০৬:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
প্রয়োজন হলে সৌদি আরবের পাশে থাকবে পাকিস্তান ইরানি ড্রোনের আঘাতে দুবাইতে ১ বাংলাদেশিসহ ৪ জন নিহত পেট্রোল পাম্পে নিরাপত্তা না দিলে ব্যবসা বন্ধের হুঁশিয়ারি মালিকদের উত্তর বাড্ডায় দেয়াল ধসে খেলতে থাকা দুই শিশুর মৃত্যু অর্থনীতি রক্ষায় আগাম নীতি নেওয়ার আহ্বান ডি সিসি আইয়ের শফিকুর রহমান সম্মতি দিলে জামায়াতের চিঠি প্রকাশে প্রস্তুত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জ্বালানির দামে হঠাৎ ঝড়: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কায় মিশরে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে বড় বড় বিমান সংস্থাগুলো টিকিটের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তানের বিপক্ষে বিধ্বংসী বোলিং, নাহিদ রানার প্রথম ওয়ানডে পাঁচ উইকেট ড্রোন হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের বৃহত্তম তেল শোধনাগার বন্ধ করে দিয়েছে

এশিয়ায় পরীক্ষিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা কৌশল

  •  রবিন হু
  • ০৩:৪০:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
  • 15

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৫ সালের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল শুধু পররাষ্ট্রনীতি পুনর্গঠন করেনি। এটি শুল্ক, বিনিয়োগ প্রবাহ এবং সরবরাহ শৃঙ্খলকে একত্র করে একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরি করেছে। অর্থনৈতিক উপকরণ এখন আর অস্থায়ী চাপ প্রয়োগের কৌশল নয়; এগুলো ধীরে ধীরে বৈশ্বিক বাজার ব্যবস্থার স্থায়ী উপাদানে পরিণত হচ্ছে।

নিরাপত্তা নীতির সঙ্গে অর্থনৈতিক উপকরণের এই সমন্বয় ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাইওয়ানের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি শুধু শুল্কহার সামান্য সমন্বয় করেনি। এটি প্রায় ১৫ শতাংশ শুল্ক কাঠামোর ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে তাইওয়ানের রপ্তানি ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজিয়েছে এবং প্রায় ২৫০ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ তাইওয়ানি বিনিয়োগকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত শিল্পে যাবে—বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে। এটি কেবল একটি সাধারণ বাণিজ্য চুক্তি নয়। এতে বাজারে প্রবেশাধিকার, মূলধন প্রবাহ এবং উৎপাদন স্থাপনার অবস্থান—সবকিছু একই কাঠামোর মধ্যে যুক্ত করা হয়েছে।

TSMC Arizona Anchors $7 Billion 'City Within a City' as Phoenix Emerges as  Silicon Desert

তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি ইতিমধ্যে অ্যারিজোনায় উন্নত উৎপাদন সুবিধা তৈরি করছে। এখন এই প্রকল্প এমন এক শিল্প করিডরের অংশ, যেখানে প্রযুক্তি উৎপাদন সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা অগ্রাধিকারের সঙ্গে যুক্ত। শুল্কনীতি, মূলধন ব্যয় এবং কারখানার অবস্থান এখন আর আলাদা করে আলোচনা হচ্ছে না; বরং সেগুলো একসঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

এটি এশিয়ার করপোরেট বোর্ডরুমগুলোর জন্য একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত। অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এখন আর পটভূমির ভূরাজনৈতিক বিষয় নয়; এটি সরাসরি ব্যয়, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং অর্থায়নের কাঠামোকে প্রভাবিত করছে।

ক্ষমতা প্রয়োগের ধরনে তিনটি পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

প্রথমত, শুল্ক এখন দীর্ঘমেয়াদি শিল্পনীতির হাতিয়ার হয়ে উঠছে। যখন শুল্কনীতি নিরাপত্তা জোটের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন তা নির্ধারণ করে উৎপাদন কোথায় হবে। কোম্পানিগুলো আর ধরে নিতে পারে না যে রাজনৈতিক চক্র শেষে শুল্ক ছাড় ফিরে আসবে। শুল্ক কমে যাবে—এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি মূল্য নির্ধারণ মডেল এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

দ্বিতীয়ত, বিনিয়োগ এখন বাজারে প্রবেশাধিকারের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে তাইওয়ানের বিনিয়োগ শুধু প্রত্যাশিত মুনাফার বিষয় নয়। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত বাজার, অর্থায়ন এবং প্রযুক্তি সহযোগিতার নেটওয়ার্কের ভেতরে থাকার মূল্যও প্রতিফলিত হচ্ছে। এই নেটওয়ার্কের ভেতরে থাকলে অনুমোদন পাওয়া সহজ হয়, নিয়ন্ত্রক জটিলতা কমে এবং চুক্তি পাওয়ার সুযোগ বাড়ে। বাইরে থাকলে সেই সুযোগ সীমিত হয়ে যায়।

The Japan-U.S. Alliance at a Pivotal Moment and the Path Ahead | Asia  Society

তৃতীয়ত, অংশীদার দেশগুলোকে উৎপাদন কাঠামোর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা হচ্ছে। তাইওয়ান এখন শুধু একটি নিরাপত্তা অংশীদার নয়। তার সেমিকন্ডাক্টর সক্ষমতা এখন এমন জায়গার সঙ্গে যুক্ত, যেখানে বিশ্বাসযোগ্য উৎপাদন বাধাহীনভাবে পরিচালিত হতে পারে। এই সমন্বিত ব্যবস্থার ভেতরের উৎপাদন সক্ষমতা স্থিতিশীলতা পায়, আর বাইরের সক্ষমতা বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।

এর প্রভাব তাইওয়ানের বাইরেও বিস্তৃত।

জাপানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখলে গুরুত্বপূর্ণ বাজার ও প্রযুক্তি ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়। তবে এর বিনিময়ে নিজেদের শিল্পকে নিয়ন্ত্রণ ও সহায়তার ক্ষেত্রে কিছু নমনীয়তা হারাতে হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মধ্যে রপ্তানি ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত নিয়ম একীভূত হওয়ায় জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আরও সমন্বিত নিয়মের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। এতে বাজারে প্রবেশ সহজ হয়, কিন্তু স্বাধীনভাবে কৌশল নির্ধারণের সুযোগ কমে যায়।

দক্ষিণ কোরিয়ার পরিস্থিতিও প্রায় একই। উন্নত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন রপ্তানি লাইসেন্স, প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়ন্ত্রক যাচাইয়ের জটিল কাঠামোর মধ্য দিয়ে চলতে হয়, যা যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত অর্থনীতিগুলোর মধ্যে ক্রমেই সমন্বিত হচ্ছে। ফলে কৌশল, অর্থনীতি ও নিয়ন্ত্রক ঝুঁকি এখন একই টেবিলে আলোচিত হচ্ছে।

আসিয়ানের ভূমিকা ভিন্ন। তারা তাইওয়ানের মতো উন্নত চিপ উৎপাদনের কেন্দ্র হয়ে উঠছে না। বরং মূল্য শৃঙ্খলের যেসব অংশ সহজে স্থানান্তর করা যায়—যেমন সংযোজন, পরীক্ষা, যন্ত্রাংশ উৎপাদন এবং তথ্য অবকাঠামো—সেগুলো তারা গ্রহণ করছে। মালয়েশিয়ায় সেমিকন্ডাক্টর প্যাকেজিং সম্প্রসারিত হয়েছে। ভিয়েতনামে ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন বাড়ছে। সিঙ্গাপুর ও জোহরের সঙ্গে যুক্ত ডেটা সেন্টার বিনিয়োগও সক্রিয় রয়েছে। পৃথকভাবে এসব পরিবর্তন ছোট মনে হলেও একত্রে তারা দেখায় যে কোম্পানিগুলো এমন দ্বিতীয় উৎপাদন ঘাঁটি তৈরি করছে যা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিয়ন্ত্রক মানদণ্ড পূরণ করতে পারে।

AI Photo: VCG

চীনের জন্য সমন্বয়টি সবচেয়ে জটিল। চীনা কোম্পানিগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা এখনো বিশাল, কিন্তু উন্নত বাজার, প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং মূলধনের প্রবেশাধিকার ক্রমেই শর্তসাপেক্ষ হয়ে উঠছে। বেইজিংয়ের অগ্রাধিকার—প্রতিরক্ষা ব্যয়, শিল্প সহায়তা এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা—সবই একই আর্থিক উৎসের ওপর নির্ভর করে। হয়তো তাৎক্ষণিক বাজেট কাটছাঁট দেখা যাবে না, কিন্তু বাহ্যিক প্রবেশাধিকার সংকুচিত হলে তিনটি খাতেই সমানভাবে অর্থায়ন করা কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে নীতিগত সিদ্ধান্তে চাপ বাড়বে।

বহুজাতিক কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ও বিনিয়োগকারীদের জন্য এর প্রভাব সরাসরি কার্যক্রম পরিচালনার প্রশ্নে এসে দাঁড়ায়।

শুল্ককে এখন সাময়িক ব্যাঘাত নয়, বরং স্থায়ী ব্যয় কাঠামোর অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। সরবরাহ শৃঙ্খল শুধু দক্ষতার জন্য নয়, বরং বিভিন্ন অঞ্চলের কঠোরতর রপ্তানি ও নিয়ন্ত্রক বিধি মানতে পারে কি না—সেটিও যাচাই করতে হবে। কোম্পানিগুলোকে বুঝতে হবে তাদের ব্যবসা কতটা নির্ভরশীল ডলারভিত্তিক লেনদেন ব্যবস্থার ওপর, রপ্তানি অনুমোদনের ওপর এবং এমন আন্তসীমান্ত অর্থায়ন কাঠামোর ওপর, যা নীতিগত সিদ্ধান্তে দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। উন্নত উৎপাদন সক্ষমতা কোথায় স্থাপন করা হবে—সেই সিদ্ধান্ত এখন শ্রম বা পরিবহন ব্যয়ের মতো বিষয়ের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সামঞ্জস্যের ওপরও নির্ভর করছে।

পরবর্তী পরিকল্পনা পর্যায়ে ধরে নিতে হবে যে শুল্কের স্থায়িত্ব, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়ন্ত্রক সমন্বয় দীর্ঘদিন থাকবে। শুল্কের ঝুঁকি পর্যালোচনা করতে হবে, লাইসেন্সের ওপর নির্ভরশীলতা পুনর্বিবেচনা করতে হবে এবং বাজারে প্রবেশাধিকার সীমিত হয়ে গেলে উচ্চ প্রযুক্তির উৎপাদন কোথায় স্থাপন করা উচিত—সেটি নির্ধারণ করতে হবে।

কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাজারে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ | The Business Standard

যদি যুক্তরাষ্ট্র এই অর্থনৈতিক-নিরাপত্তা কাঠামোকে সফলভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তাহলে ফলাফল বিশৃঙ্খলা নয় বরং একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থা হবে। অর্থনৈতিক সীমানা আরও দৃঢ় হবে, কিন্তু একই সঙ্গে আরও পূর্বানুমেয় হবে। নিয়ন্ত্রক ব্যয় বাড়বে, তবে তা পরিকল্পনার মধ্যে ধরা যাবে। মূলধনী বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত তখন হঠাৎ ধাক্কার পরিবর্তে স্থিতিশীল নিয়মের ওপর নির্ভর করবে।

কিন্তু যদি এই কাঠামো ভেঙে পড়ে, তাহলে সমন্বয়হীন বিভাজন দ্রুত বাড়বে। শুল্ক হঠাৎ প্রতিক্রিয়ায় বাড়তে পারে, অর্থায়নের পথ অপ্রত্যাশিতভাবে সংকুচিত হতে পারে। কোম্পানিগুলো তখন নিজস্ব কৌশলে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার বদলে চাপের মধ্যে প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হবে।

যাত্রার দিকনির্দেশ এখন পরিষ্কার।

কোন দেশ বা কোম্পানি বাজার, অর্থায়ন এবং উন্নত উৎপাদন সক্ষমতার প্রবেশাধিকার ধরে রাখতে পারবে—তা ক্রমেই নির্ধারিত হচ্ছে জোটগত সামঞ্জস্যের মাধ্যমে। যারা এটিকে কাঠামোগত পরিবর্তন হিসেবে দেখবে, তারা পরিকল্পিতভাবে নিজেদের অবস্থান বদলাবে। আর যারা এটিকে সাময়িক চক্র হিসেবে দেখবে, তারা বুঝতে পারবে যে দক্ষতা আর সীমিত প্রবেশাধিকারকে পুষিয়ে দিতে পারছে না।

এই নতুন ব্যবস্থার প্রথম পরীক্ষা চলছে এশিয়ায়।

 

লেখক: রবিন হু, তেমাসেকের উপদেষ্টা , সিনিয়র পরিচালক এবং মিলকেন ইনস্টিটিউটের সাবেক এশিয়া চেয়ারম্যান।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রয়োজন হলে সৌদি আরবের পাশে থাকবে পাকিস্তান

এশিয়ায় পরীক্ষিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা কৌশল

০৩:৪০:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৫ সালের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল শুধু পররাষ্ট্রনীতি পুনর্গঠন করেনি। এটি শুল্ক, বিনিয়োগ প্রবাহ এবং সরবরাহ শৃঙ্খলকে একত্র করে একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরি করেছে। অর্থনৈতিক উপকরণ এখন আর অস্থায়ী চাপ প্রয়োগের কৌশল নয়; এগুলো ধীরে ধীরে বৈশ্বিক বাজার ব্যবস্থার স্থায়ী উপাদানে পরিণত হচ্ছে।

নিরাপত্তা নীতির সঙ্গে অর্থনৈতিক উপকরণের এই সমন্বয় ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাইওয়ানের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি শুধু শুল্কহার সামান্য সমন্বয় করেনি। এটি প্রায় ১৫ শতাংশ শুল্ক কাঠামোর ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে তাইওয়ানের রপ্তানি ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজিয়েছে এবং প্রায় ২৫০ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ তাইওয়ানি বিনিয়োগকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত শিল্পে যাবে—বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে। এটি কেবল একটি সাধারণ বাণিজ্য চুক্তি নয়। এতে বাজারে প্রবেশাধিকার, মূলধন প্রবাহ এবং উৎপাদন স্থাপনার অবস্থান—সবকিছু একই কাঠামোর মধ্যে যুক্ত করা হয়েছে।

TSMC Arizona Anchors $7 Billion 'City Within a City' as Phoenix Emerges as  Silicon Desert

তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি ইতিমধ্যে অ্যারিজোনায় উন্নত উৎপাদন সুবিধা তৈরি করছে। এখন এই প্রকল্প এমন এক শিল্প করিডরের অংশ, যেখানে প্রযুক্তি উৎপাদন সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা অগ্রাধিকারের সঙ্গে যুক্ত। শুল্কনীতি, মূলধন ব্যয় এবং কারখানার অবস্থান এখন আর আলাদা করে আলোচনা হচ্ছে না; বরং সেগুলো একসঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

এটি এশিয়ার করপোরেট বোর্ডরুমগুলোর জন্য একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত। অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এখন আর পটভূমির ভূরাজনৈতিক বিষয় নয়; এটি সরাসরি ব্যয়, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং অর্থায়নের কাঠামোকে প্রভাবিত করছে।

ক্ষমতা প্রয়োগের ধরনে তিনটি পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

প্রথমত, শুল্ক এখন দীর্ঘমেয়াদি শিল্পনীতির হাতিয়ার হয়ে উঠছে। যখন শুল্কনীতি নিরাপত্তা জোটের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন তা নির্ধারণ করে উৎপাদন কোথায় হবে। কোম্পানিগুলো আর ধরে নিতে পারে না যে রাজনৈতিক চক্র শেষে শুল্ক ছাড় ফিরে আসবে। শুল্ক কমে যাবে—এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি মূল্য নির্ধারণ মডেল এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

দ্বিতীয়ত, বিনিয়োগ এখন বাজারে প্রবেশাধিকারের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে তাইওয়ানের বিনিয়োগ শুধু প্রত্যাশিত মুনাফার বিষয় নয়। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত বাজার, অর্থায়ন এবং প্রযুক্তি সহযোগিতার নেটওয়ার্কের ভেতরে থাকার মূল্যও প্রতিফলিত হচ্ছে। এই নেটওয়ার্কের ভেতরে থাকলে অনুমোদন পাওয়া সহজ হয়, নিয়ন্ত্রক জটিলতা কমে এবং চুক্তি পাওয়ার সুযোগ বাড়ে। বাইরে থাকলে সেই সুযোগ সীমিত হয়ে যায়।

The Japan-U.S. Alliance at a Pivotal Moment and the Path Ahead | Asia  Society

তৃতীয়ত, অংশীদার দেশগুলোকে উৎপাদন কাঠামোর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা হচ্ছে। তাইওয়ান এখন শুধু একটি নিরাপত্তা অংশীদার নয়। তার সেমিকন্ডাক্টর সক্ষমতা এখন এমন জায়গার সঙ্গে যুক্ত, যেখানে বিশ্বাসযোগ্য উৎপাদন বাধাহীনভাবে পরিচালিত হতে পারে। এই সমন্বিত ব্যবস্থার ভেতরের উৎপাদন সক্ষমতা স্থিতিশীলতা পায়, আর বাইরের সক্ষমতা বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।

এর প্রভাব তাইওয়ানের বাইরেও বিস্তৃত।

জাপানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখলে গুরুত্বপূর্ণ বাজার ও প্রযুক্তি ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়। তবে এর বিনিময়ে নিজেদের শিল্পকে নিয়ন্ত্রণ ও সহায়তার ক্ষেত্রে কিছু নমনীয়তা হারাতে হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মধ্যে রপ্তানি ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত নিয়ম একীভূত হওয়ায় জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আরও সমন্বিত নিয়মের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। এতে বাজারে প্রবেশ সহজ হয়, কিন্তু স্বাধীনভাবে কৌশল নির্ধারণের সুযোগ কমে যায়।

দক্ষিণ কোরিয়ার পরিস্থিতিও প্রায় একই। উন্নত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন রপ্তানি লাইসেন্স, প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়ন্ত্রক যাচাইয়ের জটিল কাঠামোর মধ্য দিয়ে চলতে হয়, যা যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত অর্থনীতিগুলোর মধ্যে ক্রমেই সমন্বিত হচ্ছে। ফলে কৌশল, অর্থনীতি ও নিয়ন্ত্রক ঝুঁকি এখন একই টেবিলে আলোচিত হচ্ছে।

আসিয়ানের ভূমিকা ভিন্ন। তারা তাইওয়ানের মতো উন্নত চিপ উৎপাদনের কেন্দ্র হয়ে উঠছে না। বরং মূল্য শৃঙ্খলের যেসব অংশ সহজে স্থানান্তর করা যায়—যেমন সংযোজন, পরীক্ষা, যন্ত্রাংশ উৎপাদন এবং তথ্য অবকাঠামো—সেগুলো তারা গ্রহণ করছে। মালয়েশিয়ায় সেমিকন্ডাক্টর প্যাকেজিং সম্প্রসারিত হয়েছে। ভিয়েতনামে ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন বাড়ছে। সিঙ্গাপুর ও জোহরের সঙ্গে যুক্ত ডেটা সেন্টার বিনিয়োগও সক্রিয় রয়েছে। পৃথকভাবে এসব পরিবর্তন ছোট মনে হলেও একত্রে তারা দেখায় যে কোম্পানিগুলো এমন দ্বিতীয় উৎপাদন ঘাঁটি তৈরি করছে যা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিয়ন্ত্রক মানদণ্ড পূরণ করতে পারে।

AI Photo: VCG

চীনের জন্য সমন্বয়টি সবচেয়ে জটিল। চীনা কোম্পানিগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা এখনো বিশাল, কিন্তু উন্নত বাজার, প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং মূলধনের প্রবেশাধিকার ক্রমেই শর্তসাপেক্ষ হয়ে উঠছে। বেইজিংয়ের অগ্রাধিকার—প্রতিরক্ষা ব্যয়, শিল্প সহায়তা এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা—সবই একই আর্থিক উৎসের ওপর নির্ভর করে। হয়তো তাৎক্ষণিক বাজেট কাটছাঁট দেখা যাবে না, কিন্তু বাহ্যিক প্রবেশাধিকার সংকুচিত হলে তিনটি খাতেই সমানভাবে অর্থায়ন করা কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে নীতিগত সিদ্ধান্তে চাপ বাড়বে।

বহুজাতিক কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ও বিনিয়োগকারীদের জন্য এর প্রভাব সরাসরি কার্যক্রম পরিচালনার প্রশ্নে এসে দাঁড়ায়।

শুল্ককে এখন সাময়িক ব্যাঘাত নয়, বরং স্থায়ী ব্যয় কাঠামোর অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। সরবরাহ শৃঙ্খল শুধু দক্ষতার জন্য নয়, বরং বিভিন্ন অঞ্চলের কঠোরতর রপ্তানি ও নিয়ন্ত্রক বিধি মানতে পারে কি না—সেটিও যাচাই করতে হবে। কোম্পানিগুলোকে বুঝতে হবে তাদের ব্যবসা কতটা নির্ভরশীল ডলারভিত্তিক লেনদেন ব্যবস্থার ওপর, রপ্তানি অনুমোদনের ওপর এবং এমন আন্তসীমান্ত অর্থায়ন কাঠামোর ওপর, যা নীতিগত সিদ্ধান্তে দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। উন্নত উৎপাদন সক্ষমতা কোথায় স্থাপন করা হবে—সেই সিদ্ধান্ত এখন শ্রম বা পরিবহন ব্যয়ের মতো বিষয়ের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সামঞ্জস্যের ওপরও নির্ভর করছে।

পরবর্তী পরিকল্পনা পর্যায়ে ধরে নিতে হবে যে শুল্কের স্থায়িত্ব, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়ন্ত্রক সমন্বয় দীর্ঘদিন থাকবে। শুল্কের ঝুঁকি পর্যালোচনা করতে হবে, লাইসেন্সের ওপর নির্ভরশীলতা পুনর্বিবেচনা করতে হবে এবং বাজারে প্রবেশাধিকার সীমিত হয়ে গেলে উচ্চ প্রযুক্তির উৎপাদন কোথায় স্থাপন করা উচিত—সেটি নির্ধারণ করতে হবে।

কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাজারে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ | The Business Standard

যদি যুক্তরাষ্ট্র এই অর্থনৈতিক-নিরাপত্তা কাঠামোকে সফলভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তাহলে ফলাফল বিশৃঙ্খলা নয় বরং একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থা হবে। অর্থনৈতিক সীমানা আরও দৃঢ় হবে, কিন্তু একই সঙ্গে আরও পূর্বানুমেয় হবে। নিয়ন্ত্রক ব্যয় বাড়বে, তবে তা পরিকল্পনার মধ্যে ধরা যাবে। মূলধনী বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত তখন হঠাৎ ধাক্কার পরিবর্তে স্থিতিশীল নিয়মের ওপর নির্ভর করবে।

কিন্তু যদি এই কাঠামো ভেঙে পড়ে, তাহলে সমন্বয়হীন বিভাজন দ্রুত বাড়বে। শুল্ক হঠাৎ প্রতিক্রিয়ায় বাড়তে পারে, অর্থায়নের পথ অপ্রত্যাশিতভাবে সংকুচিত হতে পারে। কোম্পানিগুলো তখন নিজস্ব কৌশলে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার বদলে চাপের মধ্যে প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হবে।

যাত্রার দিকনির্দেশ এখন পরিষ্কার।

কোন দেশ বা কোম্পানি বাজার, অর্থায়ন এবং উন্নত উৎপাদন সক্ষমতার প্রবেশাধিকার ধরে রাখতে পারবে—তা ক্রমেই নির্ধারিত হচ্ছে জোটগত সামঞ্জস্যের মাধ্যমে। যারা এটিকে কাঠামোগত পরিবর্তন হিসেবে দেখবে, তারা পরিকল্পিতভাবে নিজেদের অবস্থান বদলাবে। আর যারা এটিকে সাময়িক চক্র হিসেবে দেখবে, তারা বুঝতে পারবে যে দক্ষতা আর সীমিত প্রবেশাধিকারকে পুষিয়ে দিতে পারছে না।

এই নতুন ব্যবস্থার প্রথম পরীক্ষা চলছে এশিয়ায়।

 

লেখক: রবিন হু, তেমাসেকের উপদেষ্টা , সিনিয়র পরিচালক এবং মিলকেন ইনস্টিটিউটের সাবেক এশিয়া চেয়ারম্যান।