ভারতে রান্নার জ্বালানিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। সরকার এখন ঘরে ঘরে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা জোরদার করেছে। দেশের প্রায় ৩৩ কোটি এলপিজি সংযোগের বিপরীতে দাবি করা হচ্ছে, দেশীয় গ্যাস উৎপাদনই প্রায় ৩০ কোটি পরিবারের চাহিদা মেটাতে পারে যদি সবাই পাইপ গ্যাসে চলে আসে। তবে এই পরিবর্তনের পথ মোটেও সহজ নয়, সামনে রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ।
এলপিজি, এলএনজি ও পাইপ গ্যাসের পার্থক্য
এলপিজি মূলত তেল শোধন ও প্রাকৃতিক গ্যাস প্রক্রিয়াকরণের উপজাত। অন্যদিকে প্রাকৃতিক গ্যাসকে অত্যন্ত ঠান্ডা করে তরল অবস্থায় রূপান্তর করা হয়, যা পরে জাহাজে করে পরিবহন করা হয়। এই তরল গ্যাস গন্তব্যে পৌঁছে আবার গ্যাসে রূপান্তরিত হয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়।
এলপিজি সিলিন্ডারে ভরে সহজে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া যায় বলে এতদিন এটি জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু পাইপ গ্যাসের ক্ষেত্রে বিশাল অবকাঠামো দরকার, যা এখনও পুরো দেশে তৈরি হয়নি।
)
কেন এখন পাইপ গ্যাসে জোর
ভারতের এলপিজি আমদানির উপর নির্ভরতা অনেক বেশি। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে সরবরাহ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। দেশের মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানি করতে হয়, যার বেশিরভাগই একটি নির্দিষ্ট সমুদ্রপথের উপর নির্ভরশীল।
অন্যদিকে প্রাকৃতিক গ্যাস বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আনা সম্ভব, ফলে সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্যময়। এই কারণেই সরকার এখন পাইপ গ্যাস ব্যবহারে উৎসাহ দিচ্ছে।
রান্নায় এলপিজির বিকল্প কি পাইপ গ্যাস
বিশেষজ্ঞদের মতে, রান্নার ক্ষেত্রে পাইপ গ্যাস সহজেই এলপিজির বিকল্প হতে পারে। দুই ধরনের গ্যাসের শক্তি সরবরাহের পার্থক্য থাকলেও ব্যবহারিক দিক থেকে তা খুব বেশি প্রভাব ফেলে না।
তবে শিল্প ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন দরকার হতে পারে। অনেক ছোট শিল্প এখনও এলপিজির উপর নির্ভরশীল, সেখানে প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব একটি বড় বাধা।
দ্রুত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা

সরকার ইতিমধ্যেই নতুন করে লক্ষাধিক পাইপ গ্যাস সংযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী দশকে প্রায় ১২ কোটি পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনা।
দেশজুড়ে প্রায় ২৫ হাজার কিলোমিটার পাইপলাইন ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে এবং আরও বড় অংশ নির্মাণাধীন। পাশাপাশি নতুন নীতিমালার মাধ্যমে সংযোগ অনুমোদনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে দ্রুত কাজ এগোয়।
বড় বাধা কোথায়
সবচেয়ে বড় সমস্যা শেষ ধাপের সংযোগ ব্যবস্থা। অনেক শহরে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে বাড়ি পর্যন্ত পাইপ পৌঁছানো কঠিন। এছাড়া দেশের বহু অঞ্চল এখনও গ্যাস নেটওয়ার্কের বাইরে।
বর্তমানে অনুমোদিত অনেক প্রকল্পই মূল পাইপলাইনের সঙ্গে যুক্ত নয়। ফলে বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে।

গ্যাস সরবরাহে চাপ বাড়ার আশঙ্কা
বর্তমানে সার, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে বড় অংশের গ্যাস ব্যবহার হয়। রান্নার জন্য বিপুল সংখ্যক নতুন সংযোগ চালু হলে এই খাতগুলো থেকে গ্যাস সরাতে হতে পারে।
একই সঙ্গে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, চাহিদা পূরণ করতে উৎপাদন অন্তত এক-তৃতীয়াংশ বাড়াতে হবে। নতুন গ্যাসক্ষেত্র চালু হওয়ায় কিছুটা আশার আলো দেখা গেলেও আমদানির উপর নির্ভরতা পুরোপুরি কমবে না।
ভবিষ্যৎ চিত্র
পাইপ গ্যাস সংযোগ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও এলপিজির ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ হবে না। আগামী দশকেও বিপুল সংখ্যক পরিবার এলপিজির উপর নির্ভরশীল থাকবে, ফলে আমদানির প্রয়োজন অব্যাহত থাকবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















