ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার কঠোর জবাব দেবে বলে সতর্ক করেছেন চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবদোলরেজা রহমানি ফাজলি। তিনি বলেছেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডেও হামলা চালানোর চেষ্টা করা হতে পারে।
বুধবার বেইজিংয়ে ফিনিক্স টিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সংঘাতের পঞ্চম দিনে উত্তেজনা
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর শোক জানিয়ে চীনে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসে পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। ঠিক সেই সময় সংঘাতের পঞ্চম দিনে পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন রাষ্ট্রদূত ফাজলি।
তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এমন সময়ে ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অগ্রগতি হচ্ছিল। তার মতে, এটি ছিল শক্তির রাজনীতি এবং প্রকাশ্য দাদাগিরির উদাহরণ।

বিশ্বজুড়ে প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি
ফাজলি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাব দিতে ইরান দৃঢ়ভাবে প্রস্তুত। তিনি দাবি করেন, বিশ্বজুড়ে যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থ রয়েছে, সেখানে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সুযোগ পেলে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডেও প্রতিক্রিয়া জানাতে ইরান পিছপা হবে না।
ক্রমাগত বিমান হামলা
গত কয়েক দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ভেতরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা, বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী এবং নেতৃত্ব কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি ইরানে মার্কিন স্থলবাহিনী পাঠানোর সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করেননি।

সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের ভেতরে আরও গভীরে সেনা মোতায়েন করেছে এবং সেখানে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। এতে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হয়ে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘ যুদ্ধ নিয়ে সতর্কতা
দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ফাজলি বলেন, ইরান এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে যেতে চায়। তবে তিনি সতর্ক করে দেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সেনা ইরানের মাটিতে প্রবেশ করে, তাহলে তারা অবশ্যই কঠোর আঘাতের মুখে পড়বে।
মার্কিন যুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরলেন রাষ্ট্রদূত
সাক্ষাৎকারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অতীত যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন।
ফাজলির প্রশ্ন, যুক্তরাষ্ট্র আর কতবার একই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা না নিয়ে ভুল করবে? ভিয়েতনামে স্থলবাহিনী পাঠিয়ে কি তারা সফল হয়েছিল? আফগানিস্তানে কি তারা জিতেছিল? ইরাকে কি তারা স্থায়ী সাফল্য পেয়েছে?
তার মতে, এসব যুদ্ধের কোথাও যুক্তরাষ্ট্র চূড়ান্ত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।
নতুন সর্বোচ্চ নেতা নিয়ে জল্পনা
এদিকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
বিশেষ করে প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে—এমন খবরও ছড়িয়েছে।
তবে এ বিষয়ে সরাসরি নিশ্চিত করতে চাননি রাষ্ট্রদূত ফাজলি। তিনি বলেন, মোজতবা খামেনির পটভূমি অত্যন্ত শক্তিশালী। তিনি একজন বিপ্লবী এবং ধর্মীয় জ্ঞানে পারদর্শী। পাশাপাশি তাকে জ্ঞানী ও সাহসী ব্যক্তি হিসেবেও বর্ণনা করেন তিনি।
তবে ফাজলি স্পষ্ট করে জানান, ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ এখনও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















