রমজান মাসের শুরুতে জেরুজালেমের আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি পুলিশ ব্যাপক মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, পবিত্র প্রাঙ্গণে মুসল্লিদের প্রার্থনা ও প্রস্তুতি কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। প্রতিবারের মতো এ বছরও শত সহস্র ফিলিস্তিনি মুসল্লি রমজানের মাসজুড় নামাজে অংশ নেবেন, কিন্তু পশ্চিম তীর থেকে প্রবেশের জন্য বিশেষ অনুমতিপত্র ছাড়া তাদের প্রবেশ সীমিত রাখা হয়েছে।

জেরুজালেম পুলিশ বিভাগের সিনিয়র কর্মকর্তা আরাদ ব্রাভারম্যান জানিয়েছেন, পুরো প্রাঙ্গণ ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় ‘ডে অ্যান্ড নাইট’ নামক পর্যায়ে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। বিশেষ করে শুক্রবারের নামাজের সময়, যখন মুসল্লিদের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি থাকে, তখন হাজার হাজার পুলিশ দায়িত্বে থাকবেন। এছাড়া, পশ্চিম তীর থেকে আসা ফিলিস্তিনিদের জন্য বরাদ্দ অনুমতির সংখ্যা সীমিত করা হবে এবং বয়সভিত্তিক প্রবেশ সীমা পুনঃপ্রযোজ্য হতে পারে। পুরুষদের জন্য ৫৫ বছরের বেশি এবং মহিলাদের জন্য ৫০ বছরের বেশি বয়সের লোকদের জন্য অনুমতি দেওয়ার পূর্বের বছরের নিয়ম এবারও প্রযোজ্য হতে পারে।
রমজানের প্রস্তুতি কার্যক্রমেও নানা সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। ইসলামিক ওয়াক্ফ, যা জর্ডান সরকারের অধীনে মসজিদ পরিচালনা করে, তাদের ছায়া ছাউনির ইনস্টলেশন, অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন এবং অন্যান্য প্রস্তুতি কার্যক্রমের ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হয়েছে। প্রাঙ্গণে কাজ করা ওয়াক্ফ কর্মীদের মধ্যে ৩৩ জনকে প্রবেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আল আকসা মসজিদ শুধু ইসলামের তৃতীয় পবিত্র স্থান হিসেবেই নয়, ফিলিস্তিনিদের জাতীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক হিসেবেও পরিচিত। এই প্রাঙ্গণ প্রায়শই রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকে। রমজানের বিশেষ সময়ের আগে প্রবেশ সীমাবদ্ধতা, পুলিশ মোতায়েন এবং ওয়াক্ফের কাজ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের মধ্যে উদ্বেগ ও উত্তেজনা ছড়াচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে অঞ্চলের শান্তি ও সামাজিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে। এদিকে মুসল্লিরা তাদের প্রার্থনা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার অধিকার রক্ষা করতে চান, যা প্রতি বছরের মতো এবারও উত্তেজনার সূত্রপাত হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















