ইরানের আকাশে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। দুই পক্ষই এখন বিমানের পাইলটের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে, আর একই সঙ্গে নতুন করে হামলার হুমকি দিয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুদ্ধের নতুন মোড়, পাইলটের খোঁজে তল্লাশি
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যেখানে বিমানটি ভূপাতিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে জোর তল্লাশি চলছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পাইলটকে আটক বা হত্যার ক্ষেত্রে পুরস্কার দেওয়া হবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক সামরিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে এবং পাইলটের সন্ধানে অভিযান চলছে। তবে বিমানটির ধরন নিয়ে স্পষ্ট তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।

আকাশে নিয়ন্ত্রণের দাবি প্রশ্নের মুখে
এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ নিয়ন্ত্রণের দাবি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী আগে বলেছিলেন, ইরানের আকাশ পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু এই ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা সেই দাবিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
প্রায় পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘাতে ইতোমধ্যেই হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, এবং যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
অবকাঠামোতে আরও হামলার হুমকি
ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের অবশিষ্ট অবকাঠামো ধ্বংস করা এখনো শুরুই হয়নি। তিনি সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এরই মধ্যে তেহরানের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে হামলার ভিডিও প্রকাশ করে তিনি জানান, সামনে আরও বড় হামলা আসছে।
পাল্টা আঘাতে ইরান, উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা
চাপের মুখেও ইরান পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। কুয়েতে একটি পানি ও বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সৌদি আরব ও আবুধাবিতেও হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

হরমুজ প্রণালী ঘিরে অর্থনৈতিক সংকট
বিশ্ব অর্থনীতির ওপর এই যুদ্ধের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, অল্প সময়ের মধ্যেই এই প্রণালী খুলে দেওয়া সম্ভব এবং এতে বড় অর্থনৈতিক লাভ হবে। তবে বাস্তবে পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত।
আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। শতাধিক আইন বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেছেন, বেসামরিক স্থাপনায় হামলা মানবাধিকার ও মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হতে পারে।
ইরানও অভিযোগ করেছে, তাদের হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ওষুধ সরবরাহ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে।
বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা
যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারেও। তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে, আর খাদ্যদ্রব্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে সার সরবরাহে বাধা তৈরি হওয়ায় এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোতে মানবিক সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















