে আচমকা কেঁপে উঠল কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী শক্তিশালী কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বহুতল আবাসন ও অফিসপাড়ায়। ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫.৫ এবং এর উপকেন্দ্র ছিল প্রতিবেশী বাংলাদেশে, খুলনার নিকটে।
কখন ও কোথায় আঘাত হানে
জাতীয় ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্যমতে, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দুপুর ১টা ২২ মিনিট ২৫ সেকেন্ডে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। কম্পনের গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। অক্ষাংশ ২২.৫৭ উত্তর এবং দ্রাঘিমাংশ ৮৯.১১ পূর্বে এর অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।
উপকেন্দ্র চিহ্নিত হয়েছে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে, খুলনার কাছে। পরবর্তী পরিমাপে মাত্রা ৫.৩ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য বিশ্লেষণে এমন সামান্য তারতম্য স্বাভাবিক ঘটনা।

কলকাতায় আতঙ্ক, বহুতল থেকে নেমে আসেন মানুষ
কম্পন কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হলেও তা যথেষ্ট তীব্র ছিল। বিশেষ করে উঁচু ভবনগুলিতে ঝাঁকুনি বেশি অনুভূত হয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বহু অফিসকর্মী ভবন থেকে বেরিয়ে আসেন। আবাসিক কমপ্লেক্সগুলিতে বাসিন্দাদের খোলা জায়গায় জড়ো হতে দেখা যায়।
এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর মেলেনি। তবে হঠাৎ কম্পনে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
সীমান্তের কাছে উপকেন্দ্র, তাই বেশি প্রভাব
খুলনা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের খুব কাছাকাছি অবস্থিত। সুন্দরবন বদ্বীপ অঞ্চল ও গঙ্গা নদীর পলিমাটির এলাকায় মাটি তুলনামূলক নরম হওয়ায় কম্পনের প্রভাব বেশি অনুভূত হয়। খুলনা থেকে কলকাতার দূরত্ব আনুমানিক ১০০ থেকে ১৫০ কিলোমিটারের মধ্যে হওয়ায় দক্ষিণবঙ্গজুড়ে কম্পন স্পষ্টভাবে টের পাওয়া গেছে।
পশ্চিমবঙ্গের টাকির কাছ থেকেও ভূমিকম্পটির অবস্থান খুব দূরে ছিল না বলে জানা গেছে।
![]()
মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প কী ইঙ্গিত দেয়
৫.৩ থেকে ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্পকে মাঝারি শক্তির বলে ধরা হয়। এতে বিস্তীর্ণ এলাকায় কম্পন অনুভূত হতে পারে, বিশেষ করে যেখানে মাটি নরম ও পলিময়। যদিও বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কা কম, তবুও এ ধরনের কম্পন সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। আপাতত আতঙ্কের কিছু না থাকলেও বিশেষজ্ঞরা সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















