০৫:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
লেবানন যুদ্ধবিরতিতে অন্তর্ভুক্ত কি না নিয়ে ট্রাম্প-পাকিস্তানের বিরোধ, ইসলামাবাদে আজ আলোচনা ইরান যুদ্ধবিরতি হুমকিতে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ২৫০ জনের বেশি নিহত রংপুরে চিনাবাদাম চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে বাম্পার ফলন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য: সংস্কার অর্থনীতির রক্ত সঞ্চালনের মতো অপরিহার্য যুদ্ধবিরতির পর রুশ তেলে নিষেধাজ্ঞা পুনঃআরোপের দাবি জেলেনস্কির বগুড়ায় ভুয়া ভোটের ভিডিও ভাইরাল, প্রকৃত ঘটনা ভিন্ন বলে জানিয়েছে বাংলাফ্যাক্ট অস্ট্রেলিয়ার স্পিকারের ঐতিহাসিক বাংলাদেশ সফর, ১২৫ বছরে প্রথম বিশ্বব্যাংক: বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৯ শতাংশ, টানা তৃতীয় বছর দারিদ্র্য বাড়ছে ফার্মগেটে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে চালক নিহত, সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ ঢাকায় ২৪ ঘণ্টায় চার লাশ উদ্ধার, একজন ঝুলন্ত অবস্থায়

উবের রঙে বাজিমাত, স্বাদ নয়—সামাজিক মাধ্যমে নজর কাড়াই এখন বড় শক্তি

ফিলিপাইনের পরিচিত বেগুনি কন্দজাত খাবার উবে বহুদিন ধরেই সেখানকার খাদ্যসংস্কৃতির অংশ। তবে যুক্তরাষ্ট্রে এর হঠাৎ জনপ্রিয়তার পেছনে মূল কারণ স্বাদ নয়, বরং এর দৃষ্টিনন্দন বেগুনি রং। খাদ্যবিশেষজ্ঞদের মতে, এখন নতুন কোনো খাবার বাজারে সফল হতে হলে সেটিকে এমন হতে হয়, যা ছবি বা ভিডিওতে চোখে লাগে এবং সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ক্যালিফোর্নিয়ার লং বিচে দুই বছর আগে নিজের বেকারি চালু করার পর মারিয়া লেয়েসা দেখেছিলেন, তার উবে ব্রাউনি নিয়ে ক্রেতাদের কৌতূহল ছিল প্রবল। অনেকেই জানতে চাইতেন, উবে আসলে কী। ফিলিপাইনে এটি বহু পুরোনো ও পরিচিত খাদ্য হলেও যুক্তরাষ্ট্রে এখনো তা মূলধারায় পুরোপুরি ঢোকেনি। তবু ধীরে ধীরে এটি কফিশপ, আইসক্রিম, প্যানকেক মিশ্রণ এবং বিশেষ পানীয়তে জায়গা করে নিচ্ছে।

সাময়িক স্বাদের প্রতিযোগিতা

বড় খাদ্যপ্রতিষ্ঠান, রেস্তোরাঁ চেইন এবং স্থানীয় দোকান—সবাই এখন ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণে নতুন নতুন স্বাদের খোঁজে নেমেছে। বাজারে এমন এক প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে, যেখানে শুধু স্বাদ নয়, খাবারটি কতটা আলাদা, কতটা আলোচনার জন্ম দিতে পারে এবং কতটা দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতে পারে, সেটিও বড় বিষয়। বিশেষ করে সীমিত সময়ের জন্য আনা নতুন স্বাদের খাবার তরুণ প্রজন্মকে বেশি টানে। তারা নতুন কিছু চেখে দেখে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে পছন্দ করে।

Ube is enjoying a purple reign in the US. That's causing problems in the  Philippines | CNN

এই কৌশল কখনো বড় সাফল্য আনে, আবার কখনো ব্যর্থতাও ডেকে আনে। সঠিক সময়ে সঠিক স্বাদ বাজারে আনতে পারলে বিক্রি বেড়ে যায়, কিন্তু ভুল হলে পণ্য দ্রুত সরিয়েও নিতে হয়। ফলে খাদ্যপ্রস্তুতকারকদের জন্য নতুন স্বাদের খেলা এখন যেমন বড় সুযোগ, তেমনি বড় ঝুঁকিও।

উবের শক্তি তার রং

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, উবের জনপ্রিয়তার কেন্দ্রে রয়েছে এর উজ্জ্বল বেগুনি রং। মৃদু মিষ্টি, বাদামি আভা বা ভ্যানিলার মতো স্বাদের উপস্থিতি থাকলেও সেটিই মূল কারণ নয়। এখন নতুন কোনো স্বাদ বাছাইয়ের সময় অনেক প্রতিষ্ঠান প্রথমেই দেখে, সেটি ছবিতে কেমন দেখাবে। সামাজিক মাধ্যমে সহজে নজর কাড়তে পারে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উবে এই জায়গাতেই আলাদা সুবিধা পেয়েছে।

ধীরে ধীরে মূলধারায় প্রবেশ

উবে হঠাৎ করে বাজারে আসেনি। কয়েক বছর আগে এটি প্রথমে দুধচা বিক্রির দোকান ও সীমিত কিছু খাবারের তালিকায় দেখা যেতে শুরু করে। পরে বড় ব্র্যান্ডগুলো উবে-ভিত্তিক আইসক্রিম, পানীয়, কুকি, প্রেটজেল ও প্যানকেক মিশ্রণ বাজারে আনে। এরপর থেকে এটি ধীরে ধীরে আরও বেশি পরিচিতি পায়। বিভিন্ন স্বাদপ্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানও একে বছরের আলোচিত স্বাদ হিসেবে চিহ্নিত করে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এখন খাদ্যবাজারে আরেকটি বড় প্রবণতা হলো ভিন্ন স্বাদের মিশ্রণ। ঝাল-মিষ্টি, নোনতা-মিষ্টি বা অচেনা উপাদানের সংমিশ্রণ ক্রেতাদের আকর্ষণ করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে এশীয় খাবার নিয়ে আগ্রহও আরও গভীর হয়েছে। আগে যেখানে চীনা, জাপানি বা কোরীয় কিছু পরিচিত খাবারের মধ্যেই আগ্রহ সীমাবদ্ধ ছিল, এখন মানুষ ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনের খাবার ও উপাদানও জানতে চাইছে। উবের উত্থান সেই পরিবর্তনেরই অংশ।

Ube: The Filipino tuber taking over the world

জোগান এবং স্বাদের ভেতরের বাস্তবতা

উবে সংগ্রহ করা সহজ নয়। এটি মূলত ফিলিপাইনের ছোট ছোট খামারে উৎপাদিত হয়, পরে সেখানে প্রক্রিয়াজাত হয়ে পশ্চিমা বাজারে পাঠানো হয়। তবে বাজারে যে সব উবে-স্বাদের খাবার বা পানীয় পাওয়া যায়, তার সবটিতেই প্রকৃত উবে বেশি পরিমাণে থাকে না। অনেক ক্ষেত্রে স্বাদ তৈরির জন্য বিশেষ ঘন নির্যাস বা সুগন্ধি উপাদান ব্যবহার করা হয়। কারণ, পানীয় বা প্রক্রিয়াজাত খাবারে সরাসরি ফল বা কন্দের রস ব্যবহার করা সব সময় বাস্তবসম্মত নয়।

খাদ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাই প্রকৃত উপাদানের গঠন বিশ্লেষণ করে তার ঘ্রাণ ও স্বাদের মূল বৈশিষ্ট্য আলাদা করে ঘন আকারে তৈরি করে। পরে সেটি আইসক্রিম, বিস্কুট, পানীয় বা অন্য পণ্যে ব্যবহার করা হয়। একই স্বাদ ভিন্ন ধরনের খাবারে ভিন্নভাবে কাজ করে বলে একাধিক সংস্করণও বানাতে হয়।

পরের বড় স্বাদের খোঁজ

খাদ্যবাজারে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উবে জনপ্রিয় হলেও তারা ইতিমধ্যে পরের সম্ভাবনাময় স্বাদ নিয়েও ভাবছেন। সামাজিক মাধ্যমে দৃষ্টিনন্দন দেখায়—এমন উপাদানের চাহিদা এখন বেশি। বড় কফি চেইনগুলোও প্রতি মৌসুমে বহু স্বাদ পরীক্ষা করে দেখে কোনটি বাজারে কাজ করবে। উবেও সেই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানে এটি প্রথমে সীমিত আকারে আনা হয়, পরে গ্রাহকপ্রতিক্রিয়া দেখে আরও বিস্তৃত করা হয়।

Ube is enjoying a purple reign in the US. That's causing problems in the  Philippines | CNN

কিছু প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা বলছে, গ্রাহকদের আগ্রহ ধরে থাকলে তবেই কোনো স্বাদ স্থায়ীভাবে মেন্যুতে জায়গা পায়। আর উবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই দৌড়ে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে।

জনপ্রিয়তা বাড়লেও উদ্বেগ রয়ে গেছে

উবেকে মূলধারায় উঠে আসতে দেখে মারিয়া লেয়েসার মতো অনেকের মনেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। একদিকে এতে ফিলিপিনো রান্না ও সংস্কৃতি সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ বাড়তে পারে। অন্যদিকে, উদ্বেগও আছে—অনেকে উবের উৎস যে ফিলিপাইন, তা হয়তো জানেই না। শুধু সুন্দর ছবি বা বেগুনি রঙের আকর্ষণে যদি এটি জনপ্রিয় হয়, কিন্তু এর সাংস্কৃতিক শিকড় হারিয়ে যায়, তাহলে সেটি আক্ষেপের বিষয় হয়ে থাকবে।

এই পুরো প্রবণতা দেখিয়ে দিচ্ছে, বর্তমান খাদ্যবাজারে শুধু স্বাদ নয়, দৃশ্যমান আবেদন, সাংস্কৃতিক গল্প এবং সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উবের উত্থান সেই নতুন বাস্তবতারই একটি স্পষ্ট উদাহরণ।

Purple Sweet Potatoes Vs. Ube: What's The Difference?

জনপ্রিয় সংবাদ

লেবানন যুদ্ধবিরতিতে অন্তর্ভুক্ত কি না নিয়ে ট্রাম্প-পাকিস্তানের বিরোধ, ইসলামাবাদে আজ আলোচনা

উবের রঙে বাজিমাত, স্বাদ নয়—সামাজিক মাধ্যমে নজর কাড়াই এখন বড় শক্তি

০৩:২২:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

ফিলিপাইনের পরিচিত বেগুনি কন্দজাত খাবার উবে বহুদিন ধরেই সেখানকার খাদ্যসংস্কৃতির অংশ। তবে যুক্তরাষ্ট্রে এর হঠাৎ জনপ্রিয়তার পেছনে মূল কারণ স্বাদ নয়, বরং এর দৃষ্টিনন্দন বেগুনি রং। খাদ্যবিশেষজ্ঞদের মতে, এখন নতুন কোনো খাবার বাজারে সফল হতে হলে সেটিকে এমন হতে হয়, যা ছবি বা ভিডিওতে চোখে লাগে এবং সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ক্যালিফোর্নিয়ার লং বিচে দুই বছর আগে নিজের বেকারি চালু করার পর মারিয়া লেয়েসা দেখেছিলেন, তার উবে ব্রাউনি নিয়ে ক্রেতাদের কৌতূহল ছিল প্রবল। অনেকেই জানতে চাইতেন, উবে আসলে কী। ফিলিপাইনে এটি বহু পুরোনো ও পরিচিত খাদ্য হলেও যুক্তরাষ্ট্রে এখনো তা মূলধারায় পুরোপুরি ঢোকেনি। তবু ধীরে ধীরে এটি কফিশপ, আইসক্রিম, প্যানকেক মিশ্রণ এবং বিশেষ পানীয়তে জায়গা করে নিচ্ছে।

সাময়িক স্বাদের প্রতিযোগিতা

বড় খাদ্যপ্রতিষ্ঠান, রেস্তোরাঁ চেইন এবং স্থানীয় দোকান—সবাই এখন ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণে নতুন নতুন স্বাদের খোঁজে নেমেছে। বাজারে এমন এক প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে, যেখানে শুধু স্বাদ নয়, খাবারটি কতটা আলাদা, কতটা আলোচনার জন্ম দিতে পারে এবং কতটা দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতে পারে, সেটিও বড় বিষয়। বিশেষ করে সীমিত সময়ের জন্য আনা নতুন স্বাদের খাবার তরুণ প্রজন্মকে বেশি টানে। তারা নতুন কিছু চেখে দেখে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে পছন্দ করে।

Ube is enjoying a purple reign in the US. That's causing problems in the  Philippines | CNN

এই কৌশল কখনো বড় সাফল্য আনে, আবার কখনো ব্যর্থতাও ডেকে আনে। সঠিক সময়ে সঠিক স্বাদ বাজারে আনতে পারলে বিক্রি বেড়ে যায়, কিন্তু ভুল হলে পণ্য দ্রুত সরিয়েও নিতে হয়। ফলে খাদ্যপ্রস্তুতকারকদের জন্য নতুন স্বাদের খেলা এখন যেমন বড় সুযোগ, তেমনি বড় ঝুঁকিও।

উবের শক্তি তার রং

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, উবের জনপ্রিয়তার কেন্দ্রে রয়েছে এর উজ্জ্বল বেগুনি রং। মৃদু মিষ্টি, বাদামি আভা বা ভ্যানিলার মতো স্বাদের উপস্থিতি থাকলেও সেটিই মূল কারণ নয়। এখন নতুন কোনো স্বাদ বাছাইয়ের সময় অনেক প্রতিষ্ঠান প্রথমেই দেখে, সেটি ছবিতে কেমন দেখাবে। সামাজিক মাধ্যমে সহজে নজর কাড়তে পারে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উবে এই জায়গাতেই আলাদা সুবিধা পেয়েছে।

ধীরে ধীরে মূলধারায় প্রবেশ

উবে হঠাৎ করে বাজারে আসেনি। কয়েক বছর আগে এটি প্রথমে দুধচা বিক্রির দোকান ও সীমিত কিছু খাবারের তালিকায় দেখা যেতে শুরু করে। পরে বড় ব্র্যান্ডগুলো উবে-ভিত্তিক আইসক্রিম, পানীয়, কুকি, প্রেটজেল ও প্যানকেক মিশ্রণ বাজারে আনে। এরপর থেকে এটি ধীরে ধীরে আরও বেশি পরিচিতি পায়। বিভিন্ন স্বাদপ্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানও একে বছরের আলোচিত স্বাদ হিসেবে চিহ্নিত করে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এখন খাদ্যবাজারে আরেকটি বড় প্রবণতা হলো ভিন্ন স্বাদের মিশ্রণ। ঝাল-মিষ্টি, নোনতা-মিষ্টি বা অচেনা উপাদানের সংমিশ্রণ ক্রেতাদের আকর্ষণ করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে এশীয় খাবার নিয়ে আগ্রহও আরও গভীর হয়েছে। আগে যেখানে চীনা, জাপানি বা কোরীয় কিছু পরিচিত খাবারের মধ্যেই আগ্রহ সীমাবদ্ধ ছিল, এখন মানুষ ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনের খাবার ও উপাদানও জানতে চাইছে। উবের উত্থান সেই পরিবর্তনেরই অংশ।

Ube: The Filipino tuber taking over the world

জোগান এবং স্বাদের ভেতরের বাস্তবতা

উবে সংগ্রহ করা সহজ নয়। এটি মূলত ফিলিপাইনের ছোট ছোট খামারে উৎপাদিত হয়, পরে সেখানে প্রক্রিয়াজাত হয়ে পশ্চিমা বাজারে পাঠানো হয়। তবে বাজারে যে সব উবে-স্বাদের খাবার বা পানীয় পাওয়া যায়, তার সবটিতেই প্রকৃত উবে বেশি পরিমাণে থাকে না। অনেক ক্ষেত্রে স্বাদ তৈরির জন্য বিশেষ ঘন নির্যাস বা সুগন্ধি উপাদান ব্যবহার করা হয়। কারণ, পানীয় বা প্রক্রিয়াজাত খাবারে সরাসরি ফল বা কন্দের রস ব্যবহার করা সব সময় বাস্তবসম্মত নয়।

খাদ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাই প্রকৃত উপাদানের গঠন বিশ্লেষণ করে তার ঘ্রাণ ও স্বাদের মূল বৈশিষ্ট্য আলাদা করে ঘন আকারে তৈরি করে। পরে সেটি আইসক্রিম, বিস্কুট, পানীয় বা অন্য পণ্যে ব্যবহার করা হয়। একই স্বাদ ভিন্ন ধরনের খাবারে ভিন্নভাবে কাজ করে বলে একাধিক সংস্করণও বানাতে হয়।

পরের বড় স্বাদের খোঁজ

খাদ্যবাজারে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উবে জনপ্রিয় হলেও তারা ইতিমধ্যে পরের সম্ভাবনাময় স্বাদ নিয়েও ভাবছেন। সামাজিক মাধ্যমে দৃষ্টিনন্দন দেখায়—এমন উপাদানের চাহিদা এখন বেশি। বড় কফি চেইনগুলোও প্রতি মৌসুমে বহু স্বাদ পরীক্ষা করে দেখে কোনটি বাজারে কাজ করবে। উবেও সেই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানে এটি প্রথমে সীমিত আকারে আনা হয়, পরে গ্রাহকপ্রতিক্রিয়া দেখে আরও বিস্তৃত করা হয়।

Ube is enjoying a purple reign in the US. That's causing problems in the  Philippines | CNN

কিছু প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা বলছে, গ্রাহকদের আগ্রহ ধরে থাকলে তবেই কোনো স্বাদ স্থায়ীভাবে মেন্যুতে জায়গা পায়। আর উবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই দৌড়ে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে।

জনপ্রিয়তা বাড়লেও উদ্বেগ রয়ে গেছে

উবেকে মূলধারায় উঠে আসতে দেখে মারিয়া লেয়েসার মতো অনেকের মনেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। একদিকে এতে ফিলিপিনো রান্না ও সংস্কৃতি সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ বাড়তে পারে। অন্যদিকে, উদ্বেগও আছে—অনেকে উবের উৎস যে ফিলিপাইন, তা হয়তো জানেই না। শুধু সুন্দর ছবি বা বেগুনি রঙের আকর্ষণে যদি এটি জনপ্রিয় হয়, কিন্তু এর সাংস্কৃতিক শিকড় হারিয়ে যায়, তাহলে সেটি আক্ষেপের বিষয় হয়ে থাকবে।

এই পুরো প্রবণতা দেখিয়ে দিচ্ছে, বর্তমান খাদ্যবাজারে শুধু স্বাদ নয়, দৃশ্যমান আবেদন, সাংস্কৃতিক গল্প এবং সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উবের উত্থান সেই নতুন বাস্তবতারই একটি স্পষ্ট উদাহরণ।

Purple Sweet Potatoes Vs. Ube: What's The Difference?