জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) এক নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন-ইসরায়েলি ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের মাত্র এক মাসেই আরব বিশ্বের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১২০ থেকে ১৯৪ বিলিয়ন ডলার সংকুচিত হয়েছে। এটি আরব বিশ্বের মোট জিডিপির প্রায় ৩ দশমিক ৭ থেকে ৬ শতাংশের সমান। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এই ক্ষতি আরও বহুগুণ বাড়তে পারে।

হরমুজ বন্ধ: বৈশ্বিক সংকটের ঘণ্টা
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। প্রণালী বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আমেরিকায় গড় পরিবার এ বছর জ্বালানি বাবদ অতিরিক্ত ৭৪০ ডলার খরচ করবে বলে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদরা অনুমান করছেন। সার শিল্পের কাঁচামাল অ্যামোনিয়া ও ইউরিয়ার দাম যথাক্রমে ২০ ও ৫০ শতাংশ বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে বিশ্বের খাদ্য উৎপাদনে।
বাংলাদেশেও অনুভূত হচ্ছে চাপ
বাংলাদেশ তার জ্বালানি তেল ও রান্নার গ্যাসের বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। হরমুজ বন্ধ থাকা এবং উপসাগরীয় বাজারে অস্থিরতার কারণে আমদানি ব্যয় বেড়েছে। এ ছাড়া প্রায় এক কোটি বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীর রেমিট্যান্স প্রবাহও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, কারণ উপসাগরীয় দেশগুলোতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ধীর হয়ে আসছে। সিবিএস নিউজের তথ্যমতে, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে এই যুদ্ধ ইতিমধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















