হলিউডের কালজয়ী সিনেমাগুলোর স্মৃতি এবার উঠছে নিলামের মঞ্চে। ‘জস’-এর ভয়ঙ্কর হারপুন গান, ‘স্টার ওয়ার্স’-এর আলোকিত সি-থ্রিপিও মাথা, ‘গ্ল্যাডিয়েটর’-এর ম্যাক্সিমাসের হেলমেট, এমনকি ‘হ্যারি পটার’-এর বিখ্যাত ম্যারাউডারস ম্যাপ—সব মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার ঐতিহাসিক প্রপস ও কস্টিউম বিক্রি হতে যাচ্ছে এক বিশেষ নিলামে। আয়োজকদের ধারণা, এই সংগ্রহ থেকে প্রাক-বিক্রয় মূল্য হিসেবে প্রায় ৯ মিলিয়ন ডলার উঠতে পারে।
তিন দিনের জমকালো আয়োজন
আগামী ২৫ মার্চ থেকে টানা তিন দিন নিলাম চলবে। প্রথম দিন সরাসরি উপস্থিত থেকে দর হাঁকার সুযোগ থাকবে, পরবর্তী সময়ে অনলাইনে অংশ নিতে পারবেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংগ্রাহকরা। নিলামের আগে নির্বাচিত কিছু স্মারক একদিনের জন্য প্রদর্শনেও রাখা হবে, যাতে ভক্তরা কাছ থেকে দেখতে পারেন প্রিয় সিনেমার ইতিহাস।

আয়োজক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনলাইন দরদাতার সংখ্যা ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে চলচ্চিত্র স্মারক সংগ্রহ এখন বিশ্বজুড়ে নতুন এক বিনিয়োগ ও আবেগের বাজার তৈরি করেছে।
‘স্টার ওয়ার্স’ ভক্তদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ
নিলামের অন্যতম আলোচিত বস্তু হলো ‘স্টার ওয়ার্স’ সিরিজে ব্যবহৃত সি-থ্রিপিও চরিত্রের ফাইবারগ্লাস মাথা। এতে রয়েছে আলোকিত চোখ ও মূল তার সংযোগের অংশ, যা এটিকে আরও দুর্লভ করে তুলেছে। এর সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে কয়েক লাখ ডলার পর্যন্ত।
এছাড়া ‘দ্য ফোর্স অ্যাওয়েকেন্স’ পর্বে লুক স্কাইওয়াকার ও রে-র ব্যবহৃত বিখ্যাত লাইটসেবার হিল্টও রয়েছে তালিকায়। আয়োজকদের ভাষ্য, এটি ‘স্টার ওয়ার্স’ ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।

‘জস’ ও ‘টার্মিনেটর’-এর স্মৃতি
স্টিভেন স্পিলবার্গ পরিচালিত ‘জস’ সিনেমায় ব্যবহৃত হারপুন গানও নিলামে উঠছে। ছবিটির ভয়াবহ হাঙর শিকারের দৃশ্যে এই অস্ত্রটি ব্যবহৃত হয়েছিল। সঙ্গে থাকছে একই ছবির মাছ ধরার রড ও রিল। আয়োজকদের মতে, ‘জস’ থেকে এমন গুরুত্বপূর্ণ স্মারক খুব কমই বাজারে আসে।
অন্যদিকে ‘দ্য টার্মিনেটর’ ছবিতে আর্নল্ড শোয়ার্জনেগারের পরা জ্যাকেটও তালিকাভুক্ত হয়েছে। চামড়ার কলার, ধাতব চেইন, কৃত্রিম রক্তের দাগ ও বুলেটের চিহ্নসহ এই জ্যাকেট ছবির প্রথমার্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল। সংগ্রাহকদের কাছে এটি বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।
‘গ্ল্যাডিয়েটর’ ও ‘হ্যারি পটার’-এর দুর্লভ সংগ্রহ

রিডলি স্কট পরিচালিত ‘গ্ল্যাডিয়েটর’ সিনেমায় রাসেল ক্রোর পরা হেলমেট ও মুখোশও বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে। এর সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে কয়েক লাখ ডলার পর্যন্ত।
একইসঙ্গে ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য প্রিজনার অব আজকাবান’ ছবিতে ব্যবহৃত ম্যারাউডারস ম্যাপও রয়েছে নিলামে। হাতে তৈরি জটিল নকশা ও ভাঁজ করা স্তরযুক্ত এই মানচিত্রটি পুরো সিরিজের ভক্তদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় একটি স্মারক।
বৈশ্বিক সংগ্রাহক বাজারের বিস্তার
আয়োজকদের মতে, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের ঐতিহাসিক প্রপস এখন কেবল স্মৃতি নয়, বরং বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র। বিশ্বজুড়ে ভক্ত ও সংগ্রাহকরা অনলাইনের মাধ্যমে অংশ নিচ্ছেন, ফলে এই বাজার দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে।
কালজয়ী সিনেমার স্পর্শ পাওয়া এই সামগ্রীগুলো যে নতুন মালিকের হাতে গিয়ে আবার আলোচনায় আসবে, তা বলাই যায়।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















