মালয়েশিয়ার বৈচিত্র্যময় অর্থনীতি ইরান যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দুল রশীদ গফুর বলেন, মালয়েশিয়ার রফতানি, শক্তিশালী ঘরোয়া চাহিদা এবং উজ্জ্বল শ্রম বাজার দেশের অর্থনীতিকে বৈশ্বিক ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিচ্ছে।
২০২৬ সালে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনের পর গফুর জানান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি ২০২৬ সালে ৪ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে বৃদ্ধি পাবে, এমনকি যদি সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়। তিনি উল্লেখ করেন, “দেশের বৈচিত্র্যময় রফতানি এবং ঘরোয়া স্থিতিশীলতা বর্তমান বহিরাগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি দৃঢ় ভিত্তি তৈরি করছে।”

মূল্যস্ফীতি ও বিনিয়োগের প্রভাব
প্রধান মূল্যস্ফীতি ১.৫ থেকে ২.৫ শতাংশের মধ্যে থাকার আশা করা হচ্ছে। গত বছর মূল্যস্ফীতি ছিল ১.৪ শতাংশ। ২০২৫ সালে দেশটির অর্থনীতি ৫.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আর্থিক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডেটা সেন্টার সংক্রান্ত বিনিয়োগের কারণে ২০২৬ সালের উৎপাদনও দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।
যুদ্ধের প্রভাব এবং সতর্কতা
গফুর সতর্ক করে বলেন, ইরান যুদ্ধের প্রভাবের মাত্রা নির্ভর করবে সংঘাতের দীর্ঘায়ু ও পরিকাঠামোর ক্ষতির ওপর। তিনি বলেন, “এটি একটি আঞ্চলিক যুদ্ধেও পরিণত হতে পারে, যা প্রভাব আরও বড় করবে।” দেশের অবস্থান নেট এনার্জি রপ্তানিকারক হিসেবে কিছুটা স্থিতিশীলতা প্রদান করবে।

বিনিয়োগ ও পর্যটন খাতের প্রবৃদ্ধি
বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ অনুমোদন ৪২৭ বিলিয়ন রিঙ্গিত পৌঁছেছে, এবং উৎপাদন প্রকল্পের বাস্তবায়ন ৮৫ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে। পর্যটন খাতে রাজস্ব ২০২৫ সালে ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের সার্ভিস অ্যাকাউন্টের ১৪ বছরের ঘাটতি দূর করে উদ্বৃত্তে পরিণত হয়েছে।
গফুর বলেন, “গণনার ভিত্তিতে আমাদের বিভিন্ন পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছে, যাতে সম্ভাব্য অস্থিরতা মোকাবিলা করা যায়।” তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানি মূল্যের ওঠাপড়া দেশের বৃদ্ধির এবং মূল্যস্ফীতি পূর্বাভাসে প্রভাব ফেলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















