ভোটের আগে চরম ভোগান্তি, ট্রাইব্যুনালের সামনে দীর্ঘ অপেক্ষা
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে রাজ্যজুড়ে অস্থিরতা বাড়ছে। বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় (এসআইআর) যাদের নাম বাদ গেছে, তারা আবার তালিকায় নাম তুলতে ট্রাইব্যুনালে ভিড় করছেন। একাধিক জেলায় ট্রাইব্যুনাল কেন্দ্রের বাইরে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে, যেখানে মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন।
নদিয়ায় বিশেষ ট্রাইব্যুনালের সামনে সোমবার সকাল থেকেই ভিড় জমে। একই চিত্র দেখা যায় পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া ও উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে। কাটোয়ার মহকুমা অফিসের বাইরে ভোর থেকেই মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদন জমা দেন। বারাসতের জেলা শাসকের দফতরের সামনেও একই দৃশ্য চোখে পড়ে।
বিশৃঙ্খলা ও ক্ষোভ
কাটোয়ায় ভিড় নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। তবুও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হিমশিম খেতে হয় প্রশাসনকে। শত শত মানুষ দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করায় এলাকায় বিশৃঙ্খলা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
অনেকেই অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় সব নথি জমা দেওয়ার পরও তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এক বাসিন্দা জানান, “২০০২ সালের তালিকায় আমাদের নাম ছিল। পাসপোর্ট, আধার—সব নথি জমা দিয়েছি, শুনানিতেও উপস্থিত ছিলাম। তারপরও নাম কেটে দেওয়া হয়েছে।” অন্যরাও একই ধরনের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বসিরহাটে বিক্ষোভ, রাস্তা অবরোধ
উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, তিনটি বুথ থেকে প্রায় ৭০০ ভোটারের নাম অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ মানুষ রাস্তায় নেমে অবরোধ করেন এবং টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান।
রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি মন্তব্য
এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, “ভোটাররা চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। আমরা মানুষের পাশে আছি। যারা বৈধ ভোটার, তাদের নাম ফেরাতে লড়াই চালিয়ে যাব।”
অন্যদিকে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন, “আগেই বলা হয়েছিল, প্রায় এক কোটি অবৈধ ভোটার বাদ পড়বে। তালিকা চূড়ান্ত হলে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।”

মালদায় বিচারক অবরুদ্ধ, তদন্তে এনআইএ
গত সপ্তাহে উত্তরবঙ্গের মালদায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগে স্থানীয়রা সাতজন বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে ঘেরাও করে রাখেন। বিষয়টি নিয়ে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, বিচারকদের ঘেরাও করা সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতার প্রতি চ্যালেঞ্জ।
এই ঘটনায় তৃণমূল ও বিজেপি একে অপরকে দোষারোপ করেছে। ইতিমধ্যে জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) বিষয়টি তদন্ত করছে।
ট্রাইব্যুনালে আপিলের সুযোগ
যেসব ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে এবং যাদের বিষয়টি বিচারাধীন, তারা রাজ্যের ২৩টি জেলায় গঠিত ১৯টি ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে পারেন। এই ট্রাইব্যুনালগুলির নেতৃত্বে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা।
ইতিমধ্যে একাধিক মামলার নিষ্পত্তিও শুরু হয়েছে। ফরাক্কার কংগ্রেস প্রার্থী মোহতাব শেখের নাম ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় পুনর্বহাল করা হয়েছে। এটি ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সমাধান হওয়া প্রথম দিকের ঘটনাগুলির মধ্যে একটি।
নির্বাচনের আগে বাড়ছে উদ্বেগ
আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। হাতে মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি থাকায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া এবং ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে রাজ্যজুড়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















