০৭:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
নিঃশব্দ যন্ত্রণার ভেতর ফ্যাশনের ঝলক, অ্যাঞ্জেলিনা জোলির নতুন ছবি ‘ক্যুচার’ কেন আলোচনায় অর্থোপেডিক সার্জনদের ৫ অভ্যাস: বয়স বাড়লেও কীভাবে থাকবেন শক্তিশালী ও সচল নতুন বিতর্কে রাবি রাকসু নেতা: জাহানারা ইমামকে কটাক্ষ, পদ স্থগিতের দাবি ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল আফগানিস্তান, কম্পন অনুভূত দিল্লি-কাশ্মীর-পাকিস্তানেও নতুন রহস্যময় পোস্টে মাহফুজ আলমের সতর্কবার্তা: ‘আমি প্রথম বলির পাঁঠা হতে পারি, কিন্তু শেষ নই’ নানা অঞ্চলে রেকর্ড বৃষ্টি, ভূমিকম্পের পর জাপানে দুই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বাড়ল ভূমিধসের শঙ্কা নদীতে সাত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর লাশ ভাসার গুজব, তথ্য ভিত্তিহীন বলছে পুলিশ পাগলা মসজিদের দানবাক্সে রেকর্ড: ১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা গণনা, ছাড়িয়ে গেল আগের সব হিসাব ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা আবারও তীব্র, ড্রোন হামলার অভিযোগে উদ্বেগে উপসাগরীয় অঞ্চল নড়াইলে ঐচ্ছিক অনুদান বিতর্ক: তালিকায় দুইবার এমপি বাচ্চুর মেয়ের নাম, ব্যাখ্যায় পিএসকে দায়ী করলেন সংসদ সদস্য

পাঁচ দিনের তেলের মজুত, ইআরএল বন্ধের শঙ্কা—কবে পৌঁছাবে অপরিশোধিত জ্বালানি?

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত দেশের একমাত্র সরকারি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে দেখা দিয়েছে গুরুতর অপরিশোধিত তেলের সংকট। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে এক মাস ধরে নতুন কোনো চালান না আসায় এখন হাতে থাকা মজুত দিয়ে মাত্র পাঁচ দিন কার্যক্রম চালানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সংকটে পরিশোধন কার্যক্রম

পরিশোধনাগার সূত্রে জানা গেছে, মার্চের শেষ দিন পর্যন্ত তাদের কাছে প্রায় ২৩ হাজার মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেলের মজুত ছিল। দৈনিক প্রায় ৩ হাজার ৮০০ টন তেল পরিশোধন করা হচ্ছে বর্তমানে, যা দিয়ে এক সপ্তাহ চলার মতো সক্ষমতা ছিল। তবে ইতোমধ্যে দুই দিন কেটে যাওয়ায় বাস্তবে হাতে আছে মাত্র পাঁচ দিনের জ্বালানি। নতুন চালান না এলে কার্যক্রম বন্ধ করা ছাড়া বিকল্প থাকবে না।

কমে গেছে ক্রুড মজুদ, বন্ধ হচ্ছে ইআরএল

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের অপরিশোধিত তেল পরিবহন হয়ে থাকে। পথটি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশসহ আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে সরাসরি প্রভাব পড়েছে।

যদিও নির্দিষ্ট কিছু দেশের জন্য সীমিতভাবে নৌপথ খোলা রাখার ঘোষণা এসেছে, তবুও সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন কাটেনি। ফলে মার্চজুড়ে নির্ধারিত দুটি বড় চালান দেশে পৌঁছাতে পারেনি।

বিলম্বিত জাহাজ ও অনিশ্চয়তা

পরিকল্পনা অনুযায়ী সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে দুই লাখ মেট্রিক টন তেল আসার কথা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তা বিলম্বিত হয়েছে। একটি জাহাজ ইতোমধ্যে বন্দরে আটকা পড়ে আছে, আরেকটির শিডিউল বাতিল হয়েছে। নতুন করে এপ্রিলের শেষ দিকে তেল বোঝাই জাহাজ ছাড়ার কথা থাকলেও সেটি দেশে পৌঁছাতে মে মাসের শুরু পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়েছে বাংলাদেশি জাহাজ, কূটনৈতিক সহায়তা চেয়েছে  বিএসসি | জাতীয় | বাংলা এডিশন

বিকল্প উৎসের খোঁজে কর্তৃপক্ষ

সংকট মোকাবিলায় বিকল্প দেশ থেকে তেল আমদানির চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মালয়েশিয়া ও নাইজেরিয়াসহ কয়েকটি দেশ থেকে নমুনা তেল এনে পরীক্ষা করা হচ্ছে। সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

জ্বালানি চাহিদা ও নির্ভরতা

বাংলাদেশে বছরে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে, যার অধিকাংশই আমদানিনির্ভর। স্থানীয়ভাবে সীমিত পরিমাণ উৎপাদন হলেও পরিশোধনের জন্য অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি। এই পরিশোধনাগার থেকেই ডিজেল, পেট্রোল, ফার্নেস অয়েলসহ বিভিন্ন জ্বালানি উৎপাদন হয়ে দেশের বাজারে সরবরাহ করা হয়।

সামনে কী অপেক্ষা করছে

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে নতুন তেল আসবে কি না। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরবরাহ নিশ্চিত না হয়, তবে দেশের জ্বালানি খাতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিঃশব্দ যন্ত্রণার ভেতর ফ্যাশনের ঝলক, অ্যাঞ্জেলিনা জোলির নতুন ছবি ‘ক্যুচার’ কেন আলোচনায়

পাঁচ দিনের তেলের মজুত, ইআরএল বন্ধের শঙ্কা—কবে পৌঁছাবে অপরিশোধিত জ্বালানি?

১১:০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত দেশের একমাত্র সরকারি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে দেখা দিয়েছে গুরুতর অপরিশোধিত তেলের সংকট। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে এক মাস ধরে নতুন কোনো চালান না আসায় এখন হাতে থাকা মজুত দিয়ে মাত্র পাঁচ দিন কার্যক্রম চালানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সংকটে পরিশোধন কার্যক্রম

পরিশোধনাগার সূত্রে জানা গেছে, মার্চের শেষ দিন পর্যন্ত তাদের কাছে প্রায় ২৩ হাজার মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেলের মজুত ছিল। দৈনিক প্রায় ৩ হাজার ৮০০ টন তেল পরিশোধন করা হচ্ছে বর্তমানে, যা দিয়ে এক সপ্তাহ চলার মতো সক্ষমতা ছিল। তবে ইতোমধ্যে দুই দিন কেটে যাওয়ায় বাস্তবে হাতে আছে মাত্র পাঁচ দিনের জ্বালানি। নতুন চালান না এলে কার্যক্রম বন্ধ করা ছাড়া বিকল্প থাকবে না।

কমে গেছে ক্রুড মজুদ, বন্ধ হচ্ছে ইআরএল

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের অপরিশোধিত তেল পরিবহন হয়ে থাকে। পথটি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশসহ আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে সরাসরি প্রভাব পড়েছে।

যদিও নির্দিষ্ট কিছু দেশের জন্য সীমিতভাবে নৌপথ খোলা রাখার ঘোষণা এসেছে, তবুও সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন কাটেনি। ফলে মার্চজুড়ে নির্ধারিত দুটি বড় চালান দেশে পৌঁছাতে পারেনি।

বিলম্বিত জাহাজ ও অনিশ্চয়তা

পরিকল্পনা অনুযায়ী সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে দুই লাখ মেট্রিক টন তেল আসার কথা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তা বিলম্বিত হয়েছে। একটি জাহাজ ইতোমধ্যে বন্দরে আটকা পড়ে আছে, আরেকটির শিডিউল বাতিল হয়েছে। নতুন করে এপ্রিলের শেষ দিকে তেল বোঝাই জাহাজ ছাড়ার কথা থাকলেও সেটি দেশে পৌঁছাতে মে মাসের শুরু পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়েছে বাংলাদেশি জাহাজ, কূটনৈতিক সহায়তা চেয়েছে  বিএসসি | জাতীয় | বাংলা এডিশন

বিকল্প উৎসের খোঁজে কর্তৃপক্ষ

সংকট মোকাবিলায় বিকল্প দেশ থেকে তেল আমদানির চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মালয়েশিয়া ও নাইজেরিয়াসহ কয়েকটি দেশ থেকে নমুনা তেল এনে পরীক্ষা করা হচ্ছে। সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

জ্বালানি চাহিদা ও নির্ভরতা

বাংলাদেশে বছরে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে, যার অধিকাংশই আমদানিনির্ভর। স্থানীয়ভাবে সীমিত পরিমাণ উৎপাদন হলেও পরিশোধনের জন্য অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি। এই পরিশোধনাগার থেকেই ডিজেল, পেট্রোল, ফার্নেস অয়েলসহ বিভিন্ন জ্বালানি উৎপাদন হয়ে দেশের বাজারে সরবরাহ করা হয়।

সামনে কী অপেক্ষা করছে

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে নতুন তেল আসবে কি না। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরবরাহ নিশ্চিত না হয়, তবে দেশের জ্বালানি খাতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।