যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রবীণদের জন্য খাবার সরবরাহকারী অন্যতম পরিচিত সেবামূলক নেটওয়ার্ক এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। স্বেচ্ছাসেবকের ঘাটতি, ব্যয় বৃদ্ধি এবং চাহিদার তুলনায় সীমিত অর্থায়নের কারণে অনেক স্থানীয় কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বা একীভূত হতে বাধ্য হচ্ছে। একই সময়ে সহায়তার অপেক্ষায় থাকা প্রবীণ মানুষের সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে।
বাড়ছে চাহিদা, কমছে সক্ষমতা
সংগঠনটির প্রধান নির্বাহী এলি হল্যান্ডার জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রায় ২৬ লাখ প্রবীণ এই সেবার আওতায় রয়েছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অনেক এলাকায় অপেক্ষার তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। প্রতি তিনটি কর্মসূচির মধ্যে একটি অপেক্ষার তালিকা পরিচালনা করছে, যেখানে গড়ে চার মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কিছু এলাকায় এই তালিকায় কয়েক হাজার মানুষের নাম রয়েছে।
তার মতে, প্রবীণ জনগোষ্ঠীর চাহিদা এবং সেবার ব্যয় যেভাবে বেড়েছে, সেই তুলনায় সরকারি সহায়তা কখনও পর্যাপ্তভাবে বাড়েনি। ফলে স্থানীয় পর্যায়ের অনেক কর্মসূচি টিকে থাকার লড়াই করছে।
স্বেচ্ছাসেবক সংকট বড় বাধা
মহামারির পর থেকে স্বেচ্ছাসেবকদের সংখ্যা আগের অবস্থায় ফিরতে পারেনি। কেন এই সংকট তৈরি হয়েছে, তার নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া কঠিন হলেও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির দাম এবং আর্থিক চাপকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অনেক স্বেচ্ছাসেবক নিজেদের খরচে খাবার পৌঁছে দেন। কিন্তু তাদের যাতায়াত ব্যয়ের জন্য যে ভাতা কাঠামো রয়েছে, তা দীর্ঘদিন ধরে অপরিবর্তিত। ফলে নতুন স্বেচ্ছাসেবক আকর্ষণ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
ক্ষুধার ঝুঁকিতে কোটি প্রবীণ
যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্য সংকট না থাকলেও বহু প্রবীণ নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ প্রবীণ ক্ষুধার ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। মাত্র তিন বছরের মধ্যে এই সংখ্যা কয়েক মিলিয়ন বেড়েছে।
এর পেছনে রয়েছে চলাফেরার সীমাবদ্ধতা, দীর্ঘমেয়াদি নানা শারীরিক সমস্যা এবং নিজের খাবার নিজে প্রস্তুত করতে না পারার মতো বাস্তব চ্যালেঞ্জ। অনেক প্রবীণ খাদ্যব্যাংক বা সহায়তা কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছাতেও সক্ষম হন না।

পরিবার দূরে, সহায়তা আরও জরুরি
অনেক ক্ষেত্রে প্রবীণদের পরিবারের সদস্যরা অন্য শহর বা অঙ্গরাজ্যে বসবাস করেন। ফলে জরুরি কোনো সমস্যা দেখা দিলে খাবার সরবরাহকারী কর্মীরাই প্রথম তা শনাক্ত করেন। অনেক সময় তারাই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানান।
এই কারণে খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজটি শুধু পুষ্টি সরবরাহ নয়, বরং সামাজিক সংযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবেও কাজ করে।
৭ কোটি ডলারের অনুদান কীভাবে কাজে লাগবে
সম্প্রতি সংগঠনটি ৭ কোটি ডলারের একটি বড় অনুদান পেয়েছে। তবে নেতৃত্বের মতে, শুধু অপেক্ষার তালিকা কমাতে পুরো অর্থ ব্যয় করলে তাৎক্ষণিক উপকার মিললেও দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধান হবে না।
তাই একদিকে অপেক্ষমাণ প্রবীণদের সহায়তা বাড়ানো, অন্যদিকে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, গবেষণা এবং নীতিগত সমর্থন জোরদারের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ তৈরি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা
সংগঠনটির মতে, অনেক মানুষ ধরে নেন যে এই ধরনের সেবা সব সময় সহজলভ্য থাকবে। কিন্তু বাস্তবে স্থানীয় কর্মসূচিগুলোর আর্থিক ও জনবল সংকট অব্যাহত থাকলে সব সম্প্রদায়ে একই ধরনের সেবা বজায় রাখা কঠিন হতে পারে।
তবুও প্রবীণদের জন্য এই সহায়তা ব্যবস্থা টিকে থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। কারণ সমাজের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের পাশে থাকার প্রয়োজন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন আরও বেশি।
সংগঠনের অভিজ্ঞতা বলছে, খাবার পৌঁছে দেওয়ার একটি সাধারণ উদ্যোগই অনেক প্রবীণের জন্য জীবনরেখা হয়ে উঠতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















