মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে সন্দেহভাজন ইরানি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় দূতাবাসের ভেতরে থাকা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার একটি স্টেশনে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ সাম্প্রতিক দিনগুলোতে অঞ্চলজুড়ে হামলা-পাল্টা হামলার মাত্রা দ্রুত বাড়ছে।
দূতাবাসে ড্রোন আঘাত, সিআইএ স্টেশনে ক্ষতি
ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, সন্দেহভাজন একটি ইরানি ড্রোন সৌদি আরবে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস চত্বরে আঘাত হানে। সেই আঘাতে সেখানে থাকা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার একটি স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তবে প্রাথমিকভাবে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি যে ওই স্টেশনই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ড্রোনটি দূতাবাস এলাকায় আঘাত হানলেও নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু নিয়ে হামলা করা হয়েছিল কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ভবনে কাঠামোগত ক্ষতি
হামলার পর প্রকাশিত সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, ড্রোনের আঘাতে ভবনের কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। দূতাবাস এলাকায় দুটি ড্রোন আঘাত হানে বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
এই হামলার ফলে দূতাবাস এলাকায় সামান্য আগুন লাগে এবং কিছু ভৌত ক্ষতি হয়। যদিও বড় ধরনের হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
মার্কিন নাগরিকদের সতর্কবার্তা
ঘটনার পরপরই সৌদি আরবে থাকা মার্কিন মিশন নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে। সেখানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের আপাতত দূতাবাস এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকির কারণে দূতাবাসে নিয়মিত ও জরুরি কনস্যুলার সেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
নতুন হামলার আশঙ্কা
আরেকটি সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ধাহরান অঞ্চলের আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার তাৎক্ষণিক ঝুঁকি রয়েছে। তাই সেখানে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটেও আপাতত না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ইরানবিরোধী বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মাত্রা দ্রুত বেড়ে গেছে। সেই প্রেক্ষাপটেই সৌদি আরবে এই ড্রোন হামলার ঘটনাকে নতুন করে উত্তেজনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















