কলকাতার শ্যামপুকুর বিধানসভা আসন, যা দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্গ হিসেবে পরিচিত, এবারও নজর কাড়ছে রাজনৈতিক চাঞ্চল্যের কারণে। তিনবারের বিধায়ক এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী শশী পঞ্জা এই আসনের মুখ। তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা পরিবারিক ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে—প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজিত পঞ্জার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার হিসেবে এই আসনটি দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের কাবুতে।
শ্যামপুকুরের ভোটাররা পঞ্জাকে শুধু নেত্রী হিসেবেই নয়, প্রতিবেশী এবং পরিবারের সদস্য হিসেবে দেখেন। “এই এলাকা আমার ঘর, সবাই আমার পরিবার। আমি এখানে সবসময় তাদের পাশে থাকব,” বলছিলেন পঞ্জা, পথচারী ও বাসিন্দাদের সঙ্গে আলাপ করতে করতে।
প্রচারণার সকাল ও ভোটারের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ
প্রতিদিন ভোর ৮.৩০ মিনিটে পঞ্জা শুরু করেন তাঁর প্রচারণা, কন্যা পূজার সঙ্গে হাতে তৃণমূলের পতাকা। narrow লেনপথ থেকে শুরু করে আধুনিক হাইরাইজ পর্যন্ত পায়ে হেঁটে হেঁটে তিনি ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন। বাসিন্দারা তাঁকে চা-মিষ্টি দিয়ে আদর জানাচ্ছেন, কেউ কেউ সেলফি তুলছেন—এই দৃশ্যই প্রমাণ করছে, পঞ্জার জনপ্রিয়তা কতটা গভীর।

SIR: ভোটারদের উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু
এবারের ভোটে সবচেয়ে আলোচ্য বিষয় হলো ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)। পঞ্জা এটিকে “মায়াহীন এবং বিভ্রান্তিকর প্রক্রিয়া যা বৈধ ভোটারদের বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে” হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “আমার আসনের ২,০৮১ জন ভোটারের নাম এই প্রক্রিয়ায় মুছে ফেলা হয়েছে। সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন, অনেকেই জানতে চাইছেন তাদের শুনানি কবে। আমাদের দায়িত্ব হলো তাদের পাশে থাকা।”
নিজের অভিজ্ঞতাও তিনি শেয়ার করেন। “আমার নামও লজিকাল ডিসক্রিপ্যানসি তালিকায় ছিল। যদিও আমার সমস্ত কাগজপত্র ঠিক ছিল, আমাকে অ্যাডজুডিকেশন প্রক্রিয়ায় হাজির হতে বলা হয়েছিল। আমার ভোটাররাও চিন্তিত ছিলেন। এই ধরনের ঘটনা মানুষের ভোটাধিকারকে প্রভাবিত করছে।”
প্রতিদ্বন্দ্বীর আক্রমণ ও পঞ্জার জবাব
বিজেপির পূর্ণিমা চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, শ্যামপুকুরের উন্নয়ন পঞ্জার মেয়াদে হয়নি। “রাস্তা খারাপ, মহিলারা নিরাপদ নয়। যদি এই নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রী নিজের আসন উন্নয়ন করতে পারে না, তাহলে রাজ্যকে কি করবে?”

পঞ্জা অভিযোগের জবাবে বলেন, “বিজেপি বাংলাকে বাংলাদেশি ভাষার সঙ্গে তুলনা করে ভোট চাইছে। এটি কৃত্রিম এবং ভিত্তিহীন। তারা এখন নিজেদের জালে ফেঁসে গেছে।”
শ্যামপুকুরের ভোট কেবল একটি আসনের লড়াই নয়; এটি ভোটারদের আস্থা, তাদের নিরাপত্তা এবং ভোটাধিকার রক্ষার প্রতীক। শশী পঞ্জা মনে করেন, “আমার কাছে ভোটাররা পরিবারের মতো। তাদের পাশে দাঁড়ানোই আমার প্রধান কর্তব্য।”
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















