যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ক্ষোভ ও হুঁশিয়ারিতে উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোট নাটো এক নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিশেষজ্ঞ ও কূটনীতিকদের মতে, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই জোট এখন তার ইতিহাসের অন্যতম দুর্বল অবস্থানে পৌঁছেছে।
ইরান যুদ্ধ ঘিরে জোটে ফাটল
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত ইউরোপ থেকে বহু দূরে হলেও এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে নাটো জোটে। ইউরোপীয় দেশগুলো হরমুজ প্রণালীতে নৌবাহিনী পাঠাতে অনাগ্রহ দেখানোয় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন ট্রাম্প। এর জেরে তিনি জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান নাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা নীতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এতদিন যে নিরাপত্তা কাঠামো ইউরোপের ভরসা ছিল, সেটি এখন দুর্বল হয়ে পড়ছে।

ইউরোপে বাড়ছে উদ্বেগ
ইউরোপীয় নেতারা দীর্ঘদিন ধরে নাটোর ওপর নির্ভরশীল ছিলেন, বিশেষ করে রাশিয়ার মতো শক্তির মোকাবিলায়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেকেই মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চিন্তা এখন বাস্তবতা হয়ে উঠছে।
ফ্রান্সের সাবেক সামরিক প্রধান জেনারেল ফ্রাঁসোয়া লেকোয়াঁত্রে বলেছেন, নাটো এখনো প্রয়োজনীয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া এই জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবতে হবে। এমনকি জোটের নাম ও কাঠামো নিয়েও নতুন প্রশ্ন উঠছে।
‘একতরফা নয়’—যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, নাটো কোনো একতরফা ব্যবস্থা নয়। ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, সংকটের সময়ে মিত্রদের সহায়তা না পাওয়ায় তারা হতাশ। তবে ইউরোপীয় কর্মকর্তারা দাবি করছেন, নির্দিষ্ট কোনো সহায়তার অনুরোধ তারা পাননি।
এই মতবিরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলো মনে করছে, তারা নিজেদের প্রতিরক্ষা দায়িত্ব বাড়াতে ইতোমধ্যেই চেষ্টা চালাচ্ছে।

সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট
সম্প্রতি বিভিন্ন ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও প্রকাশ্যে এসেছে। রাশিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কিছু নমনীয় অবস্থান এবং জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে নেওয়া সিদ্ধান্ত ইউরোপে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
কূটনৈতিক পর্যায়েও উত্তেজনা বেড়েছে। বৈঠকে মতবিরোধ, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগে সম্পর্কের অবনতি স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
আইনগত বাধা, তবুও ঝুঁকি
যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট এককভাবে নাটো থেকে বের হতে পারেন না। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, চাইলে ট্রাম্প সামরিক সহায়তা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, যা জোটের কার্যকারিতা ভেঙে দিতে পারে।
ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট হয়তো নাটোর সম্পূর্ণ ভাঙনের ইঙ্গিত নয়, তবে জোটের চরিত্র বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে যে আন্তঃমহাদেশীয় সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, তা এখন এক নতুন মোড়ে দাঁড়িয়ে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















