তাইওয়ানের নেতা উইলিয়াম লাই চিং-তে সম্প্রতি এক বক্তব্যে ‘মূলভূখণ্ড চীন’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি আসন্ন শি-ট্রাম্প শীর্ষ বৈঠকের আগে সতর্ক বার্তা হলেও এখনই তাইওয়ানের মূল ভূখণ্ড–নীতিতে বড় পরিবর্তন হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

বিরল শব্দচয়ন কেন গুরুত্বপূর্ণ
মঙ্গলবার মূল ভূখণ্ডে ব্যবসা পরিচালনাকারী তাইওয়ানি ব্যবসায়ীদের এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে লাই একাধিকবার ‘মূলভূখণ্ড চীন’ শব্দটি ব্যবহার করেন। ২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বড় বড় ভাষণে তিনি সাধারণত শুধু ‘চীন’ শব্দটি ব্যবহার করে আসছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন এই শব্দচয়নকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
চীনা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত বার্ষিক অনুষ্ঠানে লাই তাইওয়ানের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি তাইওয়ান প্রণালিতে বিদ্যমান স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “আমরা মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে বিনিময় ও সহযোগিতা চাই, যাতে প্রণালির দুই পারই শান্তি ও অভিন্ন সমৃদ্ধির পথে এগোতে পারে।” তাইওয়ানের একটি দৈনিক পত্রিকা এ বক্তব্য উদ্ধৃত করেছে।
শি-ট্রাম্প বৈঠকের প্রেক্ষাপট
আগামী ৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত বেইজিং সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ওই সফরে তার সঙ্গে বৈঠক করবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ধারণা করা হচ্ছে, বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই শীর্ষ বৈঠকের আগে ওয়াশিংটনের চাপের প্রেক্ষাপটে লাই ভাষার ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয়তা দেখাতে চাইছেন। তার বক্তব্যে ‘মূলভূখণ্ড চীন’ শব্দের ব্যবহার দুই পারের উত্তেজনা কমানোর একটি কৌশল হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, শব্দচয়ন পরিবর্তন মানেই নীতিগত বড় রদবদল নয়। তাইওয়ানের সামগ্রিক অবস্থান এখনো স্থিতাবস্থা বজায় রাখার দিকেই ইঙ্গিত করছে।

সামগ্রিক মূল্যায়ন
উইলিয়াম লাইয়ের এই বিরল শব্দব্যবহারকে অনেকে কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র-চীন শীর্ষ বৈঠকের প্রেক্ষাপট, অন্যদিকে তাইওয়ান প্রণালিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান—সব মিলিয়ে তার বক্তব্যে সতর্কতা ও ভারসাম্যের ইঙ্গিত স্পষ্ট।
তবে আপাতত এটিকে কৌশলগত ভাষাগত সমন্বয় হিসেবেই দেখা হচ্ছে; নীতিগত মৌলিক পরিবর্তনের প্রমাণ হিসেবে নয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















