মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনে হঠাৎ করেই বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে, যা ইতোমধ্যে সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আকস্মিক সিদ্ধান্ত, কারণ অজানা
পেন্টাগনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জর্জ তাৎক্ষণিকভাবে অবসরে যাচ্ছেন। তবে কেন তাকে সরানো হলো, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট কারণ জানানো হয়নি। অথচ তার মেয়াদের এখনও এক বছরেরও বেশি সময় বাকি ছিল। যুদ্ধ পরিস্থিতির মতো স্পর্শকাতর সময়ে এমন সিদ্ধান্ত খুবই বিরল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার প্রেক্ষাপট
এই পরিবর্তন এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে। ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন নৌ ও বিমান বাহিনী সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও সেখানে পাঠানো হচ্ছে, বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অভিজাত ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের হাজারো সেনা ইতোমধ্যেই ওই অঞ্চলে পৌঁছাতে শুরু করেছে, যা সম্ভাব্য স্থল অভিযানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিদায়
শুধু জর্জ নন, সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ ও রূপান্তর কমান্ডের প্রধান এবং চ্যাপলিন কর্পসের প্রধানকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, পেন্টাগনের শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের রদবদল চলছে।
নতুন দায়িত্বে কে
জর্জের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন জেনারেল ক্রিস্টোফার লানেভ। তিনি আগে সেনাবাহিনীর উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত।

অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা বাড়ছে
এই সিদ্ধান্তের আগে হেগসেথ ও জর্জের মধ্যে কোনো প্রকাশ্য দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পেন্টাগনে একের পর এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এর আগে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান, নৌবাহিনীর প্রধান এবং বিমান বাহিনীর উপপ্রধানকেও অপসারণ করা হয়েছিল।
জর্জের সামরিক ক্যারিয়ার
জেনারেল র্যান্ডি জর্জ ২০২৩ সালে সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। এর আগে তিনি উপপ্রধান এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ইরাক ও আফগানিস্তানে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।
তার বিদায়ের মাধ্যমে পেন্টাগনে চলমান পরিবর্তনের ধারা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠলো।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















