০৬:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
আজই সই হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি, খুলে দেওয়া হবে হরমুজ প্রণালী: ট্রাম্প ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ২৭৪ রানের লড়াকু সংগ্রহ বাংলাদেশের সংস্কারের প্রশংসা পেলেও বাস্তবায়ন ও রাজস্ব আদায়ে সংশয়, এফবিসিসিআই-এর প্রতিক্রিয়া বাজেটে নাইম হাসানকে মারধর: চট্টগ্রামে দুই পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার, ক্ষমা চাইলেন কমিশনার নিষ্ক্রিয় বিশ্বাস নয়, নৈতিক পুনর্জাগরণই আজকের প্রয়োজন তেজগাঁওয়ে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল, অংশ নিল কয়েকশ নেতাকর্মী চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর, স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগ ভাইরাল সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ঢাকায় মোটরসাইকেল চালককে ইট দিয়ে আঘাতকারী দুজন গ্রেপ্তার ভবানী ভবনে কড়া নিরাপত্তা, আজ আবার সিআইডির মুখোমুখি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শোরগোলের ভ্যাম্পায়ার লেসট্যাট: রকস্টার রূপে ফিরে এসে নতুন ঝড় তুলছে জনপ্রিয় সিরিজ

ত্বকের বয়সের ছাপ কমাতে কতটা কার্যকর ভিটামিনভিত্তিক প্রসাধনী?

ত্বকের বলিরেখা, ঝুলে যাওয়া ত্বক কিংবা বয়সের ছাপ কমানোর দাবি করা প্রসাধনীর বাজার দিন দিন বড় হচ্ছে। এসব পণ্যের মোড়কে রেটিনয়েড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, পেপটাইড কিংবা বিভিন্ন ধরনের অ্যাসিডের নাম দেখা গেলেও অধিকাংশ মানুষের কাছে এগুলোর কার্যকারিতা স্পষ্ট নয়। অনেক ক্ষেত্রেই এসব পণ্যের দাবি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব গবেষণা বা ভোক্তা জরিপের ওপর নির্ভর করে। তবে কিছু উপাদান রয়েছে যেগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী।

কেন বয়সের ছাপ পড়ে?

ত্বকের বয়স বাড়ার পেছনে দুটি প্রধান কারণ কাজ করে। একটি হলো স্বাভাবিক বার্ধক্য, অন্যটি পরিবেশগত ক্ষতি। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি, দূষণ এবং ধূমপানের মতো কারণ ত্বকের কোলাজেন ও ইলাস্টিন তন্তুকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে ত্বকে বলিরেখা তৈরি হয় এবং ত্বক ঢিলে হয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফর্সা ত্বকে বয়সের দৃশ্যমান পরিবর্তনের বড় অংশই সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির কারণে ঘটে। তুলনামূলক গাঢ় ত্বকে মেলানিন কিছুটা প্রাকৃতিক সুরক্ষা দেয়।

রেটিনয়েড: সবচেয়ে বেশি প্রমাণসমর্থিত উপাদান

ত্বকের বয়সের ছাপ কমাতে যেসব উপাদান নিয়ে সবচেয়ে বেশি গবেষণা হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম ট্রেটিনইন। এটি ভিটামিন এ-এর একটি রূপ। শুরুতে ব্রণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হলেও পরে দেখা যায়, এটি বলিরেখা কমাতেও সহায়ক।

গবেষণায় দেখা গেছে, ট্রেটিনইন ত্বকের বাইরের স্তরকে কিছুটা পুরু করে এবং ত্বককে মসৃণ দেখাতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে এটি কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায়, যা ত্বকের গঠন পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখে। এর ফলে সূক্ষ্ম বলিরেখা কমে আসতে পারে।

তবে ট্রেটিনইন অনেক সময় ত্বকে জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। এ কারণে এটি সাধারণত চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করা হয়।

রেটিনল ও অন্যান্য বিকল্প

বাজারে সহজলভ্য অনেক ক্রিম ও সিরামে রেটিনল বা রেটিনালের মতো উপাদান ব্যবহৃত হয়। এগুলো ত্বকের ভেতরে প্রবেশ করার পর ধীরে ধীরে ট্রেটিনইনে রূপান্তরিত হয়।

এসব উপাদান তুলনামূলকভাবে কোমল হলেও শুরুতে কম মাত্রা থেকে ব্যবহার শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে ত্বকের অস্বস্তি বা জ্বালাভাবের ঝুঁকি কমে।

Vitamins, applied properly, can partially reverse the effects of ageing

ভিটামিন সি-এর ভূমিকা

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে ভিটামিন সি দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয়। কোলাজেন তৈরিতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি বলিরেখা এবং ত্বকের অসম রঙের সমস্যা কমাতে সহায়তা করতে পারে।

তবে ভিটামিন সি-এর একটি সীমাবদ্ধতা হলো এর অস্থিতিশীলতা। সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে বা দীর্ঘদিন খোলা অবস্থায় থাকলে এর কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। ফলে দামি পণ্য হলেও প্রত্যাশিত ফল নাও মিলতে পারে।

পেপটাইড নিয়ে কী বলছে বিজ্ঞান?

পেপটাইড হলো অ্যামিনো অ্যাসিডের ছোট শৃঙ্খল। কিছু পেপটাইড কোলাজেনসহ ত্বকের কাঠামোগত প্রোটিন তৈরিতে সহায়তা করে। আবার কিছু পেপটাইড এসব প্রোটিনের ক্ষয় কমাতে পারে। এমনকি কিছু উপাদান মুখের পেশিকে সাময়িকভাবে শিথিল করতেও ভূমিকা রাখে।

তবে পেপটাইডের বয়সরোধী কার্যকারিতা নিয়ে যে গবেষণাগুলো প্রচার করা হয়, তার বড় অংশই সংশ্লিষ্ট প্রসাধনী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে পরিচালিত। ফলে এ বিষয়ে আরও স্বাধীন গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর উপায়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়সের ছাপ কমানোর উপাদানগুলো কার্যকর হতে পারে, তবে ফল পেতে সময় লাগে। সাধারণত কয়েক মাস নিয়মিত ব্যবহার না করলে প্রকৃত ফলাফল বোঝা কঠিন।

তবে ত্বকের বার্ধক্য রোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় এখনো প্রতিরোধ। নিয়মিত সূর্যরশ্মি থেকে সুরক্ষা নেওয়া, সানস্ক্রিন ব্যবহার করা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ত্বককে দীর্ঘ সময় তরুণ দেখাতে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আজই সই হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি, খুলে দেওয়া হবে হরমুজ প্রণালী: ট্রাম্প

ত্বকের বয়সের ছাপ কমাতে কতটা কার্যকর ভিটামিনভিত্তিক প্রসাধনী?

০৪:৫৪:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

ত্বকের বলিরেখা, ঝুলে যাওয়া ত্বক কিংবা বয়সের ছাপ কমানোর দাবি করা প্রসাধনীর বাজার দিন দিন বড় হচ্ছে। এসব পণ্যের মোড়কে রেটিনয়েড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, পেপটাইড কিংবা বিভিন্ন ধরনের অ্যাসিডের নাম দেখা গেলেও অধিকাংশ মানুষের কাছে এগুলোর কার্যকারিতা স্পষ্ট নয়। অনেক ক্ষেত্রেই এসব পণ্যের দাবি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব গবেষণা বা ভোক্তা জরিপের ওপর নির্ভর করে। তবে কিছু উপাদান রয়েছে যেগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী।

কেন বয়সের ছাপ পড়ে?

ত্বকের বয়স বাড়ার পেছনে দুটি প্রধান কারণ কাজ করে। একটি হলো স্বাভাবিক বার্ধক্য, অন্যটি পরিবেশগত ক্ষতি। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি, দূষণ এবং ধূমপানের মতো কারণ ত্বকের কোলাজেন ও ইলাস্টিন তন্তুকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে ত্বকে বলিরেখা তৈরি হয় এবং ত্বক ঢিলে হয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফর্সা ত্বকে বয়সের দৃশ্যমান পরিবর্তনের বড় অংশই সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির কারণে ঘটে। তুলনামূলক গাঢ় ত্বকে মেলানিন কিছুটা প্রাকৃতিক সুরক্ষা দেয়।

রেটিনয়েড: সবচেয়ে বেশি প্রমাণসমর্থিত উপাদান

ত্বকের বয়সের ছাপ কমাতে যেসব উপাদান নিয়ে সবচেয়ে বেশি গবেষণা হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম ট্রেটিনইন। এটি ভিটামিন এ-এর একটি রূপ। শুরুতে ব্রণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হলেও পরে দেখা যায়, এটি বলিরেখা কমাতেও সহায়ক।

গবেষণায় দেখা গেছে, ট্রেটিনইন ত্বকের বাইরের স্তরকে কিছুটা পুরু করে এবং ত্বককে মসৃণ দেখাতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে এটি কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায়, যা ত্বকের গঠন পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখে। এর ফলে সূক্ষ্ম বলিরেখা কমে আসতে পারে।

তবে ট্রেটিনইন অনেক সময় ত্বকে জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। এ কারণে এটি সাধারণত চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করা হয়।

রেটিনল ও অন্যান্য বিকল্প

বাজারে সহজলভ্য অনেক ক্রিম ও সিরামে রেটিনল বা রেটিনালের মতো উপাদান ব্যবহৃত হয়। এগুলো ত্বকের ভেতরে প্রবেশ করার পর ধীরে ধীরে ট্রেটিনইনে রূপান্তরিত হয়।

এসব উপাদান তুলনামূলকভাবে কোমল হলেও শুরুতে কম মাত্রা থেকে ব্যবহার শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে ত্বকের অস্বস্তি বা জ্বালাভাবের ঝুঁকি কমে।

Vitamins, applied properly, can partially reverse the effects of ageing

ভিটামিন সি-এর ভূমিকা

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে ভিটামিন সি দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয়। কোলাজেন তৈরিতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি বলিরেখা এবং ত্বকের অসম রঙের সমস্যা কমাতে সহায়তা করতে পারে।

তবে ভিটামিন সি-এর একটি সীমাবদ্ধতা হলো এর অস্থিতিশীলতা। সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে বা দীর্ঘদিন খোলা অবস্থায় থাকলে এর কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। ফলে দামি পণ্য হলেও প্রত্যাশিত ফল নাও মিলতে পারে।

পেপটাইড নিয়ে কী বলছে বিজ্ঞান?

পেপটাইড হলো অ্যামিনো অ্যাসিডের ছোট শৃঙ্খল। কিছু পেপটাইড কোলাজেনসহ ত্বকের কাঠামোগত প্রোটিন তৈরিতে সহায়তা করে। আবার কিছু পেপটাইড এসব প্রোটিনের ক্ষয় কমাতে পারে। এমনকি কিছু উপাদান মুখের পেশিকে সাময়িকভাবে শিথিল করতেও ভূমিকা রাখে।

তবে পেপটাইডের বয়সরোধী কার্যকারিতা নিয়ে যে গবেষণাগুলো প্রচার করা হয়, তার বড় অংশই সংশ্লিষ্ট প্রসাধনী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে পরিচালিত। ফলে এ বিষয়ে আরও স্বাধীন গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর উপায়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়সের ছাপ কমানোর উপাদানগুলো কার্যকর হতে পারে, তবে ফল পেতে সময় লাগে। সাধারণত কয়েক মাস নিয়মিত ব্যবহার না করলে প্রকৃত ফলাফল বোঝা কঠিন।

তবে ত্বকের বার্ধক্য রোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় এখনো প্রতিরোধ। নিয়মিত সূর্যরশ্মি থেকে সুরক্ষা নেওয়া, সানস্ক্রিন ব্যবহার করা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ত্বককে দীর্ঘ সময় তরুণ দেখাতে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করে।