যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও কঠোর বাণিজ্য নীতির পথে হাঁটলেন। পেটেন্টধারী ওষুধ আমদানিতে একেবারে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়ে তিনি বৈশ্বিক ওষুধ বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছেন। এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে নিজস্ব উৎপাদন বাড়ানো এবং সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তা জোরদার করা।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নীতির পটভূমি
এক বছর আগে পারস্পরিক শুল্ক নীতির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের ওপর চাপ তৈরি করার পর এবার সরাসরি ওষুধ খাতে বড় পদক্ষেপ নিলেন ট্রাম্প। তদন্তের ভিত্তিতে জাতীয় নিরাপত্তা এবং সরবরাহ ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আপাতত জেনেরিক বা সাধারণ ওষুধ এই শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে, যদিও ভবিষ্যতে এ ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন কর্মকর্তারা।
![]()
ভারতের জন্য স্বস্তি নাকি সাময়িক সুযোগ
ভারতের জন্য এই সিদ্ধান্তে একটি বড় স্বস্তির দিক হলো জেনেরিক ওষুধের ছাড়। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রপ্তানিকৃত ওষুধের প্রায় ৯০ শতাংশই জেনেরিক। ফলে স্বল্পমেয়াদে ভারতের সস্তা ওষুধ রপ্তানি বড় ধাক্কা খাবে না। বরং এই ছাড় ভারতের ওষুধ শিল্পকে কিছুটা সময় দেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি দীর্ঘমেয়াদে নিশ্চিন্ত থাকার মতো পরিস্থিতি নয়। কারণ ভবিষ্যতে যদি জেনেরিক উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের চাপ বাড়ে, তাহলে এই সুবিধা উঠে যেতে পারে।
বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় সম্ভাব্য প্রভাব
পেটেন্টধারী ওষুধ ও কাঁচামালের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের ফলে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে যেসব ভারতীয় প্রতিষ্ঠান বহুজাতিক কোম্পানির জন্য চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন বা কাঁচামাল সরবরাহ করে, তাদের ওপর এর চাপ পড়তে পারে।
![]()
শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, আপাতত বড় ধরনের বিপর্যয় না ঘটলেও নীতিগত অনিশ্চয়তা বাড়বে। ফলে বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় সতর্ক অবস্থান নিতে বাধ্য হবে ওষুধ কোম্পানিগুলো।
অন্য দেশগুলোর জন্য ভিন্ন চিত্র
এই নীতির আওতায় বড় কোম্পানিগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন স্থাপনের পরিকল্পনা দিতে বলা হয়েছে। যারা ইতিমধ্যে এমন চুক্তি করেছে বা বিশেষ মূল্য সুবিধা পেয়েছে, তাদের জন্য শুল্ক কম রাখা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডের মতো দেশগুলো তুলনামূলক কম শুল্কের মুখোমুখি হবে।
সামনে কী অপেক্ষা করছে
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব বাণিজ্যে সুরক্ষাবাদী প্রবণতা আরও জোরদার করবে। ভারতের জন্য এটি এখন সুযোগ এবং সতর্কবার্তা—দুটোই। স্বল্পমেয়াদে সুবিধা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে বাজার ধরে রাখতে কৌশলগত প্রস্তুতি জরুরি হয়ে উঠছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















