পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় ও শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে আজ সকাল থেকেই, যেখানে ৭টি জেলার ১৪২টি আসনে ভোট চলছে। সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। এই ধাপেই নির্ধারিত হবে রাজ্যের ক্ষমতার লড়াইয়ে কে এগিয়ে—তৃণমূল কংগ্রেস নাকি ভারতীয় জনতা পার্টি।
নিরাপত্তার কড়াকড়ি থাকলেও শুরু থেকেই অভিযোগ-প্রতিআভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভোটের পরিবেশ। দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরই একে অপরের বিরুদ্ধে ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
ভোট ঘিরে উত্তেজনা ও অভিযোগ

মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, ভোটকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে এবং তার দলের কর্মীদের ওপর রাতভর হামলা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, শিবপুরের এক বিজেপি প্রার্থী দাবি করেছেন, ভোটারদের ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং তাদের কর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারীও আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলেছেন, এই নির্বাচনে তৃণমূল ইতোমধ্যেই পরাজিত।
প্রযুক্তিগত সমস্যাও নজরে
কিছু ভোটকেন্দ্রে ইভিএম মেশিনে সাময়িক ত্রুটি দেখা গেলেও দ্রুত তা ঠিক করে ভোটগ্রহণ চালু রাখা হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, কোথাও ভোটগ্রহণ বন্ধ হয়নি।
বড় পরিসরের ভোট আয়োজন
এই ধাপে প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। মোট ১,৪৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যাদের মধ্যে ২২০ জন নারী প্রার্থী রয়েছেন।

মোট ৪১ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে ৮ হাজারের বেশি কেন্দ্র পরিচালনা করছেন নারী কর্মীরা। এছাড়া বিশেষভাবে সক্ষম কর্মীদের দ্বারা পরিচালিত কিছু কেন্দ্রও রাখা হয়েছে, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংবেদনশীল কেন্দ্র ও নিরাপত্তা
৪ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের সহিংসতা বা অনিয়ম ঠেকানো যায়।
ফলাফল নিয়ে অপেক্ষা
এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপের ভোটের ফল জানা যাবে আগামী ৪ মে। তখনই পরিষ্কার হবে, তৃণমূলের জোড়া ঘাসফুল প্রতীক নাকি বিজেপির পদ্মফুল—কার হাতে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















