০৩:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
জুনের মধ্যে সব ব্যাংককে ‘বাংলা QR’ অ্যাপ চালু করতে হবে: বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর সপ্তাহে এক দিন অনলাইনে স্কুল, রাত ৮টায় দোকানপাট বন্ধের পরিকল্পনা করছে সরকার লিবিয়া থেকে ১৭৫ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন, আটকে থাকা আরও অনেকের মুক্তির অপেক্ষা আশুলিয়ায় দুটি গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ, ৪,০০০ শ্রমিক কর্মহীন ইরান যুদ্ধে আমিরাতের হিসাব: ১২ নিহত, ১৯০ আহত, আটকানো হয়েছে ২ হাজারেরও বেশি ড্রোন পোপ ইরান যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানালেন, ট্রাম্পকে সরাসরি বার্তা সংবিধান সংস্কার কাউন্সিল নিয়ে সংসদে তীব্র বিতর্ক: বিএনপি বলছে সংবিধানে নেই, জামায়াত বলছে জনরায় মানতে হবে ইসরায়েলের পারমাণবিক স্থাপনার কাছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ১৮০ জনের বেশি আহত ইরান যুদ্ধের আঁচে বিশ্বজুড়ে সার ও জ্বালানির দাম লাফিয়ে বাড়ছে, বাংলাদেশও ঝুঁকিতে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বেসরকারি বিনিয়োগ: ওপেনএআইয়ের মূল্যায়ন দাঁড়াল ৮৫২ বিলিয়ন ডলারে

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে নতুন বিতর্ক: লাভের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কা বেশি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্যচুক্তি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত পাল্টা শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করার পর চুক্তিটির কার্যকারিতা, ভবিষ্যৎ এবং বাংলাদেশের প্রকৃত লাভ-ক্ষতি নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

চুক্তির ভিত্তি নড়বড়ে
বিশ্লেষকদের মতে, যে প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এই চুক্তিতে সম্মত হয়েছিল, আদালতের রায়ের পর সেই ভিত্তিই দুর্বল হয়ে গেছে। ফলে চুক্তি বহাল থাকলেও বাস্তবে কতটা সুবিধা পাওয়া যাবে, তা নতুন করে মূল্যায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।

অসম চুক্তির অভিযোগ
অর্থনীতিবিদ, গবেষক এবং বামপন্থি রাজনৈতিক নেতাদের একাংশ চুক্তিটিকে অসম ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, এই চুক্তির কারণে ভবিষ্যতে চীন ও রাশিয়ার মতো দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে জটিলতা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি ইপিজেডে শ্রমিক ইউনিয়ন গঠনের শর্ত বিদেশি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে পারে।

মার্কিন-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তি, দেশীয় অর্থনীতিতে ঝুঁকির আশঙ্কা -  parbattanews

কার্যকর হতে বাকি প্রক্রিয়া
চুক্তিটি এখনো কার্যকর হয়নি। এটি বাস্তবায়নের জন্য দুই দেশের সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন। পাশাপাশি বাংলাদেশকে কিছু আইন সংশোধনও করতে হবে।

লাভের চেয়ে ঝুঁকি বেশি?
ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের মতে, চুক্তি থেকে বড় ধরনের রফতানি বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। বরং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়ম লঙ্ঘনের ঝুঁকি থাকায় অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কেও সমস্যা তৈরি হতে পারে।

পাল্টা শুল্ক নিয়ে শুরু বিতর্ক
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক বাণিজ্যে ভারসাম্য আনার যুক্তিতে বিভিন্ন দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে। এতে বাংলাদেশের রফতানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত, বড় চাপে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে শুল্ক কমাতে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

তবে পরে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে এই শুল্কনীতির বৈধতা নিয়ে মামলা হয় এবং শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট তা অবৈধ ঘোষণা করে। ফলে এই শুল্ককে কেন্দ্র করে হওয়া চুক্তির ভিত্তিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

ট্রাম্পের শুল্ক নীতি অস্থায়ীভাবে বহাল রাখার আদেশ ফেডারেল আদালতের |  আন্তর্জাতিক | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

স্বাক্ষরের সময় নিয়ে সমালোচনা
চুক্তিটি অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগে, জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে স্বাক্ষরিত হওয়ায় সমালোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, এত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি নির্বাচিত সরকারের জন্য রেখে দেওয়া উচিত ছিল।

নতুন সুযোগ না নতুন চাপ
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে কিছু চাপ কমলেও চুক্তিতে থাকা জ্বালানি, কৃষি ও প্রতিরক্ষা আমদানির প্রতিশ্রুতি বড় প্রশ্ন হয়ে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন সরকারের উচিত পুরো চুক্তি পুনর্বিবেচনা করা এবং প্রয়োজন হলে সংশোধন বা নতুন করে আলোচনা করা।

শুল্ক সুবিধার বৈষম্য
চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের ৬ হাজার ৭১০টি পণ্যে শুল্ক ছাড় দিতে হবে, আর যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ১ হাজার ৬৩৮টি পণ্যে সুবিধা দেবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, বাংলাদেশ যেসব পণ্যে ছাড় দিচ্ছে, সেগুলোর আমদানি মূল্য অনেক বেশি, ফলে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের যেসব পণ্যে সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, সেগুলোর রফতানি খুবই সীমিত। ফলে সম্ভাব্য সুবিধা খুবই কম।

বাণিজ্য চুক্তি: যুক্তরাষ্ট্রের ৭,১৩২ পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে, বাংলাদেশ  পাবে ২,৫০০ পণ্যে | The Business Standard

বাস্তব রফতানি খাত উপেক্ষিত
বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য রফতানি পণ্যের মধ্যে টুপি বা হ্যাট খাত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এ ধরনের পণ্যে উল্লেখযোগ্য সুবিধা দেওয়া হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এসব পণ্যে শুল্ক ছাড় দেওয়া হলে দেশের লাভ অনেক বেশি হতে পারত।

বাণিজ্যের বাইরে কৌশলগত শর্ত
চুক্তিতে শুধু শুল্ক নয়, জ্বালানি, কৃষি, প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাতেও প্রতিশ্রুতি যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিপুল পরিমাণ মার্কিন জ্বালানি ও কৃষিপণ্য আমদানির পরিকল্পনা এবং বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়।

এছাড়া কিছু ধারায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনার চাপ এবং নির্দিষ্ট দেশ থেকে প্রতিরক্ষা ক্রয় সীমিত রাখার ইঙ্গিত রয়েছে।

নির্বাচনের তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তি করতে যাচ্ছে  অন্তর্বর্তী সরকার | Barta Bazar

নীতিগত স্বাধীনতা নিয়ে শঙ্কা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই চুক্তি বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণী স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ভবিষ্যতে স্বাধীনভাবে বাণিজ্য বা কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
বামপন্থি দলগুলো চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছে। তারা এটিকে দেশবিরোধী আখ্যা দিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
চুক্তির ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আদালতের রায়ের পর পরিস্থিতি পরিষ্কার নয়। তবে চুক্তিতে প্রবেশ ও প্রস্থান—দুই ধরনের সুযোগ থাকায় প্রয়োজনে বাংলাদেশ চুক্তি থেকে সরে আসতেও পারবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জুনের মধ্যে সব ব্যাংককে ‘বাংলা QR’ অ্যাপ চালু করতে হবে: বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে নতুন বিতর্ক: লাভের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কা বেশি

১২:২২:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্যচুক্তি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত পাল্টা শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করার পর চুক্তিটির কার্যকারিতা, ভবিষ্যৎ এবং বাংলাদেশের প্রকৃত লাভ-ক্ষতি নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

চুক্তির ভিত্তি নড়বড়ে
বিশ্লেষকদের মতে, যে প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এই চুক্তিতে সম্মত হয়েছিল, আদালতের রায়ের পর সেই ভিত্তিই দুর্বল হয়ে গেছে। ফলে চুক্তি বহাল থাকলেও বাস্তবে কতটা সুবিধা পাওয়া যাবে, তা নতুন করে মূল্যায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।

অসম চুক্তির অভিযোগ
অর্থনীতিবিদ, গবেষক এবং বামপন্থি রাজনৈতিক নেতাদের একাংশ চুক্তিটিকে অসম ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, এই চুক্তির কারণে ভবিষ্যতে চীন ও রাশিয়ার মতো দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে জটিলতা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি ইপিজেডে শ্রমিক ইউনিয়ন গঠনের শর্ত বিদেশি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে পারে।

মার্কিন-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তি, দেশীয় অর্থনীতিতে ঝুঁকির আশঙ্কা -  parbattanews

কার্যকর হতে বাকি প্রক্রিয়া
চুক্তিটি এখনো কার্যকর হয়নি। এটি বাস্তবায়নের জন্য দুই দেশের সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন। পাশাপাশি বাংলাদেশকে কিছু আইন সংশোধনও করতে হবে।

লাভের চেয়ে ঝুঁকি বেশি?
ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের মতে, চুক্তি থেকে বড় ধরনের রফতানি বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। বরং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়ম লঙ্ঘনের ঝুঁকি থাকায় অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কেও সমস্যা তৈরি হতে পারে।

পাল্টা শুল্ক নিয়ে শুরু বিতর্ক
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক বাণিজ্যে ভারসাম্য আনার যুক্তিতে বিভিন্ন দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে। এতে বাংলাদেশের রফতানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত, বড় চাপে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে শুল্ক কমাতে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

তবে পরে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে এই শুল্কনীতির বৈধতা নিয়ে মামলা হয় এবং শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট তা অবৈধ ঘোষণা করে। ফলে এই শুল্ককে কেন্দ্র করে হওয়া চুক্তির ভিত্তিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

ট্রাম্পের শুল্ক নীতি অস্থায়ীভাবে বহাল রাখার আদেশ ফেডারেল আদালতের |  আন্তর্জাতিক | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

স্বাক্ষরের সময় নিয়ে সমালোচনা
চুক্তিটি অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগে, জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে স্বাক্ষরিত হওয়ায় সমালোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, এত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি নির্বাচিত সরকারের জন্য রেখে দেওয়া উচিত ছিল।

নতুন সুযোগ না নতুন চাপ
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে কিছু চাপ কমলেও চুক্তিতে থাকা জ্বালানি, কৃষি ও প্রতিরক্ষা আমদানির প্রতিশ্রুতি বড় প্রশ্ন হয়ে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন সরকারের উচিত পুরো চুক্তি পুনর্বিবেচনা করা এবং প্রয়োজন হলে সংশোধন বা নতুন করে আলোচনা করা।

শুল্ক সুবিধার বৈষম্য
চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের ৬ হাজার ৭১০টি পণ্যে শুল্ক ছাড় দিতে হবে, আর যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ১ হাজার ৬৩৮টি পণ্যে সুবিধা দেবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, বাংলাদেশ যেসব পণ্যে ছাড় দিচ্ছে, সেগুলোর আমদানি মূল্য অনেক বেশি, ফলে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের যেসব পণ্যে সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, সেগুলোর রফতানি খুবই সীমিত। ফলে সম্ভাব্য সুবিধা খুবই কম।

বাণিজ্য চুক্তি: যুক্তরাষ্ট্রের ৭,১৩২ পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে, বাংলাদেশ  পাবে ২,৫০০ পণ্যে | The Business Standard

বাস্তব রফতানি খাত উপেক্ষিত
বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য রফতানি পণ্যের মধ্যে টুপি বা হ্যাট খাত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এ ধরনের পণ্যে উল্লেখযোগ্য সুবিধা দেওয়া হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এসব পণ্যে শুল্ক ছাড় দেওয়া হলে দেশের লাভ অনেক বেশি হতে পারত।

বাণিজ্যের বাইরে কৌশলগত শর্ত
চুক্তিতে শুধু শুল্ক নয়, জ্বালানি, কৃষি, প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাতেও প্রতিশ্রুতি যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিপুল পরিমাণ মার্কিন জ্বালানি ও কৃষিপণ্য আমদানির পরিকল্পনা এবং বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়।

এছাড়া কিছু ধারায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনার চাপ এবং নির্দিষ্ট দেশ থেকে প্রতিরক্ষা ক্রয় সীমিত রাখার ইঙ্গিত রয়েছে।

নির্বাচনের তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তি করতে যাচ্ছে  অন্তর্বর্তী সরকার | Barta Bazar

নীতিগত স্বাধীনতা নিয়ে শঙ্কা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই চুক্তি বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণী স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ভবিষ্যতে স্বাধীনভাবে বাণিজ্য বা কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
বামপন্থি দলগুলো চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছে। তারা এটিকে দেশবিরোধী আখ্যা দিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
চুক্তির ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আদালতের রায়ের পর পরিস্থিতি পরিষ্কার নয়। তবে চুক্তিতে প্রবেশ ও প্রস্থান—দুই ধরনের সুযোগ থাকায় প্রয়োজনে বাংলাদেশ চুক্তি থেকে সরে আসতেও পারবে।