০৪:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
কক্সবাজারের পাঁচতারা হোটেল থেকে সুপ্রা, সিভিক ও মিয়াটা জব্দ, আমদানির পথ খতিয়ে দেখছে শুল্ক গোয়েন্দা কারাগারে ইমরান খানকে হত্যা করা হচ্ছে—বাবার জীবন নিয়ে চরম শঙ্কায় দুই ছেলে ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল, ইউক্রেনে বড় পদক্ষেপের সুযোগ দেখছে পুতিন: গোয়েন্দা রিপোর্ট বেসরকারি শিক্ষকদের অধিকার ও সুশাসনে নতুন উদ্যোগ, গঠিত হলো শিক্ষক অ্যালায়েন্স ভারতে প্যাকেটজাত খাবারে লাল সতর্কতা লেবেল, জনরোষের পর অবস্থান বদল সরকারের জলাশয়ের নাম বদলে ট্রাম্পের উদ্যোগে ধাক্কা, মার্কিনদের আগ্রহ নেই: সিএনএনের তথ্য বিশ্লেষক পেনসিলভানিয়ায় ভয়াবহ হাম ছড়িয়ে পড়ছে, ঝুঁকিতে টিকাদান-অযোগ্য শিশুরা নেপালে বন্যার দ্বিতীয় ঢেউয়ের শঙ্কা:আগাম সতর্কতার সীমাবদ্ধতা ইরান ছয় মাস পরও অটুট, যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র জিন কেটে চিরতরে উচ্চ কোলেস্টেরল দূর করার আশায় বিজ্ঞানীরা

তেল ছাড়লেও থামবে না সংকট! ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন আশঙ্কা

ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলো জরুরি ভিত্তিতে বিপুল পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়ার কথা ভাবছে। তবে জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ সাময়িক স্বস্তি দিলেও প্রকৃত সংকট সমাধান করবে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের দৈনিক তেলের চাহিদা এত বেশি যে কয়েক কোটি ব্যারেল তেল একবারে বাজারে ছাড়লেও তার প্রভাব খুবই সীমিত থাকবে। কারণ বর্তমানে বৈশ্বিক তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি যুদ্ধের কারণে কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

হরমুজ প্রণালির কারণে বড় সংকট

বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবহন হয়। কিন্তু যুদ্ধের কারণে ট্যাঙ্কার চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে চলেছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি আবার চালু না হওয়া পর্যন্ত বাজারে তেলের দামের ওপর চাপ কমবে না। জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়লেও সেটি সাময়িক বিরতি তৈরি করবে, কিন্তু দাম আবারও বাড়তে পারে।

বিশ্বে দৈনিক তেলের বিপুল চাহিদা

বর্তমানে বিশ্বে প্রতিদিন প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেল ব্যবহার হয়। এই বিশাল চাহিদার তুলনায় জরুরি মজুত থেকে কয়েক কোটি ব্যারেল তেল ছাড়া হলে সেটি মোট চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমন্বিতভাবে তেল ছাড়লেও বৈশ্বিক বাজারে দামের ওপর তার প্রভাব সীমিতই থাকবে। কারণ সরবরাহ সংকট যদি দীর্ঘ সময় ধরে থাকে, তাহলে একবারের জন্য ছাড়া তেল দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়।

বড় অর্থনীতিগুলোর সম্ভাব্য পদক্ষেপ

বিশ্বের সাতটি বড় অর্থনীতির জোট ইতোমধ্যে জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে তারা তাদের মজুত থেকে তেল ছাড়ার মতো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তবে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট তেলের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৯ ডলারে পৌঁছেছে, যা কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি।

আগেও নেওয়া হয়েছিল একই পদক্ষেপ

২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর তেলের দাম বেড়ে গেলে বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলো সমন্বিতভাবে তাদের মজুত থেকে প্রায় ২৪ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছেড়েছিল।

এর ফলে পেট্রলের দাম কিছুটা কমলেও বিশ্লেষকদের মতে, সেই প্রভাব ছিল সীমিত। গবেষণায় দেখা যায়, এতে প্রতি গ্যালনে মাত্র ১৭ থেকে ৪২ সেন্ট পর্যন্ত দাম কমেছিল।

ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন উদ্বেগ

বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারণ একবার এই মজুত ব্যবহার করলে পরে সেটি দ্রুত পুনরায় পূরণ করা সহজ নয়।

ফলে সংকট দীর্ঘ হলে ভবিষ্যতে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সুযোগও সীমিত হয়ে যেতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারের পাঁচতারা হোটেল থেকে সুপ্রা, সিভিক ও মিয়াটা জব্দ, আমদানির পথ খতিয়ে দেখছে শুল্ক গোয়েন্দা

তেল ছাড়লেও থামবে না সংকট! ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন আশঙ্কা

০৪:০১:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলো জরুরি ভিত্তিতে বিপুল পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়ার কথা ভাবছে। তবে জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ সাময়িক স্বস্তি দিলেও প্রকৃত সংকট সমাধান করবে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের দৈনিক তেলের চাহিদা এত বেশি যে কয়েক কোটি ব্যারেল তেল একবারে বাজারে ছাড়লেও তার প্রভাব খুবই সীমিত থাকবে। কারণ বর্তমানে বৈশ্বিক তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি যুদ্ধের কারণে কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

হরমুজ প্রণালির কারণে বড় সংকট

বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবহন হয়। কিন্তু যুদ্ধের কারণে ট্যাঙ্কার চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে চলেছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি আবার চালু না হওয়া পর্যন্ত বাজারে তেলের দামের ওপর চাপ কমবে না। জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়লেও সেটি সাময়িক বিরতি তৈরি করবে, কিন্তু দাম আবারও বাড়তে পারে।

বিশ্বে দৈনিক তেলের বিপুল চাহিদা

বর্তমানে বিশ্বে প্রতিদিন প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেল ব্যবহার হয়। এই বিশাল চাহিদার তুলনায় জরুরি মজুত থেকে কয়েক কোটি ব্যারেল তেল ছাড়া হলে সেটি মোট চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমন্বিতভাবে তেল ছাড়লেও বৈশ্বিক বাজারে দামের ওপর তার প্রভাব সীমিতই থাকবে। কারণ সরবরাহ সংকট যদি দীর্ঘ সময় ধরে থাকে, তাহলে একবারের জন্য ছাড়া তেল দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়।

বড় অর্থনীতিগুলোর সম্ভাব্য পদক্ষেপ

বিশ্বের সাতটি বড় অর্থনীতির জোট ইতোমধ্যে জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে তারা তাদের মজুত থেকে তেল ছাড়ার মতো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তবে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট তেলের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৯ ডলারে পৌঁছেছে, যা কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি।

আগেও নেওয়া হয়েছিল একই পদক্ষেপ

২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর তেলের দাম বেড়ে গেলে বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলো সমন্বিতভাবে তাদের মজুত থেকে প্রায় ২৪ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছেড়েছিল।

এর ফলে পেট্রলের দাম কিছুটা কমলেও বিশ্লেষকদের মতে, সেই প্রভাব ছিল সীমিত। গবেষণায় দেখা যায়, এতে প্রতি গ্যালনে মাত্র ১৭ থেকে ৪২ সেন্ট পর্যন্ত দাম কমেছিল।

ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন উদ্বেগ

বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারণ একবার এই মজুত ব্যবহার করলে পরে সেটি দ্রুত পুনরায় পূরণ করা সহজ নয়।

ফলে সংকট দীর্ঘ হলে ভবিষ্যতে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সুযোগও সীমিত হয়ে যেতে পারে।