০৯:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
সংঘাত থেকে বিচ্ছিন্নতা: নতুন বিশ্বব্যবস্থায় ইরানের কৌশলগত সংকট মোদির পাকিস্তান নীতি: সংলাপহীনতার আড়ালে কি আঞ্চলিক আধিপত্যের রাজনীতি? বিদ্যুৎ সংকটের নেপথ্যে জ্বালানি, ডলার, বকেয়া ও আস্থার সংকট উত্তর বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, ৩ নম্বর সতর্কসংকেত জারি ছাত্র বিক্ষোভ নিয়ে সংসদে অমিত শাহের লেকচার শুনতে আগ্রহী নই: রাহুল গান্ধী লোহিত সাগর ও ওমান উপসাগরে একদিনে তিন জাহাজে হামলা, নিহত ৬; ৩ পাকিস্তানি ট্রাম্পকে গোপনে সরিয়ে নেওয়া হয় এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে, ইরানি হামলার আশঙ্কায় চমকপ্রদ নিরাপত্তা অভিযান তালেবান শাসনে ২৪ লাখ আফগান কিশোরীর মাধ্যমিক শিক্ষা বন্ধ, অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান ইউনেস্কোর বাইডেনের স্বাস্থ্য সংকট ডেমোক্র্যাটদের গভীর রাজনৈতিক সংকটও উন্মোচন করছে লোডশেডিং ঘিরে আতঙ্ক, বিদ্যুৎ অফিসে নিরাপত্তা চেয়ে থানায় আবেদন

ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড বিলুপ্তির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাল এবিবি

দেশের বৃহত্তম বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করার বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী ও বিচক্ষণ পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)। সংগঠনটির মতে, এই সিদ্ধান্ত ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সোমবার এবিবির চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশরুর আরেফিনের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে চলমান সংকট একটি একক প্রতিষ্ঠানের সীমা ছাড়িয়ে পুরো ব্যাংকিং খাতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছিল। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপে স্বস্তি প্রকাশ করেছে দেশের ব্যাংক নির্বাহীদের শীর্ষ সংগঠনটি।

সংকট নিয়ে আগে থেকেই উদ্বেগ

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১০ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে এবিবি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছিল। সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছিল, পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে তা ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এবিবির ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংকের পরিস্থিতি আর কেবল একটি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সমস্যা ছিল না; এর প্রভাব গোটা আর্থিক খাতে অনুভূত হচ্ছিল। তাই দ্রুত সমাধান ব্যাংকিং শিল্পের জন্য উপকারী হবে বলে তারা মত দিয়েছিল।

রাজনৈতিক মাত্রা ও সমাধানের চেষ্টা

সংগঠনটি জানায়, বিষয়টি রাজনৈতিক মাত্রা লাভ করায় তারা আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ ও ঐকমত্যের মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পদক্ষেপকে তারা প্রশংসনীয় বলে মনে করছে।

এবিবি আশা করছে, নতুন প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং আমানতকারী, বিনিয়োগকারী ও অন্যান্য অংশীজনের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে।

জাতীয় অর্থনীতিতে ইসলামী ব্যাংকের গুরুত্ব

বিবৃতিতে ইসলামী ব্যাংকের ব্যাপক কার্যক্রম ও অর্থনীতিতে এর ভূমিকার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। প্রায় তিন কোটি গ্রাহক, বিশাল আমানত ও বিনিয়োগ পোর্টফোলিও, দেশের অন্যতম বৃহৎ রেমিট্যান্স নেটওয়ার্ক এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অর্থায়নে উল্লেখযোগ্য অংশীদারিত্বের কারণে ব্যাংকটির স্থিতিশীলতা জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত বলে মনে করে এবিবি।

সংগঠনটি উল্লেখ করে, সম্প্রতি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত বিক্ষোভ ব্যাংকিং খাতে শাসনব্যবস্থা, তারল্য সংরক্ষণ এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল। অন্তর্বর্তী প্রশাসন নিয়োগের মাধ্যমে এসব উদ্বেগ প্রশমিত হবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

সুশাসন ও খেলাপি ঋণ আদায়ে জোর

ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে এবিবি। এর মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী সুশাসন প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংকিং পরিবেশ গড়ে তোলা এবং বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ দ্রুত পুনরুদ্ধার করা।

সংগঠনটির মতে, এসব পদক্ষেপ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ইসলামী ব্যাংক আবারও দেশের ব্যাংকিং খাতে আস্থার প্রতীক হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারবে।

ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড বিলুপ্তি

ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড বিলুপ্তির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে এবিবি বলেছে, এই পদক্ষেপ ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সংঘাত থেকে বিচ্ছিন্নতা: নতুন বিশ্বব্যবস্থায় ইরানের কৌশলগত সংকট

ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড বিলুপ্তির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাল এবিবি

০৫:৫৩:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

দেশের বৃহত্তম বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করার বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী ও বিচক্ষণ পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)। সংগঠনটির মতে, এই সিদ্ধান্ত ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সোমবার এবিবির চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশরুর আরেফিনের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে চলমান সংকট একটি একক প্রতিষ্ঠানের সীমা ছাড়িয়ে পুরো ব্যাংকিং খাতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছিল। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপে স্বস্তি প্রকাশ করেছে দেশের ব্যাংক নির্বাহীদের শীর্ষ সংগঠনটি।

সংকট নিয়ে আগে থেকেই উদ্বেগ

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১০ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে এবিবি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছিল। সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছিল, পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে তা ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এবিবির ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংকের পরিস্থিতি আর কেবল একটি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সমস্যা ছিল না; এর প্রভাব গোটা আর্থিক খাতে অনুভূত হচ্ছিল। তাই দ্রুত সমাধান ব্যাংকিং শিল্পের জন্য উপকারী হবে বলে তারা মত দিয়েছিল।

রাজনৈতিক মাত্রা ও সমাধানের চেষ্টা

সংগঠনটি জানায়, বিষয়টি রাজনৈতিক মাত্রা লাভ করায় তারা আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ ও ঐকমত্যের মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পদক্ষেপকে তারা প্রশংসনীয় বলে মনে করছে।

এবিবি আশা করছে, নতুন প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং আমানতকারী, বিনিয়োগকারী ও অন্যান্য অংশীজনের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে।

জাতীয় অর্থনীতিতে ইসলামী ব্যাংকের গুরুত্ব

বিবৃতিতে ইসলামী ব্যাংকের ব্যাপক কার্যক্রম ও অর্থনীতিতে এর ভূমিকার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। প্রায় তিন কোটি গ্রাহক, বিশাল আমানত ও বিনিয়োগ পোর্টফোলিও, দেশের অন্যতম বৃহৎ রেমিট্যান্স নেটওয়ার্ক এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অর্থায়নে উল্লেখযোগ্য অংশীদারিত্বের কারণে ব্যাংকটির স্থিতিশীলতা জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত বলে মনে করে এবিবি।

সংগঠনটি উল্লেখ করে, সম্প্রতি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত বিক্ষোভ ব্যাংকিং খাতে শাসনব্যবস্থা, তারল্য সংরক্ষণ এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল। অন্তর্বর্তী প্রশাসন নিয়োগের মাধ্যমে এসব উদ্বেগ প্রশমিত হবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

সুশাসন ও খেলাপি ঋণ আদায়ে জোর

ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে এবিবি। এর মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী সুশাসন প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংকিং পরিবেশ গড়ে তোলা এবং বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ দ্রুত পুনরুদ্ধার করা।

সংগঠনটির মতে, এসব পদক্ষেপ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ইসলামী ব্যাংক আবারও দেশের ব্যাংকিং খাতে আস্থার প্রতীক হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারবে।

ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড বিলুপ্তি

ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড বিলুপ্তির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে এবিবি বলেছে, এই পদক্ষেপ ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে।