দেশের পুনঃসংযোজিত গাড়ি আমদানিকারক ও বিক্রেতারা অভিযোগ করেছেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ‘হয়রানি’ ও অপ্রয়োজনীয় জটিলতায় ভ্যাট আদায় প্রক্রিয়া ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। বিদ্যমান কর আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে এই আচরণ ব্যবসাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে দাবি তাদের।
রাজধানীর বিজয়নগরে সংগঠনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা) নেতারা বলেন, ক্রমবর্ধমান ভ্যাটসংক্রান্ত চাপ ও হয়রানির কারণে অনেক সদস্য ব্যবসা বন্ধের কথা ভাবছেন।
ভ্যাট আইন উপেক্ষার অভিযোগ
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ খান বলেন, দেশে ভ্যাট আইনের স্পষ্ট বিধান থাকা সত্ত্বেও তা কার্যত উপেক্ষা করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের এমনভাবে দেখা হচ্ছে যেন তারা বৈধ ব্যবসা নয়, অন্য কিছু করতে এসেছে। তিনি জানান, ব্যবসায়ীরা সবসময় এনবিআরের সঙ্গে সহযোগিতায় আগ্রহী, কিন্তু মাঠপর্যায়ের এই আচরণ অগ্রহণযোগ্য।
তিনি দ্রুত স্বচ্ছ ও ন্যায্য নীতিমালা প্রণয়নের জন্য এনবিআরের চেয়ারম্যান ও অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। তা না হলে অটোখাতে বড় ধরনের মন্দা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
অস্বাভাবিক জরিমানা ও হতাশা
বারভিডার এক নেতা বলেন, চট্টগ্রামে অনেক সাধারণ ব্যবসায়ীর ওপর ভ্যাট লঙ্ঘনের অভিযোগে ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। এ ধরনের পরিস্থিতিতে অনেক ব্যবসায়ী চরম হতাশায় পড়ছেন এবং কেউ কেউ দেশ ছাড়ার কথাও ভাবছেন।
আসন্ন বাজেট ঘিরে দাবি
আসন্ন জাতীয় বাজেট সামনে রেখে বারভিডা সভাপতি আবদুল হক একগুচ্ছ দাবি তুলে ধরেন। তিনি জ্বালানি সাশ্রয়ী হাইব্রিড ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ওপর শুল্ক কমানো, গণপরিবহনে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার এবং জাপান থেকে আমদানি করা পুনঃসংযোজিত বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর কর কমানোর প্রস্তাব দেন।
তিনি বলেন, বৈদ্যুতিক গাড়ি খাতে সরকারের প্রণোদনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর ছাড় দেওয়া হলে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়বে। এতে জ্বালানি খরচ কমবে, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ হ্রাস পাবে এবং মধ্যবিত্তের নাগালে গাড়ির দাম আসবে। পাশাপাশি বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে সরকারের রাজস্বও বাড়তে পারে।
অর্থনীতিতে প্রভাবের আশঙ্কা
বারভিডা নেতাদের মতে, মোটরযান খাতে যুক্তিসঙ্গত শুল্ক কাঠামো নিশ্চিত করা গেলে বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দারিদ্র্য হ্রাসে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের সময়ে এই খাতকে সহায়তা করা জরুরি বলেও তারা মত দেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















