চট্টগ্রামে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রসহ কুখ্যাত সাজ্জাদ বাহিনীর তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে একটি এসএমজি, একটি পিস্তল ও একটি রিভলভার উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এই অস্ত্র ব্যবহার করেই কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে নগরের এক শিল্পপতির বাড়িতে গুলিবর্ষণ করা হয়েছিল।
মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ওরফে ইমন, মোহাম্মদ মনির এবং মোহাম্মদ সায়েম।
ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরতে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগর পুলিশের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী।

শিল্পপতির বাসায় গুলিবর্ষণের ঘটনা
পুলিশ জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নগরের চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর বাসায় গুলিবর্ষণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সন্ত্রাসীরা আগে তার কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। টাকা না পেয়ে তারা ওই হামলা চালায়।
গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন, উদ্ধার করা তিনটি অস্ত্র ব্যবহার করেই ওই হামলা চালানো হয়েছিল। ব্যালিস্টিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি আরও নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
লুট হওয়া অস্ত্রের সন্ধান
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা পিস্তল ও রিভলভার ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ডবলমুরিং ও পাহাড়তলী থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র। অন্যদিকে এসএমজিটি খাগড়াছড়ির পাহাড়ি সশস্ত্র গোষ্ঠীর কাছ থেকে কেনা হয়েছিল বলে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন।

অভিযান ও গ্রেপ্তারের বিবরণ
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চকবাজার থানা পুলিশ প্রথমে মো. আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ওরফে ইমনকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চকবাজার এলাকা থেকে একটি বিদেশি থ্রি-টু বোর রিভলভার এবং ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এই রিভলভারটি পাহাড়তলী থানা থেকে লুট করা হয়েছিল।
পরে কাইয়ুমের তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ব্রাজিলিয়ান টরাস নাইন এমএম পিস্তল ও একটি মোটরসাইকেলসহ মোহাম্মদ মনিরকে গ্রেপ্তার করে। উদ্ধার হওয়া পিস্তলটি ডবলমুরিং থানা থেকে লুট করা হয়েছিল।
এরপর মনিরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা থেকে তার সহযোগী মোহাম্মদ সায়েমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সায়েমের দেখানো মতে খুলশী থানা এলাকা থেকে একটি এসএমজি, দুটি ম্যাগাজিন এবং ৫০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে পুলিশ।

সাজ্জাদ বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ততা
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিনজনই বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তারা সাজ্জাদের নির্দেশে খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি এবং বালুমহাল নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন অপরাধে সশস্ত্রভাবে অংশ নিত।
গ্রেপ্তার আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর কাছ থেকে সাজ্জাদ বাহিনীর নতুন সদস্যদের শপথ গ্রহণের একটি ভিডিও ক্লিপও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুরোনো মামলার তথ্য
পুলিশ জানায়, আব্দুল কাইয়ুম ২০০০ সালে বহদ্দারহাটে সংঘটিত আলোচিত আট হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। অন্যদিকে মনির ও সায়েমের বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনে ১০টি করে মামলা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১ মার্চ সকালে ওই শিল্পপতির বাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















