হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের একাধিক নৌযান ও মাইন পেতে রাখা জাহাজ ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে ইসরায়েল ইরান ও লেবাননে নতুন হামলা চালিয়েছে। এদিকে তেহরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় প্রায় ১০ হাজার বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানি নৌযান ধ্বংসের দাবি
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর আশপাশে ইরানের বেশ কয়েকটি নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি মাইন পেতে রাখা জাহাজও ছিল। মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, এসব জাহাজ সমুদ্রপথে মাইন বসানোর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল, যা আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারত।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইসরায়েলের নতুন হামলা ইরান ও লেবাননে
এদিকে ইসরায়েল নতুন করে ইরান ও লেবাননে হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে লেবাননের দক্ষিণ বৈরুতে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইসরায়েলি বাহিনী বলছে, হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ তেহরানের
ইরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় প্রায় ১০ হাজার বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু শুধু সামরিক অবকাঠামো নয়, বরং সাধারণ মানুষের বসবাস ও নাগরিক স্থাপনাও ছিল।
ইরানি কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক মহলের কাছে এই হামলার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রতিরক্ষা সাফল্যের দাবি

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, গত ১১ দিনে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ২৭০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে প্রায় ৯২ শতাংশ প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। একই সময়ে ছোড়া ১,৪৭৫টি ড্রোনের মধ্যে প্রায় ৯৪ শতাংশ ভূপাতিত করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সম্ভাব্য বড় ক্ষয়ক্ষতি ঠেকাতে সক্ষম হয়েছে।
হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত দুই কর্মকর্তার সামরিক মর্যাদায় দাফন
এরই মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক সামরিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত দুই কর্মকর্তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করেছে। তাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে, আর সামরিক অভিযান ও পাল্টা হামলার এই ধারাবাহিকতা অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















