ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ঝড় তুললেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপে পড়েই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এমন একটি চুক্তিতে সই করেছেন, যা শেষ পর্যন্ত ভারতের কৃষকদেরই বলি দেবে। কেরালার কান্নুরে কৃষক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, এই চুক্তি দেশের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির ভিত নড়বড়ে করে দেবে।
কৃষি বাজার উন্মুক্তের অভিযোগ
রাহুল গান্ধীর ভাষ্য, চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য যেমন সয়াবিন, ভুট্টা ও ফল ভারতের বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে। এতে দেশীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকরা মারাত্মক প্রতিযোগিতার মুখে পড়বেন। তিনি বলেন, ভারতীয় কৃষকের জমি ছোট, যান্ত্রিকীকরণ সীমিত; বিপরীতে মার্কিন কৃষকের বিশাল খামার ও আধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে। এই অসম প্রতিযোগিতা কৃষকদের জন্য ধ্বংসাত্মক হবে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, চার মাস ধরে কৃষি খাত নিয়ে মতবিরোধের কারণে চুক্তি আটকে ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চাপের মুখে সরকার নতি স্বীকার করেছে। তাঁর কথায়, কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী কৃষির ভিত্তি দুর্বল করে এমন সিদ্ধান্ত নিতেন না।
‘কৃষকই ভারতের ভিত’
রাহুল গান্ধী জোর দিয়ে বলেন, ভারতের অগ্রগতি কৃষকের শক্তির উপর দাঁড়িয়ে। তথ্যপ্রযুক্তি বা অন্য খাত নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হলেও কৃষির ভিত মজবুত না থাকলে কিছুই টেকসই হবে না। প্রতিদিন আমরা খাবার খাই, কিন্তু সেই খাবার যাঁরা উৎপাদন করেন, তাঁদের গুরুত্ব প্রায়ই ভুলে যাই—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।
তিনি কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কৃষকের অধিকার, ন্যায্য মূল্য ও মর্যাদাপূর্ণ জীবিকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তাঁর দাবি, সবুজ বিপ্লব ও সাদা বিপ্লব কৃষকদের জন্য গড়ে উঠেছিল; সেই ভিত্তিকে দুর্বল করা মানে দেশের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ফেলা।
রাজনৈতিক চাপের প্রসঙ্গ

বক্তব্যে রাহুল গান্ধী ইঙ্গিত দেন, বিতর্কিত কিছু নথিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, সেই চাপ সামলাতেই কৃষি বাজার উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও সরকারিভাবে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে এই তীব্র সমালোচনা রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কৃষক স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে সামনে কী পদক্ষেপ নেয় সরকার, এখন সেদিকেই নজর সবার।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















