০৪:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬
হাম রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান, শিশুরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে ফ্রান্সে মুসলিমদের সমাবেশ নিষিদ্ধ, নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখিয়ে সরকার সিদ্ধান্ত আইপিওতে নতুন খেলা: সূচক নীতিমালা বদলে ঝুঁকির মুখে বিনিয়োগকারীরা ইরান যুদ্ধে কুয়েতে আটকা বাংলাদেশিদের পাশে দাঁড়াল ঢাকা, মানবিক সহায়তার প্রস্তাব হাঙ্গেরির নির্বাচন: ক্ষমতার দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে জনরায়ের লড়াই ৫২ বছর পর মানুষ চাঁদের পথে — আর্টেমিস-২ মহাকাশযান সফলভাবে চন্দ্রকক্ষের দিকে রওনা মার্চে রেমিট্যান্স রেকর্ড, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪.৪৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খাদ্য সহায়তা কমিয়ে ৭ ডলারে, বিক্ষোভে উত্তাল কক্সবাজার যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধনীতিতে অভাব ও ইরানের প্রস্তাবিত সমাধান: ট্রাম্পের কৌশল কি বদলাবে বিশ্বকে বদলে দিতে ‘এপস্টেইনের পাঠ’: লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে এখনই সময়

ইরানে বিরোধী শক্তি দমনে কঠোর শাসন, সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে ওঠাই বড় বাধা

ইরানে ক্ষমতাসীন শাসনব্যবস্থা শুধু ভিন্নমত দমনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সংগঠিত বিরোধিতা গড়ে ওঠার পথই বন্ধ করে দিতে বহু বছর ধরে সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। নজরদারি, ভীতি প্রদর্শন, গ্রেপ্তার ও হত্যার মাধ্যমে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে যেখানে বিরোধীরা একত্রিত হওয়ার আগেই ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে।

সংগঠিত হওয়ার আগেই দমন

দেশের ভেতরে বিরোধী মতের লোকজনের ওপর নজরদারি এতটাই ব্যাপক যে যেকোনো ধরনের সংগঠন তৈরি হওয়ার আগেই তা ভেঙে দেওয়া হয়। বহু ক্ষেত্রে বিরোধী নেতাদের গ্রেপ্তার বা গুম করা হয়েছে। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, শাসকগোষ্ঠী তাদের শক্তির বড় অংশ ব্যয় করে এই সংগঠিত প্রতিরোধ ঠেকাতে।

সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বাইরে থেকে সরকার পরিবর্তনের আহ্বান এলেও দেশের ভেতরে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই—কীভাবে? কারণ দীর্ঘদিন ধরে তৈরি করা ভয়ভীতি ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা মানুষকে সংগঠিত হতে দিচ্ছে না।

Why There's No Organized Opposition Inside Iran Waiting to Take Over

ইতিহাসের শিক্ষা ও বর্তমান বাস্তবতা

১৯৭৯ সালের বিপ্লবে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে শাসনব্যবস্থা বদলে ফেলেছিল। তবে সেই সময় আন্দোলনের পেছনে ছিল সংগঠিত শক্তি এবং সেনাবাহিনীর নিরপেক্ষ অবস্থান। বর্তমান শাসনব্যবস্থা সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিশ্চিত করেছে, এমন পরিস্থিতি যেন আর কখনো তৈরি না হয়।

হত্যা থেকে কারাবন্দি—দমন কৌশলের পরিবর্তন

আশির ও নব্বইয়ের দশকে বহু বিরোধী নেতা ও কর্মীকে হত্যা করা হয়, এমনকি বিদেশেও টার্গেট করা হয়। পরে সেই কৌশল বদলে গ্রেপ্তার ও কারাবন্দি করার প্রবণতা বাড়ে। রাজনৈতিক বন্দিদের জিজ্ঞাসাবাদে এমনভাবে তথ্য উপস্থাপন করা হয় যেন রাষ্ট্র তাদের জীবনের প্রতিটি খুঁটিনাটি জানে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়।

প্রতিবাদে অংশ নিলে পরে মোবাইলে হুমকির বার্তা পৌঁছে যায়—এতে অনেকেই আর সামনে আসতে চান না।

Iran's heavy hand - 28 Mar 2026 - Time Magazine Europe - Readly

গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত নিয়ন্ত্রণ

এক সময় যেখানে গ্রামের মানুষ সরকারের উপস্থিতি খুব কম অনুভব করত, এখন সেখানেও নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বেড়েছে। ছোট ছোট ঘাঁটি তৈরি করে গোটা দেশে নজরদারির জাল বিস্তার করা হয়েছে।

বিরোধীদের বিভক্তি বড় চ্যালেঞ্জ

বর্তমানে যেসব বিরোধী গোষ্ঠী সক্রিয়, তাদের মধ্যে ঐক্যের অভাব স্পষ্ট। নির্বাসিত রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংগঠন—সবাই আলাদা পথে এগোচ্ছে। কেউ কেউ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, আবার কেউ বিকল্প সরকার গঠনের কথা বলছে।

এদিকে কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর স্বায়ত্তশাসনের দাবি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে, কারণ এতে দেশের ভেতরে বিভক্তির আশঙ্কা বাড়ছে।

তুরস্কের অভিযানের শিকার কুর্দি জনগোষ্ঠী কারা? - BBC News বাংলা

ঐক্যের নতুন চেষ্টা

সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন বিরোধী গোষ্ঠী একসঙ্গে আসার চেষ্টা শুরু করেছে। একটি বড় সম্মেলনের মাধ্যমে তারা যৌথভাবে ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণের উদ্যোগ নিচ্ছে। তবে তাদের অবস্থান স্পষ্ট—শান্তিপূর্ণ পরিবর্তনই লক্ষ্য, সামরিক হস্তক্ষেপ নয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

হাম রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান, শিশুরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে

ইরানে বিরোধী শক্তি দমনে কঠোর শাসন, সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে ওঠাই বড় বাধা

০২:৫১:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

ইরানে ক্ষমতাসীন শাসনব্যবস্থা শুধু ভিন্নমত দমনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সংগঠিত বিরোধিতা গড়ে ওঠার পথই বন্ধ করে দিতে বহু বছর ধরে সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। নজরদারি, ভীতি প্রদর্শন, গ্রেপ্তার ও হত্যার মাধ্যমে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে যেখানে বিরোধীরা একত্রিত হওয়ার আগেই ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে।

সংগঠিত হওয়ার আগেই দমন

দেশের ভেতরে বিরোধী মতের লোকজনের ওপর নজরদারি এতটাই ব্যাপক যে যেকোনো ধরনের সংগঠন তৈরি হওয়ার আগেই তা ভেঙে দেওয়া হয়। বহু ক্ষেত্রে বিরোধী নেতাদের গ্রেপ্তার বা গুম করা হয়েছে। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, শাসকগোষ্ঠী তাদের শক্তির বড় অংশ ব্যয় করে এই সংগঠিত প্রতিরোধ ঠেকাতে।

সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বাইরে থেকে সরকার পরিবর্তনের আহ্বান এলেও দেশের ভেতরে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই—কীভাবে? কারণ দীর্ঘদিন ধরে তৈরি করা ভয়ভীতি ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা মানুষকে সংগঠিত হতে দিচ্ছে না।

Why There's No Organized Opposition Inside Iran Waiting to Take Over

ইতিহাসের শিক্ষা ও বর্তমান বাস্তবতা

১৯৭৯ সালের বিপ্লবে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে শাসনব্যবস্থা বদলে ফেলেছিল। তবে সেই সময় আন্দোলনের পেছনে ছিল সংগঠিত শক্তি এবং সেনাবাহিনীর নিরপেক্ষ অবস্থান। বর্তমান শাসনব্যবস্থা সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিশ্চিত করেছে, এমন পরিস্থিতি যেন আর কখনো তৈরি না হয়।

হত্যা থেকে কারাবন্দি—দমন কৌশলের পরিবর্তন

আশির ও নব্বইয়ের দশকে বহু বিরোধী নেতা ও কর্মীকে হত্যা করা হয়, এমনকি বিদেশেও টার্গেট করা হয়। পরে সেই কৌশল বদলে গ্রেপ্তার ও কারাবন্দি করার প্রবণতা বাড়ে। রাজনৈতিক বন্দিদের জিজ্ঞাসাবাদে এমনভাবে তথ্য উপস্থাপন করা হয় যেন রাষ্ট্র তাদের জীবনের প্রতিটি খুঁটিনাটি জানে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়।

প্রতিবাদে অংশ নিলে পরে মোবাইলে হুমকির বার্তা পৌঁছে যায়—এতে অনেকেই আর সামনে আসতে চান না।

Iran's heavy hand - 28 Mar 2026 - Time Magazine Europe - Readly

গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত নিয়ন্ত্রণ

এক সময় যেখানে গ্রামের মানুষ সরকারের উপস্থিতি খুব কম অনুভব করত, এখন সেখানেও নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বেড়েছে। ছোট ছোট ঘাঁটি তৈরি করে গোটা দেশে নজরদারির জাল বিস্তার করা হয়েছে।

বিরোধীদের বিভক্তি বড় চ্যালেঞ্জ

বর্তমানে যেসব বিরোধী গোষ্ঠী সক্রিয়, তাদের মধ্যে ঐক্যের অভাব স্পষ্ট। নির্বাসিত রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংগঠন—সবাই আলাদা পথে এগোচ্ছে। কেউ কেউ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, আবার কেউ বিকল্প সরকার গঠনের কথা বলছে।

এদিকে কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর স্বায়ত্তশাসনের দাবি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে, কারণ এতে দেশের ভেতরে বিভক্তির আশঙ্কা বাড়ছে।

তুরস্কের অভিযানের শিকার কুর্দি জনগোষ্ঠী কারা? - BBC News বাংলা

ঐক্যের নতুন চেষ্টা

সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন বিরোধী গোষ্ঠী একসঙ্গে আসার চেষ্টা শুরু করেছে। একটি বড় সম্মেলনের মাধ্যমে তারা যৌথভাবে ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণের উদ্যোগ নিচ্ছে। তবে তাদের অবস্থান স্পষ্ট—শান্তিপূর্ণ পরিবর্তনই লক্ষ্য, সামরিক হস্তক্ষেপ নয়।