রাজনীতির অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে নাহিদ ইসলামকে ঘিরে করা এক মন্তব্য। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন। তিনি দাবি করেছেন, সরাসরি দুর্নীতির প্রমাণ না থাকলেও নাহিদ ইসলামের কর্মকাণ্ডে নৈতিক প্রশ্ন ওঠে।
সংসদে বক্তব্যের পরই বিতর্ক
সম্প্রতি সংসদে দাঁড়িয়ে নাহিদ ইসলাম নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত দাবি করে প্রমাণ চাওয়ার কথা বলেন। এই বক্তব্যের পরদিনই সামাজিক মাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে দুর্নীতিতে জড়িত না থাকলেও দায়িত্ব পালনকালে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার দায় এড়ানো যায় না।
উপদেষ্টা ও ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

রাশেদ খাঁনের বক্তব্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নাহিদ ইসলামের আশপাশের অনেক ব্যক্তি দুর্নীতি, তদবির বাণিজ্য এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকি তাঁর সাবেক ব্যক্তিগত কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ গণমাধ্যমে এসেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে প্রভাব বিস্তার, নিজস্ব লোক বসানো এবং প্রশাসনিক রদবদলে ভূমিকা রাখার অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি।
নিয়োগ ও রাজনৈতিক অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন
নাহিদ ইসলাম নিজেই একাধিকবার উপদেষ্টাদের ওপর আস্থার কারণে প্রতারিত হওয়ার কথা বলেছেন বলে দাবি করেন রাশেদ খাঁন। সেই উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধেই পরে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠায়, তাদের নিয়োগদাতা হিসেবে নাহিদের দায় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এর পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের অর্থায়ন নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। রাশেদ খাঁনের মতে, কিছু ধনী ব্যক্তির কাছ থেকে আসা আর্থিক সহায়তার পেছনে স্বার্থ থাকতে পারে। একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে বাণিজ্য উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের পেছনেও উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
উপদেষ্টা থাকা অবস্থায় দল গঠন

সবচেয়ে বড় সমালোচনার জায়গা হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, উপদেষ্টা পদে থাকা অবস্থায় রাজনৈতিক দল গঠন করা। রাশেদ খাঁনের মতে, এটি স্পষ্টভাবে নৈতিকতার পরিপন্থী। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দায়িত্বে থাকাকালে তথ্য মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে কোনো কার্যকর সংস্কার কেন করা হয়নি।
প্রতিশ্রুতি ও পদত্যাগের সমালোচনা
সরকারে যোগ দেওয়ার সময় বিচার, সংস্কার এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সেগুলো বাস্তবায়ন না করেই পদত্যাগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রাশেদ খাঁন। তার মতে, এই ব্যর্থতা রাজনৈতিক দায়ের পাশাপাশি নৈতিক দায়ও তৈরি করে।
সব মিলিয়ে, রাশেদ খাঁনের বক্তব্যে স্পষ্ট—নাহিদ ইসলাম ব্যক্তিগতভাবে দুর্নীতিতে জড়িত না থাকলেও দায়িত্ব পালনকালে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর কারণে তার নৈতিক জবাবদিহি এড়ানোর সুযোগ নেই।
নাহিদ ইসলামকে ঘিরে বিতর্ক নতুন মোড় নিচ্ছে, যা ভবিষ্যতের রাজনীতিতে আরও প্রভাব ফেলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 
















