মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সব বিশুদ্ধ পানি উৎপাদনকারী (ডিস্যালিনেশন) কেন্দ্র ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছেন। সোমবার কুয়েতের একটি পানি পরিশোধন কেন্দ্রে ইরানি হামলার পর ট্রাম্প এই হুমকি দেন। এনপিআরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে বেসামরিক জনগণের পানীয় জলের উৎস ধ্বংস করা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

ইরানে পানি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
ইরান একটি শুষ্ক ও অর্ধশুষ্ক আবহাওয়ার দেশ। দেশটির দক্ষিণাঞ্চল, বিশেষত হরমুজ প্রণালীর আশপাশের এলাকাগুলোতে বৃষ্টিপাত অত্যন্ত কম। এসব অঞ্চলের লাখো মানুষ পানীয় ও দৈনন্দিন ব্যবহারের পানির জন্য সরাসরি ডিস্যালিনেশন প্লান্টের ওপর নির্ভরশীল। কেশম দ্বীপের পানি প্লান্ট ইতিমধ্যে ধ্বংস হয়েছে। এবার দেশব্যাপী পানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হলে বেসামরিক মানুষের জীবন সরাসরি বিপন্ন হবে।
আন্তর্জাতিক আইন কী বলে
জেনেভা কনভেনশনের অতিরিক্ত প্রটোকলে স্পষ্ট বলা আছে যে বেসামরিক জনগণের টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য বস্তু এবং অবকাঠামো আক্রমণ করা নিষিদ্ধ। পানীয় জলের উৎস, খাদ্য উৎপাদনের ব্যবস্থা এবং কৃষি সেচ সুবিধা এই সুরক্ষার আওতায় পড়ে। এনপিআর জানিয়েছে, এই যুদ্ধে ইতিমধ্যে উভয় পক্ষই বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে সরাসরি পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ধ্বংসের হুমকি এই যুদ্ধকে সম্পূর্ণ নতুন এক নৈতিক সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















