০৬:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬
ইরান যুদ্ধে এশিয়ায় জ্বালানি সংকট: বাংলাদেশ-পাকিস্তানে পেট্রলপাম্প কর্মী খুন, ফিলিপিন্সে ধর্মঘট ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরান আবার পাল্টা আক্রমণ করল, তেল আবিবের কাছে ১১ আহত ইরান যুদ্ধের বিরোধী ৬৬ শতাংশ ইরানি-আমেরিকান, জরিপে চাঞ্চল্যকর তথ্য বিশ্বব্যাংকের উদ্বেগ: ইরান যুদ্ধে মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান ও খাদ্য নিরাপত্তা হুমকিতে ট্রাম্পের বলরুমের নিচে ‘বিশাল’ সামরিক সুরক্ষা কেন্দ্র: যা জানা জরুরি ইরাকে বায়বীয় হামলায় ৭ সেনা নিহত, ইরানপন্থি গোষ্ঠীর ঘাঁটিতে আঘাত হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করল ফরাসি মালিকানাধীন কনটেইনার জাহাজ ইরানে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন, কড়া নিন্দা চীনের অ্যাবু ধাবিতে গ্যাস ফ্যাসিলিটিতে আগুন, ইরান থেকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরান-ইসরায়েল সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে

গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশ

স্বাধীনতার ৫৫ বছরে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে পারতো। আর বিজয়ের ৫৫ বছরের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ ধনী দেশের পথে নতুন যাত্রা করতে পারতো। কিন্তু সেই যাত্রায় বিরাট এক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যদিও ৫ আগষ্ট পরবর্তী ঘটনা এবং সর্বশেষ ইরাণ যুদ্ধ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। তা সত্ব্ওে সব সূচকেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের পথেই ছিল। তাই অন্তবর্তী সরকারও সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, জাতিসংঘের সুপারিশ মোতাবেক চলতি ২০২৬ সালের নভেম্বরই বাংলাদেশ মাধ্যম আয়ের দেশে উত্তীর্ণ হতো। কিন্তু একটি নির্বাচনের মধ্যদিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করা নতুন বিএনপি সরকার এখনই সেই পথে হাটতে চাইছে না। একটি ব্যবসায়ীক গোষ্ঠির দাবির মুখে এই উত্তরণ আরও তিন বছর পিছিয়ে দিতে চাইছে। সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জাতিসংঘের কাছে আবেদনও করেছে। জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থা এখন এটি পর্যালোচনা করে দেখছে। তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে সমৃদ্ধির যাত্রা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর বিপুল জনসংখ্যা, ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও সম্পদের অপ্রতুলতার কারণে বাংলাদেশ ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। তাই যুদ্ধবিধ্বস্ত ও চরম দরিদ্র দেশ হিসেবে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ (ইড়ঃঃড়সষবংং ইধংশবঃ) হিসাবে মন্তব্য করেছিল। তবে সেই মন্তব্যকে মিথ্যা প্রমাণ করে বাংলাদেশ তার ৫০ বছরেই বিশ্বের বুকে একটি উন্নয়নশীল ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা, তৈরি পোশাক শিল্প, অবকাঠামোগত উন্নয়ন (পদ্মা সেতু, মেট্রো রেল) এবং নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে এ অভাবনীয় রূপান্তর সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশ “উন্নয়নের রোল মডেল” হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও কর্ণফুলী টানেলের মতো বড় প্রকল্পগুলো দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে গতিশীল করেছে। তৈরি পোশাক শিল্পে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থান, কৃষি খাতের আধুনিকায়ন, নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ এখন “বাস্কেট কেস” বা তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ মুছে ফেলে একটি স্বাবলম্বী ও আত্মবিশ্বাসী জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। দীর্ঘ ৯ মাসের মহান মুক্তিযুদ্ধে বহু ত্যাগের বিনিময়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। সেসময়ের বাংলাদেশ ছিল নানা পরিসংখ্যানের বিচারে পৃথিবীর দরিদ্রতম একটি দেশ। তখন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। ওই অপবাদের পর সত্তরের দশকে জাস্ট ফ্যালান্ড ও জন পার্কিনসন নামের দুই অর্থনীতিবিদের যৌথভাবে লেখা বাংলাদেশের উন্নয়ন-সম্পর্কিত বিখ্যাত বইটির নাম ছিল বাংলাদেশ: এ টেস্ট কেইস অব ডেভেলপমেন্ট। তখন ক্ষুধা-বন্যার নিয়মিত তকমার সঙ্গে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ও যেন ছিল নিয়তি। তবে ওই অবস্থা থেকে ৫৫ বছরে এক সম্ভাবনার বাংলাদেশ হিসেবে বিশ্বের দরবারে নিজেদের প্রমাণ করতে পেরেছে। একটি দেশ যখন পৃথিবীর বুকে জন্ম নেয়, সেসময় থেকে চলমান বর্তমান পর্যন্ত নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এগিয়ে যায়, নয়তো সমস্যায় জর্জরিত হয়ে আরও অধ:পতন হয়। ১৯৭১ সালের কাঙ্খিত বিজয়ের পরেও প্রাকৃতিক থেকে শুরু করে মানবসৃষ্ট নানা প্রতিকূলতা-দুর্যোগ সহ্য করেছে বাংলাদেশ। তারপরও ধীরে ধীরে এগিয়েছে দেশ। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের অবকাঠামো থেকে উঠে দাঁড়িয়ে ধীরে ধীরে দেশের অবকাঠামো এখন বিশ্বমানের। দেশে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে, বড় বড় ফ্লাইওভার করা হয়েছে, মেট্রোরেল মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়েছে, দেশজুড়ে রাস্তাঘাট কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে, দেশের সর্ববৃহৎ পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ নিজস্ব অর্থায়নে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

মেট্রোরেল, ফ্লাইওভার কি চিবিয়ে খাব: প্রধানমন্ত্রীকে রিজভী

কৃষি, খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ, নারীর ক্ষমতায়ন, আর্থ-সামাজিক প্রতিটি সূচক ও জরিপে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এগিয়ে যাবার নানা পরিসংখ্যানের পাশাপাশি রয়েছে অনেক অপ্রাপ্তিও। শিক্ষা, মানবাধিকার ও সুশাসনের নানা বিষয়ে কিছু প্রতিকূলতা থাকলেও গড় ফলাফলে বাংলাদেশের অর্জন অবশ্যই বিশ্বমানের। উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়া বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম অর্জন। মহামারি করোনাকালীন বিশ্বের সব দেশে যখন প্রবৃদ্ধির হার কমে যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশে আকর্ষণীয় প্রবৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে। রপ্তানি ও রেমিট্যান্সের প্রভাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় গিয়েছিল। এ সময়ে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে বহুগুণ, একই সঙ্গে বেড়েছে রপ্তানি পণ্যের সংখ্যাও। ৭০ দশকে যেখানে দেশের জাতীয় বাজেটের আকার ছিল হাজার কোটি টাকার নীচে, সেখানে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর অর্থবছরে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস হয়েছে। কোভিড মহামারির পর রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের আভ্যন্তরীন রাজনৈতিক সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ভঙ্গুর করে দিয়েছে। সর্বশেষ এই ভঙ্গুরতার মধ্যে ইরান যুদ্ধ দেশের অর্থনীতিকে নতুন করে ঝুকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। তা সত্ত্বেও স্বাধীনতার ৫৫ বছরে এসে বাংলাদেশ নয় লাখ কোটি টাকার বাজেট প্রণয়রে স্বপ্ন দেখছে। তবে এই ৫৫ বছরের মধ্যে ২০ বছর কেটেছে সামরিক এবং অরাজনৈতিক ও অসংবিধানিক সরকারের শাসনে। এই ২০ বছরে দেশ বরং এগুনোর পরিবর্তে পিছিয়েছে। ফলে বাংলাদেশ ক্ষুধা দরিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত হয়েছে। অনাহারে অর্ধাহারে কেটেছে এদেশের বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠির। বাংলাদেশের মুল উন্নয়ন অগ্রযাত্রা শুরু হয় নব্বইয়ের দশকে। সামরিক সরকারের পতনের পর অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে ১৯৯১ সালে নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের অভিযাত্রা শুরু হলে বাংলাদেশে উন্নয়নের ভীত তৈরি হয়। এ সময় মুক্তবাজার অর্থনীতি অনুসরণ এবং বাণিজ্য উদারীকরণ ও অর্থনৈতিক সংস্কারের কার্যক্রম শুরু হলে বাংলাদেশ উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে হাটতে শুরু করে। তবে বাংলাদেশ মুলত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি তরান্বিত হয় ২০১০ সালের পর। এ সময়ে এসে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন দুর্বার গতিলাভ করে। সামষ্ঠিক অর্থনীতি থেকে শুরু করে অবকাঠামোগত ও সামাজিক সবক্ষেত্রেই বাংলাদেশ দ্রুত উন্নতির দিকে ধাবিত হয়। এই অগ্রগতির পেছনে মুল ভূমিকা রাখে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অজনসহ কৃষির খাতের উন্নয়ন। খোরপোষ থেকে বাংলাদেশের কৃষি বাণিজ্যিক কৃষিতে পরিণত হয়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা সামাজিক উন্নয়ন যে কোন সূচকে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব অগ্রগতি লাভ করে। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ পরিচিতি পায় উন্নয়নের রোলমডেল হিসাবে। প্রভাবশালী ম্যাগাজিন দি ইকোনমিস্টের ২০২০ সালের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, ৬৬টি উদীয়মান সবল অর্থনীতির দেশের তালিকায় বাংলাদেশের স্থান নবম। ব্রিটেনের অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ’ তাদের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লিগ টেবল-২০২১’ এ ভবিষ্যদ্বাণী করেছে, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ও সার্বিক অগ্রগতি এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশ ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বের ২৫টি বড় অর্থনীতির একটি হবে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৪তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। উন্নয়ন গবেষকরা আজকের বাংলাদেশকে ‘উন্নয়নের রোল মডেল, ‘এমার্জিং টাইগার’, দক্ষিণ এশিয়ার ‘তেজি ষাঁড়’এরকম নানা অভিধায় ভূষিত করছেন। বড় অর্জন উন্নয়নশীল দেশ তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ কাটিয়ে বাংলাদেশ ২০১৮ সালে বড় সুখবর পায় জাতিসংঘের তরফ থেকে। ২০১৮ সালের ১৬ মার্চ জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিল বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিক পত্রের মাধ্যমে জানিয়েছে যে বাংলাদেশ যেহেতু স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের ক্যাটাগরিতে উত্তরণের তিনটি পূর্বশর্ত পূরণ করেছে, তাই ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশের এই উত্তরণপর্ব শুরু হয়। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন নীতি সংক্রান্ত কমিটি (সিডিপি) ২০২১ সালের মার্চে এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে উত্তরণের জন্য মাথাপিছু আয়, মানব সম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক এ তিনটি সূচকের যে কোন দুটি অর্জনের শর্ত থাকলেও বাংলাদেশ তিনটি সূচকেই উন্নীত হয়েছে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিলের (ইকোসক) মানদণ্ড অনুযায়ী, এক্ষেত্রে একটি দেশের মাথাপিছু আয় হতে হবে কমপক্ষে এক হাজার ২৩০ মার্কিন ডলার। ২০২২ সালের ১০ মে প্রকাশিত সরকারি তথ্যে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় দাড়ায় দুই হাজার ৮২৪ ডলার। মানবসম্পদ সূচকে ৬৬ প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশ অর্জন করেছে ৭২ দমমিক ৯ এর বেশি। অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক হতে হবে ৩২ ভাগ বা এর কম, সেখানে বাংলাদেশের রয়েছে ২৪ দশমিক ৮ ভাগ এরও কম। জাতিসংঘ স্বল্পোন্নত, উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশের ক্যাটাগরির প্রচলন করেছিল ১৯৭১ সালে। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য হওয়ার পর ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকার বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করাতে সক্ষম হয়েছিল স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য প্রযোজ্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা লাভের প্রত্যাশায়, যদিও সাড়ে সাত কোটি জনসংখ্যার কোনো দেশকে সাধারণত এই ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করার নিয়ম ছিল না। এই ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্তির পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত আশা ছিল, স্বাধীনতা-পরবর্তী চরম সংকটজনক অর্থনৈতিক অবস্থা কাটিয়ে ওঠার পর এক দশকের মধ্যেই বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের পরিচয় ঝেড়ে ফেলে উন্নয়নশীল দেশের ক্যাটাগরিতে উত্তরণে সক্ষম হবে। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবার নিহত হওয়ার পর রাষ্ট্রক্ষমতা জবরদখলকারী সরকারগুলো স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে নানান ধরনের রিলিফ, খয়রাতি সাহায্য, বৈদেশিক অনুদান এবং স্বল্প সুদের ঋণ (তথাকথিত সফট লোন) পাওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য দেশের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানিপণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাওয়ায় বাংলাদেশের এই অবমাননাকর পরিচয়টিকে অগ্রহণযোগ্য বিবেচনা করেনি। একই কারণে ১৯৯১ সালের পরও ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত কিছু সরকারের কাছে স্বল্পোন্নত দেশের ক্যাটাগরি থেকে উত্তরণকে হয়তো আর তেমন আকর্ষণীয় বিষয় মনে হয়নি! বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় তিনটি সূচকে ধারাবাহিক উন্নতি করে আসছে। এগুলো হলো- মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক। ২০১৮ ও ২০২১ সালের পর্যালোচনায় বাংলাদেশ এই তিনটি সূচকেই নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করে। এরপর ২০২১ সালের ২৪ নভেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে এলডিসি থেকে উত্তরণের অনুমোদন দেয়।

অর্থনীতির সব সূচকই নিম্নমুখী

সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোভিডের কারণে পাঁচ বছরের প্রস্তুতিমূলক সময় শেষে ২০২৬ সালের নভেম্বরেই উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাওয়ার কথা। অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালে জাতিসংঘে জমা দেওয়া ‘পারফরম্যান্স অব ইকোনমি অ্যান্ড প্রিপারেশনস ফর সাসটেইনেবল গ্র্যাজুয়েশন ফ্রম এলডিসি স্টাটাস ডিউরিং দ্য প্রিপারেটরি পিরিয়ড’ শীর্ষক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাংলাদেশ এখনও এই তিনটি সূচকের মানদণ্ড পূরণ করছে এবং উত্তরণের পথেই রয়েছে। একইসঙ্গে এলডিসি উত্তরণকে টেকসই করতে ‘স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি (এসটিএস)’ বাস্তবায়নের অগ্রগতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই অগ্রগতির মধ্যেও প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে স্বীকার করা হয়েছে, উত্তরণের প্রস্তুতিতে এখনও উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। তবে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে ওঠার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা বাংলাদেশ যেন হঠাৎ করেই একটু থেমে যেতে চাইছে। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং মানব উন্নয়ন সূচকে ধারাবাহিক উন্নতির স্বীকৃতি হিসেবে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি যখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক তখনই সরকার সময়সীমা আরও তিন বছর বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে। অর্থাৎ নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২০২৬ সালেই উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাওয়ার সুযোগ থাকলেও বাংলাদেশ এখনই সেই পথে হাঁটতে আগ্রহী নয়। বরং বর্তমান সরকার চায় এই সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত নেওয়া হোক। এ লক্ষ্যে জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটির (সিডিপি) কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সময় বাড়ানোর প্রধান যুক্তি হলো, এলডিসি উত্তরণের জন্য দেওয়া পাঁচ বছরের প্রস্তুতিমূলক সময় পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকীর সিই করা একটি চিঠি গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান হোসে আন্তোনিও ওকাম্পোর কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা সংকটের কারণে প্রস্তুতিমূলক সময়ের বড় অংশই ব্যয় হয়েছে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সংকট মোকাবিলায়। সরকারের ভাষায়, উত্তরণের জন্য যে প্রস্তুতিমূলক সময় দেওয়া হয়েছিল, তা মূলত সংকট ব্যবস্থাপনা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং টিকে থাকার লড়াইয়েই কেটে গেছে। সরকার চিঠিতে একাধিক বৈশ্বিক কারণ তুলে ধরেছে, যেগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। এর মধ্যে রয়েছে- কোভিড-১৯ মহামারীর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধজনিত জ্বালানি ও খাদ্য সংকট, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে কঠোরতা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধীরগতি। এই পরিস্থিতির ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হয়েছে, জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে এবং উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলো নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে- ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চাপ। এসব কারণে সামষ্টিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে বলে সরকারের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ ধাক্কার ফলে সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে চাপ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, জিডিপি প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, বিনিয়োগের গতি কমে যাওয়া, কর-জিডিপি অনুপাতের দুর্বলতা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ। এছাড়া কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কমে যাওয়ায় শিল্প খাতেও প্রভাব পড়েছে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি ধীর হয়েছে এবং দারিদ্র্য বিমোচনের অগ্রগতিও কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাধ্য হয়ে নীতিনির্ধারণের মূল ফোকাস উন্নয়ন কর্মসূচি থেকে সরে গিয়ে স্বল্পমেয়াদি স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সংকট ব্যবস্থাপনার দিকে চলে গেছে। এলডিসি মর্যাদা হারানোর সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশ কিছু বিশেষ সুবিধা হারানোর আশঙ্কাও সরকারের বিবেচনায় এসেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ইউরোপীয় ইউনিয়নের শুল্কমুক্ত সুবিধা (জিএসপি), বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বিশেষ ও পৃথক আচরণ সুবিধা, বিভিন্ন উন্নয়ন সহায়তা ব্যবস্থার অগ্রাধিকার, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশের উচ্চ নির্ভরশীলতার কারণে এসব সুবিধা হারালে রফতানি প্রতিযোগিতা কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শুল্ক নীতিও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সরকারের মতে, তিন বছর অতিরিক্ত সময় পাওয়া গেলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে প্রস্তুতি জোরদার করা সম্ভব হবে। যেমন- সামষ্টিক অর্থনীতি আরও স্থিতিশীল করা, কাঠামোগত সংস্কার এগিয়ে নেওয়া, রফতানি খাতের বহুমুখীকরণ, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) প্রস্তুতি। তবে অর্থনীতিবিদরা সময় বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, বাংলাদেশ এখনও তিনটি প্রধান সূচকেই নির্ধারিত সীমার ওপরে রয়েছে।

নতুন বছরে অর্থনীতি নিয়ে ভালো কিছু কি আশা করা যায়?

ফলে সময় বাড়ানোর জন্য শক্তিশালী যুক্তি উপস্থাপন করা প্রয়োজন হবে। সাধারণত অন্তত দুটি সূচকে উল্লেখযোগ্য অবনতি দেখা গেলে উত্তরণ বিলম্বের প্রশ্ন আসে। শুধুমাত্র সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপ দেখিয়ে সময় বাড়ানো পাওয়া সহজ হবে না। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘এলডিসি উত্তরণ একটি সূচকভিত্তিক প্রক্রিয়া এবং এটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে না।’ সব মিলিয়ে এলডিসি উত্তরণকে ঘিরে বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জনের গর্ব, অন্যদিকে অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও বাণিজ্যিক ঝুঁকি- এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজে পাওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারের আবেদন গৃহীত হবে কিনা, তা নির্ভর করবে জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটির মূল্যায়ন এবং পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্তের ওপর। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এলডিসি উত্তরণ শুধু একটি মর্যাদার বিষয় নয়, এটি অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং নীতিনির্ধারণের জন্য একটি বড় মোড় ঘোরানোর মুহূর্ত। আর সেই মোড়ে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ এখনই ধনী দেশের পথে হাটতে চাইছে না। স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও বাংলাদেশ গরীব দেশের কাতারেই থাকতে চাইছে। এখনও প্রত্যাশা থেকে দূরে বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫৫ বছরে বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়নি। মুক্তিসংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-আদর্শও অক্ষুণ্ন থাকেনি। রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদসহ বিশিষ্টজনের দাবি, রাজনীতি, অর্থনীতি ও শিক্ষা খাতে সুদীর্ঘ সময়ে বাংলাদেশ যতটা এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল, বাস্তবে তা ব্যাহত হয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতাই এর বড় কারণ। এই ৫৫ বছরের বাংলাদেশে সুশাসন ও মানবাধিকার পরিস্থিতি মানবেতর অবস্থার ভেতর দিয়ে গেছে। নারী অগ্রগতি ঘটলেও নারীদের অংশীদারত্বের উন্নয়ন ঘটেনি। শ্রমিক কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে পরিচিতি পায়নি, অতিসম্প্রতি কূটনীতিক সম্পর্ক বিনষ্ট হয়েছে। বাণিজ্য পরিস্থিতির রুগ্নদশায়। একের পণ্যের (তৈরি পোশাক) ওপার বাংলাদেশের বাণিজ্য নির্ভশীল হয়ে আছে। আর্থ-সামাজিক সূচকে এগিয়ে গেলেও কল্যাণকর রাষ্ট্রের ভূমিকায় নেই ৫৫ বছরের বাংলাদেশ। অর্থনীতির আয়তন বাড়লেও বেড়েছে ধনী-গরীব বৈষম্য। জিডিপিতে উল্লম্ফন ঘটেছে। রপ্তানিমুখী শিল্প, উৎপাদনমুখী শিল্পের প্রসার ঘটেছে। কৃষি উৎপাদন বেড়েছে। ৫৫ বছরের পুরনো বাংলাদেশে উৎপাদনশিল্প যেভাবে বেড়েছে, তাতে নিরাপদ খাদ্য পাওয়া মুশকিল হয়ে উঠেছে। নিরাপদ পানি পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবেশগত সমস্যা প্রবল হয়ে উঠেছে। চোরাই টাকার অর্থনীতির দাপট বেড়েছে। কিন্তু কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সংকট সৃষ্টি করেছে। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের বিকাশ ঘটেছে। প্রাণ-প্রকৃতি ঝুঁকিতে পড়েছে। ফলে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তাঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বাংলাদেশে শিক্ষা ও চিকিৎসা জনগণের জন্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বরং শিক্ষা ও চিকিৎসা দুটি খাতেই বাণিজ্যিকীকরণ ও নৈরাজ্যকীকরণ বেড়েছে। বাংলাদেশে নারীরা এখনো অংশীদারত্বের জায়গায় আসতে পারেনি। কিন্তু সব সেক্টরে নারীশ্রম অর্থনৈতিক জায়গাকে সচল রেখেছে। রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা খাত, শ্রমন্নোয়নসহ সব সেক্টরের উন্নয়নে নারীর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। কিন্তু নীতিনির্ধারণী জায়গায় নারীর অংশীদারত্ব ফাঁকা। ৫৫ বছর পরে এসেও বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিকরূপ পায়নি। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-আদর্শের রাজনীতি হোঁচট খেয়েছে। হারিয়ে গেছে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা সমতা-ন্যায্যতা ও মানবতা। যে আদর্শ নিয়ে বাংলাদেশ বিনির্মাণ হয়েছিল, তা বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে, চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজনীতির উত্থান ঘটেছে। তাই বাংলাদেশকে তার স্বাধীনতার প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে আগামী দিনে ভারসাম্যপূর্ণ ও টেকসই উন্নয়ন নীতিমালায় মনোযোগী হতে হবে। টেকসই অর্থনীতির ভিত্তি তৈরি করতে হলে গোষ্ঠীস্বার্থ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালিত করতে হবে। শিক্ষা খাতকে ইউনিফাইড জায়গায় নিয়ে আসতে হবে। লেখক: অর্থনৈতিক বিশ্লেষক

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধে এশিয়ায় জ্বালানি সংকট: বাংলাদেশ-পাকিস্তানে পেট্রলপাম্প কর্মী খুন, ফিলিপিন্সে ধর্মঘট

গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশ

০৪:৫৯:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

স্বাধীনতার ৫৫ বছরে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে পারতো। আর বিজয়ের ৫৫ বছরের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ ধনী দেশের পথে নতুন যাত্রা করতে পারতো। কিন্তু সেই যাত্রায় বিরাট এক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যদিও ৫ আগষ্ট পরবর্তী ঘটনা এবং সর্বশেষ ইরাণ যুদ্ধ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। তা সত্ব্ওে সব সূচকেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের পথেই ছিল। তাই অন্তবর্তী সরকারও সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, জাতিসংঘের সুপারিশ মোতাবেক চলতি ২০২৬ সালের নভেম্বরই বাংলাদেশ মাধ্যম আয়ের দেশে উত্তীর্ণ হতো। কিন্তু একটি নির্বাচনের মধ্যদিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করা নতুন বিএনপি সরকার এখনই সেই পথে হাটতে চাইছে না। একটি ব্যবসায়ীক গোষ্ঠির দাবির মুখে এই উত্তরণ আরও তিন বছর পিছিয়ে দিতে চাইছে। সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জাতিসংঘের কাছে আবেদনও করেছে। জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থা এখন এটি পর্যালোচনা করে দেখছে। তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে সমৃদ্ধির যাত্রা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর বিপুল জনসংখ্যা, ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও সম্পদের অপ্রতুলতার কারণে বাংলাদেশ ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। তাই যুদ্ধবিধ্বস্ত ও চরম দরিদ্র দেশ হিসেবে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ (ইড়ঃঃড়সষবংং ইধংশবঃ) হিসাবে মন্তব্য করেছিল। তবে সেই মন্তব্যকে মিথ্যা প্রমাণ করে বাংলাদেশ তার ৫০ বছরেই বিশ্বের বুকে একটি উন্নয়নশীল ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা, তৈরি পোশাক শিল্প, অবকাঠামোগত উন্নয়ন (পদ্মা সেতু, মেট্রো রেল) এবং নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে এ অভাবনীয় রূপান্তর সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশ “উন্নয়নের রোল মডেল” হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও কর্ণফুলী টানেলের মতো বড় প্রকল্পগুলো দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে গতিশীল করেছে। তৈরি পোশাক শিল্পে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থান, কৃষি খাতের আধুনিকায়ন, নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ এখন “বাস্কেট কেস” বা তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ মুছে ফেলে একটি স্বাবলম্বী ও আত্মবিশ্বাসী জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। দীর্ঘ ৯ মাসের মহান মুক্তিযুদ্ধে বহু ত্যাগের বিনিময়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। সেসময়ের বাংলাদেশ ছিল নানা পরিসংখ্যানের বিচারে পৃথিবীর দরিদ্রতম একটি দেশ। তখন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। ওই অপবাদের পর সত্তরের দশকে জাস্ট ফ্যালান্ড ও জন পার্কিনসন নামের দুই অর্থনীতিবিদের যৌথভাবে লেখা বাংলাদেশের উন্নয়ন-সম্পর্কিত বিখ্যাত বইটির নাম ছিল বাংলাদেশ: এ টেস্ট কেইস অব ডেভেলপমেন্ট। তখন ক্ষুধা-বন্যার নিয়মিত তকমার সঙ্গে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ও যেন ছিল নিয়তি। তবে ওই অবস্থা থেকে ৫৫ বছরে এক সম্ভাবনার বাংলাদেশ হিসেবে বিশ্বের দরবারে নিজেদের প্রমাণ করতে পেরেছে। একটি দেশ যখন পৃথিবীর বুকে জন্ম নেয়, সেসময় থেকে চলমান বর্তমান পর্যন্ত নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এগিয়ে যায়, নয়তো সমস্যায় জর্জরিত হয়ে আরও অধ:পতন হয়। ১৯৭১ সালের কাঙ্খিত বিজয়ের পরেও প্রাকৃতিক থেকে শুরু করে মানবসৃষ্ট নানা প্রতিকূলতা-দুর্যোগ সহ্য করেছে বাংলাদেশ। তারপরও ধীরে ধীরে এগিয়েছে দেশ। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের অবকাঠামো থেকে উঠে দাঁড়িয়ে ধীরে ধীরে দেশের অবকাঠামো এখন বিশ্বমানের। দেশে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে, বড় বড় ফ্লাইওভার করা হয়েছে, মেট্রোরেল মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়েছে, দেশজুড়ে রাস্তাঘাট কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে, দেশের সর্ববৃহৎ পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ নিজস্ব অর্থায়নে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

মেট্রোরেল, ফ্লাইওভার কি চিবিয়ে খাব: প্রধানমন্ত্রীকে রিজভী

কৃষি, খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ, নারীর ক্ষমতায়ন, আর্থ-সামাজিক প্রতিটি সূচক ও জরিপে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এগিয়ে যাবার নানা পরিসংখ্যানের পাশাপাশি রয়েছে অনেক অপ্রাপ্তিও। শিক্ষা, মানবাধিকার ও সুশাসনের নানা বিষয়ে কিছু প্রতিকূলতা থাকলেও গড় ফলাফলে বাংলাদেশের অর্জন অবশ্যই বিশ্বমানের। উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়া বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম অর্জন। মহামারি করোনাকালীন বিশ্বের সব দেশে যখন প্রবৃদ্ধির হার কমে যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশে আকর্ষণীয় প্রবৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে। রপ্তানি ও রেমিট্যান্সের প্রভাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় গিয়েছিল। এ সময়ে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে বহুগুণ, একই সঙ্গে বেড়েছে রপ্তানি পণ্যের সংখ্যাও। ৭০ দশকে যেখানে দেশের জাতীয় বাজেটের আকার ছিল হাজার কোটি টাকার নীচে, সেখানে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর অর্থবছরে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস হয়েছে। কোভিড মহামারির পর রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের আভ্যন্তরীন রাজনৈতিক সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ভঙ্গুর করে দিয়েছে। সর্বশেষ এই ভঙ্গুরতার মধ্যে ইরান যুদ্ধ দেশের অর্থনীতিকে নতুন করে ঝুকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। তা সত্ত্বেও স্বাধীনতার ৫৫ বছরে এসে বাংলাদেশ নয় লাখ কোটি টাকার বাজেট প্রণয়রে স্বপ্ন দেখছে। তবে এই ৫৫ বছরের মধ্যে ২০ বছর কেটেছে সামরিক এবং অরাজনৈতিক ও অসংবিধানিক সরকারের শাসনে। এই ২০ বছরে দেশ বরং এগুনোর পরিবর্তে পিছিয়েছে। ফলে বাংলাদেশ ক্ষুধা দরিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত হয়েছে। অনাহারে অর্ধাহারে কেটেছে এদেশের বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠির। বাংলাদেশের মুল উন্নয়ন অগ্রযাত্রা শুরু হয় নব্বইয়ের দশকে। সামরিক সরকারের পতনের পর অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে ১৯৯১ সালে নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের অভিযাত্রা শুরু হলে বাংলাদেশে উন্নয়নের ভীত তৈরি হয়। এ সময় মুক্তবাজার অর্থনীতি অনুসরণ এবং বাণিজ্য উদারীকরণ ও অর্থনৈতিক সংস্কারের কার্যক্রম শুরু হলে বাংলাদেশ উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে হাটতে শুরু করে। তবে বাংলাদেশ মুলত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি তরান্বিত হয় ২০১০ সালের পর। এ সময়ে এসে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন দুর্বার গতিলাভ করে। সামষ্ঠিক অর্থনীতি থেকে শুরু করে অবকাঠামোগত ও সামাজিক সবক্ষেত্রেই বাংলাদেশ দ্রুত উন্নতির দিকে ধাবিত হয়। এই অগ্রগতির পেছনে মুল ভূমিকা রাখে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অজনসহ কৃষির খাতের উন্নয়ন। খোরপোষ থেকে বাংলাদেশের কৃষি বাণিজ্যিক কৃষিতে পরিণত হয়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা সামাজিক উন্নয়ন যে কোন সূচকে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব অগ্রগতি লাভ করে। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ পরিচিতি পায় উন্নয়নের রোলমডেল হিসাবে। প্রভাবশালী ম্যাগাজিন দি ইকোনমিস্টের ২০২০ সালের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, ৬৬টি উদীয়মান সবল অর্থনীতির দেশের তালিকায় বাংলাদেশের স্থান নবম। ব্রিটেনের অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ’ তাদের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লিগ টেবল-২০২১’ এ ভবিষ্যদ্বাণী করেছে, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ও সার্বিক অগ্রগতি এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশ ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বের ২৫টি বড় অর্থনীতির একটি হবে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৪তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। উন্নয়ন গবেষকরা আজকের বাংলাদেশকে ‘উন্নয়নের রোল মডেল, ‘এমার্জিং টাইগার’, দক্ষিণ এশিয়ার ‘তেজি ষাঁড়’এরকম নানা অভিধায় ভূষিত করছেন। বড় অর্জন উন্নয়নশীল দেশ তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ কাটিয়ে বাংলাদেশ ২০১৮ সালে বড় সুখবর পায় জাতিসংঘের তরফ থেকে। ২০১৮ সালের ১৬ মার্চ জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিল বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিক পত্রের মাধ্যমে জানিয়েছে যে বাংলাদেশ যেহেতু স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের ক্যাটাগরিতে উত্তরণের তিনটি পূর্বশর্ত পূরণ করেছে, তাই ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশের এই উত্তরণপর্ব শুরু হয়। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন নীতি সংক্রান্ত কমিটি (সিডিপি) ২০২১ সালের মার্চে এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে উত্তরণের জন্য মাথাপিছু আয়, মানব সম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক এ তিনটি সূচকের যে কোন দুটি অর্জনের শর্ত থাকলেও বাংলাদেশ তিনটি সূচকেই উন্নীত হয়েছে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিলের (ইকোসক) মানদণ্ড অনুযায়ী, এক্ষেত্রে একটি দেশের মাথাপিছু আয় হতে হবে কমপক্ষে এক হাজার ২৩০ মার্কিন ডলার। ২০২২ সালের ১০ মে প্রকাশিত সরকারি তথ্যে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় দাড়ায় দুই হাজার ৮২৪ ডলার। মানবসম্পদ সূচকে ৬৬ প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশ অর্জন করেছে ৭২ দমমিক ৯ এর বেশি। অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক হতে হবে ৩২ ভাগ বা এর কম, সেখানে বাংলাদেশের রয়েছে ২৪ দশমিক ৮ ভাগ এরও কম। জাতিসংঘ স্বল্পোন্নত, উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশের ক্যাটাগরির প্রচলন করেছিল ১৯৭১ সালে। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য হওয়ার পর ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকার বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করাতে সক্ষম হয়েছিল স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য প্রযোজ্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা লাভের প্রত্যাশায়, যদিও সাড়ে সাত কোটি জনসংখ্যার কোনো দেশকে সাধারণত এই ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করার নিয়ম ছিল না। এই ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্তির পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত আশা ছিল, স্বাধীনতা-পরবর্তী চরম সংকটজনক অর্থনৈতিক অবস্থা কাটিয়ে ওঠার পর এক দশকের মধ্যেই বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের পরিচয় ঝেড়ে ফেলে উন্নয়নশীল দেশের ক্যাটাগরিতে উত্তরণে সক্ষম হবে। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবার নিহত হওয়ার পর রাষ্ট্রক্ষমতা জবরদখলকারী সরকারগুলো স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে নানান ধরনের রিলিফ, খয়রাতি সাহায্য, বৈদেশিক অনুদান এবং স্বল্প সুদের ঋণ (তথাকথিত সফট লোন) পাওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য দেশের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানিপণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাওয়ায় বাংলাদেশের এই অবমাননাকর পরিচয়টিকে অগ্রহণযোগ্য বিবেচনা করেনি। একই কারণে ১৯৯১ সালের পরও ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত কিছু সরকারের কাছে স্বল্পোন্নত দেশের ক্যাটাগরি থেকে উত্তরণকে হয়তো আর তেমন আকর্ষণীয় বিষয় মনে হয়নি! বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় তিনটি সূচকে ধারাবাহিক উন্নতি করে আসছে। এগুলো হলো- মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক। ২০১৮ ও ২০২১ সালের পর্যালোচনায় বাংলাদেশ এই তিনটি সূচকেই নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করে। এরপর ২০২১ সালের ২৪ নভেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে এলডিসি থেকে উত্তরণের অনুমোদন দেয়।

অর্থনীতির সব সূচকই নিম্নমুখী

সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোভিডের কারণে পাঁচ বছরের প্রস্তুতিমূলক সময় শেষে ২০২৬ সালের নভেম্বরেই উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাওয়ার কথা। অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালে জাতিসংঘে জমা দেওয়া ‘পারফরম্যান্স অব ইকোনমি অ্যান্ড প্রিপারেশনস ফর সাসটেইনেবল গ্র্যাজুয়েশন ফ্রম এলডিসি স্টাটাস ডিউরিং দ্য প্রিপারেটরি পিরিয়ড’ শীর্ষক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাংলাদেশ এখনও এই তিনটি সূচকের মানদণ্ড পূরণ করছে এবং উত্তরণের পথেই রয়েছে। একইসঙ্গে এলডিসি উত্তরণকে টেকসই করতে ‘স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি (এসটিএস)’ বাস্তবায়নের অগ্রগতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই অগ্রগতির মধ্যেও প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে স্বীকার করা হয়েছে, উত্তরণের প্রস্তুতিতে এখনও উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। তবে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে ওঠার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা বাংলাদেশ যেন হঠাৎ করেই একটু থেমে যেতে চাইছে। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং মানব উন্নয়ন সূচকে ধারাবাহিক উন্নতির স্বীকৃতি হিসেবে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি যখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক তখনই সরকার সময়সীমা আরও তিন বছর বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে। অর্থাৎ নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২০২৬ সালেই উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাওয়ার সুযোগ থাকলেও বাংলাদেশ এখনই সেই পথে হাঁটতে আগ্রহী নয়। বরং বর্তমান সরকার চায় এই সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত নেওয়া হোক। এ লক্ষ্যে জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটির (সিডিপি) কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সময় বাড়ানোর প্রধান যুক্তি হলো, এলডিসি উত্তরণের জন্য দেওয়া পাঁচ বছরের প্রস্তুতিমূলক সময় পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকীর সিই করা একটি চিঠি গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান হোসে আন্তোনিও ওকাম্পোর কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা সংকটের কারণে প্রস্তুতিমূলক সময়ের বড় অংশই ব্যয় হয়েছে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সংকট মোকাবিলায়। সরকারের ভাষায়, উত্তরণের জন্য যে প্রস্তুতিমূলক সময় দেওয়া হয়েছিল, তা মূলত সংকট ব্যবস্থাপনা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং টিকে থাকার লড়াইয়েই কেটে গেছে। সরকার চিঠিতে একাধিক বৈশ্বিক কারণ তুলে ধরেছে, যেগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। এর মধ্যে রয়েছে- কোভিড-১৯ মহামারীর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধজনিত জ্বালানি ও খাদ্য সংকট, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে কঠোরতা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধীরগতি। এই পরিস্থিতির ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হয়েছে, জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে এবং উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলো নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে- ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চাপ। এসব কারণে সামষ্টিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে বলে সরকারের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ ধাক্কার ফলে সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে চাপ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, জিডিপি প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, বিনিয়োগের গতি কমে যাওয়া, কর-জিডিপি অনুপাতের দুর্বলতা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ। এছাড়া কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কমে যাওয়ায় শিল্প খাতেও প্রভাব পড়েছে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি ধীর হয়েছে এবং দারিদ্র্য বিমোচনের অগ্রগতিও কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাধ্য হয়ে নীতিনির্ধারণের মূল ফোকাস উন্নয়ন কর্মসূচি থেকে সরে গিয়ে স্বল্পমেয়াদি স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সংকট ব্যবস্থাপনার দিকে চলে গেছে। এলডিসি মর্যাদা হারানোর সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশ কিছু বিশেষ সুবিধা হারানোর আশঙ্কাও সরকারের বিবেচনায় এসেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ইউরোপীয় ইউনিয়নের শুল্কমুক্ত সুবিধা (জিএসপি), বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বিশেষ ও পৃথক আচরণ সুবিধা, বিভিন্ন উন্নয়ন সহায়তা ব্যবস্থার অগ্রাধিকার, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশের উচ্চ নির্ভরশীলতার কারণে এসব সুবিধা হারালে রফতানি প্রতিযোগিতা কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শুল্ক নীতিও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সরকারের মতে, তিন বছর অতিরিক্ত সময় পাওয়া গেলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে প্রস্তুতি জোরদার করা সম্ভব হবে। যেমন- সামষ্টিক অর্থনীতি আরও স্থিতিশীল করা, কাঠামোগত সংস্কার এগিয়ে নেওয়া, রফতানি খাতের বহুমুখীকরণ, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) প্রস্তুতি। তবে অর্থনীতিবিদরা সময় বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, বাংলাদেশ এখনও তিনটি প্রধান সূচকেই নির্ধারিত সীমার ওপরে রয়েছে।

নতুন বছরে অর্থনীতি নিয়ে ভালো কিছু কি আশা করা যায়?

ফলে সময় বাড়ানোর জন্য শক্তিশালী যুক্তি উপস্থাপন করা প্রয়োজন হবে। সাধারণত অন্তত দুটি সূচকে উল্লেখযোগ্য অবনতি দেখা গেলে উত্তরণ বিলম্বের প্রশ্ন আসে। শুধুমাত্র সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপ দেখিয়ে সময় বাড়ানো পাওয়া সহজ হবে না। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘এলডিসি উত্তরণ একটি সূচকভিত্তিক প্রক্রিয়া এবং এটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে না।’ সব মিলিয়ে এলডিসি উত্তরণকে ঘিরে বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জনের গর্ব, অন্যদিকে অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও বাণিজ্যিক ঝুঁকি- এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজে পাওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারের আবেদন গৃহীত হবে কিনা, তা নির্ভর করবে জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটির মূল্যায়ন এবং পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্তের ওপর। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এলডিসি উত্তরণ শুধু একটি মর্যাদার বিষয় নয়, এটি অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং নীতিনির্ধারণের জন্য একটি বড় মোড় ঘোরানোর মুহূর্ত। আর সেই মোড়ে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ এখনই ধনী দেশের পথে হাটতে চাইছে না। স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও বাংলাদেশ গরীব দেশের কাতারেই থাকতে চাইছে। এখনও প্রত্যাশা থেকে দূরে বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫৫ বছরে বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়নি। মুক্তিসংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-আদর্শও অক্ষুণ্ন থাকেনি। রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদসহ বিশিষ্টজনের দাবি, রাজনীতি, অর্থনীতি ও শিক্ষা খাতে সুদীর্ঘ সময়ে বাংলাদেশ যতটা এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল, বাস্তবে তা ব্যাহত হয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতাই এর বড় কারণ। এই ৫৫ বছরের বাংলাদেশে সুশাসন ও মানবাধিকার পরিস্থিতি মানবেতর অবস্থার ভেতর দিয়ে গেছে। নারী অগ্রগতি ঘটলেও নারীদের অংশীদারত্বের উন্নয়ন ঘটেনি। শ্রমিক কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে পরিচিতি পায়নি, অতিসম্প্রতি কূটনীতিক সম্পর্ক বিনষ্ট হয়েছে। বাণিজ্য পরিস্থিতির রুগ্নদশায়। একের পণ্যের (তৈরি পোশাক) ওপার বাংলাদেশের বাণিজ্য নির্ভশীল হয়ে আছে। আর্থ-সামাজিক সূচকে এগিয়ে গেলেও কল্যাণকর রাষ্ট্রের ভূমিকায় নেই ৫৫ বছরের বাংলাদেশ। অর্থনীতির আয়তন বাড়লেও বেড়েছে ধনী-গরীব বৈষম্য। জিডিপিতে উল্লম্ফন ঘটেছে। রপ্তানিমুখী শিল্প, উৎপাদনমুখী শিল্পের প্রসার ঘটেছে। কৃষি উৎপাদন বেড়েছে। ৫৫ বছরের পুরনো বাংলাদেশে উৎপাদনশিল্প যেভাবে বেড়েছে, তাতে নিরাপদ খাদ্য পাওয়া মুশকিল হয়ে উঠেছে। নিরাপদ পানি পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবেশগত সমস্যা প্রবল হয়ে উঠেছে। চোরাই টাকার অর্থনীতির দাপট বেড়েছে। কিন্তু কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সংকট সৃষ্টি করেছে। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের বিকাশ ঘটেছে। প্রাণ-প্রকৃতি ঝুঁকিতে পড়েছে। ফলে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তাঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বাংলাদেশে শিক্ষা ও চিকিৎসা জনগণের জন্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বরং শিক্ষা ও চিকিৎসা দুটি খাতেই বাণিজ্যিকীকরণ ও নৈরাজ্যকীকরণ বেড়েছে। বাংলাদেশে নারীরা এখনো অংশীদারত্বের জায়গায় আসতে পারেনি। কিন্তু সব সেক্টরে নারীশ্রম অর্থনৈতিক জায়গাকে সচল রেখেছে। রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা খাত, শ্রমন্নোয়নসহ সব সেক্টরের উন্নয়নে নারীর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। কিন্তু নীতিনির্ধারণী জায়গায় নারীর অংশীদারত্ব ফাঁকা। ৫৫ বছর পরে এসেও বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিকরূপ পায়নি। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-আদর্শের রাজনীতি হোঁচট খেয়েছে। হারিয়ে গেছে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা সমতা-ন্যায্যতা ও মানবতা। যে আদর্শ নিয়ে বাংলাদেশ বিনির্মাণ হয়েছিল, তা বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে, চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজনীতির উত্থান ঘটেছে। তাই বাংলাদেশকে তার স্বাধীনতার প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে আগামী দিনে ভারসাম্যপূর্ণ ও টেকসই উন্নয়ন নীতিমালায় মনোযোগী হতে হবে। টেকসই অর্থনীতির ভিত্তি তৈরি করতে হলে গোষ্ঠীস্বার্থ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালিত করতে হবে। শিক্ষা খাতকে ইউনিফাইড জায়গায় নিয়ে আসতে হবে। লেখক: অর্থনৈতিক বিশ্লেষক