প্রতিরোধযোগ্য রোগে মৃত্যুর মিছিল
বাংলাদেশ একসময় সফলভাবে হাম নিয়ন্ত্রণে এনেছিল। সেই রোগই এখন আবার শিশুদের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত হাম ও এর জটিলতায় ৫০-এরও বেশি শিশু মারা গেছে। হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিপর্যয়ের পেছনে রয়েছে রাষ্ট্রীয় অবহেলা এবং টিকা কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের ঘাটতি।
কীভাবে এই সংকট তৈরি হলো
দ্য ডেইলি স্টারসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, ২০২৩ সাল থেকে দেশে শিশু টিকার হার কমতে শুরু করেছিল। ২০২৪ সালের জুনে নির্ধারিত বিশেষ হাম-রুবেলা প্রচারণা রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে স্থগিত হয়। এরপর ওষুধ ও টিকা সংগ্রহে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তোলে। কেন্দ্রীয় টিকা মজুত প্রায় শেষ হয়ে যায় এবং সিরিঞ্জ সংকটের কারণে প্রচারণাও বারবার আটকে যায়।

শিশুরা কোথায় মারা যাচ্ছে
ঢাকার মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চলতি মাসেই ২১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে মারা গেছে ৬ জন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ জন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪ জন। রাজশাহী, পাবনা ও নাটোরেও মৃত্যুর খবর এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে, তাদের মধ্যে মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেশি।

এখন কী হচ্ছে
সরকার ৫ এপ্রিল থেকে জরুরি টিকা প্রচারণা শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ঘোষণাই যথেষ্ট নয়। ঘরে ঘরে গিয়ে টিকা দেওয়া, সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং হাসপাতালে আইসিইউ সক্ষমতা বাড়ানো এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ৬ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী সব শিশুকে দ্রুততার সঙ্গে টিকার আওতায় আনতে হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















