ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন একদিনের সিরিজকে সামনে রেখে আবারও আলোচনায় ভারতীয় দলের নেতৃত্ব ও ব্যাটিং সমন্বয়। ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরেছেন অধিনায়ক শুভমান গিল ও সহ-অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার। এই সিরিজকে ঘিরে নির্বাচকদের ভাবনায় যেমন নতুন করে সুযোগ তৈরির চেষ্টা রয়েছে, তেমনি কিছু পুরনো প্রশ্নও ফিরে এসেছে।
ইনজুরি কাটিয়ে ফেরার লড়াই
অস্ট্রেলিয়ায় অক্টোবরে নির্ধারিত সিরিজে প্রথমবার অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন গিল ও আইয়ার। তবে সেই সফরে আইয়ারের পাঁজরের চোট এবং দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিলের ঘাড়ের সমস্যায় দুজনই মাঠের বাইরে চলে যান। দীর্ঘ বিরতির পর নিউজিল্যান্ড সিরিজ দিয়েই আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের অবস্থান মজবুত করার সুযোগ পাচ্ছেন তারা।
শ্রেয়াস আইয়ারের ফেরা এখনো সম্পূর্ণভাবে ফিটনেসের ওপর নির্ভরশীল। তিনি বিজয় হাজারে ট্রফিতে মুম্বাইয়ের হয়ে পরের দুটি লিগ ম্যাচ খেলবেন। সব কিছু ঠিক থাকলে জানুয়ারির নয় তারিখে জাতীয় দলে যোগ দেবেন। তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম একদিনের ম্যাচ হবে ভদোদরায়, জানুয়ারির এগারো তারিখে।

গিলের জন্য প্রমাণের মঞ্চ
এই সিরিজটি শুভমান গিলের জন্য আলাদা গুরুত্ব বহন করছে। সাম্প্রতিক কুড়ি ওভারের বিশ্বকাপ দলে জায়গা না পাওয়ার পর প্রথমবার মাঠে নামছেন তিনি। একদিনের ক্রিকেটে তার পরিসংখ্যান বরাবরই উজ্জ্বল। ধারাবাহিক ইনজুরির কারণে ছন্দ হারালেও এই ফরম্যাটে তার গড় ও রানসংখ্যা এখনও নির্বাচকদের আস্থার বড় কারণ।
মাঝের সারিতে অস্থিরতা
আইয়ারের প্রত্যাবর্তনের ফলে দল থেকে বাদ পড়েছেন ঋতুরাজ গায়কোয়াড়। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে রায়পুরে সেঞ্চুরি করলেও তার জায়গা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে সুযোগ হারিয়েছেন তিলক ভার্মাও। সাম্প্রতিক সময়ে দল নির্বাচন ও একাদশের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব নিয়ে সমালোচনা থাকলেও এই সিরিজেও সেই প্রশ্ন পুরোপুরি কাটেনি।

গায়কোয়াড়কে মূলত মধ্যম সারিতে পরীক্ষা করার ভাবনা ছিল। তবে ধারাবাহিক সুযোগের অভাবে তিনি নিজেকে প্রমাণ করার পর্যাপ্ত সময় পাননি। বিপরীতে ঋষভ পান্ত দলে থেকে গেছেন, মূলত উইকেটরক্ষক বিকল্প হিসেবে হলেও মধ্যম সারির ব্যাটিংয়ের জন্যও তাকে রাখা হয়েছে। আগের দুই সিরিজে দলে থেকেও ধ্রুব জুরেল সুযোগ না পাওয়ায় এবার বাদ পড়েছেন।
অলরাউন্ডারদের উপর আস্থা
দলের ভারসাম্য রক্ষায় এখনও ভরসা রাখা হয়েছে ওয়াশিংটন সুন্দর ও নীতিশ রেড্ডির ওপর। সাম্প্রতিক সিরিজগুলোতে ব্যাটে কিংবা বলে বড় অবদান রাখতে না পারলেও নির্বাচকরা এই দুজনকে ধরে রাখার পথেই হেঁটেছেন। হার্দিক পান্ডিয়াকে ভবিষ্যৎ সূচির কথা ভেবে বিশ্রামে রাখায় নীতিশ রেড্ডির উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

পেস আক্রমণে পরিবর্তন
দ্রুতগতির বোলিং বিভাগে ফিরেছেন মোহাম্মদ সিরাজ। শিশিরপ্রবণ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে অতিরিক্ত পেসারের প্রয়োজনীয়তা মেনে নিয়েছেন নির্বাচকরা। নতুন বলে তার দক্ষতা দলে বাড়তি শক্তি যোগাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে এখনও দলে জায়গা পাননি অভিজ্ঞ মোহাম্মদ শামি। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স বজায় রাখলেও তাকে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। অন্যদিকে জসপ্রিত বুমরাহ ও হার্দিক পান্ডিয়া বিশ্রামেই রয়েছেন। বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পান্ডিয়ার কাজের চাপ নিয়ন্ত্রণ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















