০৩:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
মেট গালায় ককরোচ ভাইরাল — ট্রাম্পকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে মিম ঝড়, বিয়ন্সে থেকে ম্যাডোনা সবাই ম্লান দক্ষিণ এশিয়ায় এ বছর কম বৃষ্টি হতে পারে — এল নিনোর সতর্কতায় কৃষি সংকটের আশঙ্কা ট্রাম্প যাচ্ছেন চীনে — ইরান যুদ্ধের মাঝে বেইজিংয়ে সর্বোচ্চ ঝুঁকির কূটনৈতিক সফর জাপানে ২০২৬ সালের প্রথম ভালুক হামলায় মৃত্যু — গত বছর রেকর্ড ১৩ জন নিহত হয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ বন্যা — ২,০০০ মানুষ বাস্তুচ্যুত, বাঁধ উপচে পড়েছে ইন্দোনেশিয়ায় মাউন্ট দুকোনো অগ্নুৎপাত — নিষিদ্ধ এলাকায় তিন পর্যটকের মৃত্যু আফগানিস্তানে ভয়াবহ বন্যা — সাত প্রদেশে ১৬ নিহত, ৭৩,০০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত পশ্চিমবঙ্গে ভোটোত্তর সহিংসতা — বিজেপি নেতার সহযোগী খুন, সুভেন্দু বলছেন “ঠান্ডামাথায় হত্যা” পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঐতিহাসিক জয় — ৮৯ বছর পর প্রথম, সুভেন্দু অধিকারী আজ মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন হান্টাভাইরাস কতটা বিপজ্জনক — কোভিডের মতো ছড়াবে না, তবে মৃত্যুহার ভয়ঙ্কর বেশি

ইউক্রেন যুদ্ধ এখন ইউরোপের কাঁধে: যুক্তরাষ্ট্রের সরে দাঁড়ানোয় বাড়ছে চাপ

ইউক্রেন যুদ্ধ ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের হাত থেকে সরে ইউরোপের কাঁধে এসে পড়ছে—এমনটাই স্পষ্ট হচ্ছে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপে। নতুন ঋণ, অস্ত্র উৎপাদন চুক্তি এবং অর্থায়নের পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে ইউরোপ এখন যুদ্ধের প্রধান অর্থনৈতিক ও সামরিক ভরসা হয়ে উঠছে।

ইউরোপ এগোচ্ছে, কিন্তু সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট

ইউরোপীয় দেশগুলো—বিশেষ করে জার্মানি, ডেনমার্ক, নরওয়ে ও যুক্তরাজ্য—ইউক্রেনের সঙ্গে যৌথভাবে অস্ত্র উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে। জার্মানি সম্প্রতি ইউক্রেনকে ৪ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে, যেখানে বিমান প্রতিরক্ষা, ড্রোন এবং সামরিক উৎপাদনে জোর দেওয়া হয়েছে।

তবে ইউরোপ এখনো যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প হতে পারেনি। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র এবং যুদ্ধক্ষেত্রের গোয়েন্দা তথ্য এখনো মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট Volodymyr Zelensky নিজেও বলেছেন, “যুদ্ধের সময় আমাদের সবার সহায়তা দরকার—যুক্তরাষ্ট্রও দরকার।”

আমরা ইরানকে পুরোপুরি পরাজিত করেছি: ট্রাম্প | Barta Bazar

যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কমছে

ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ও সামরিক ভূমিকা কমাতে চেয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স প্রকাশ্যে বলেছেন, ইউক্রেনকে অর্থায়ন বন্ধ করা তাদের অন্যতম বড় অর্জন।

এর ফলে ইউরোপকে এখন বেশি দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। যদিও ইউরোপীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র কিনে ইউক্রেনে পাঠাচ্ছে, সরাসরি সহায়তার অভাব যুদ্ধের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলছে।

অর্থায়নে অনিশ্চয়তা

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনকে সহায়তা দিতে প্রায় ৯০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণ প্যাকেজ অনুমোদন করেছে। এই অর্থ চলতি বছর ও আগামী বছরের জন্য ইউক্রেনের বাজেট ও প্রতিরক্ষা খরচের বড় অংশ মেটানোর কথা।

তবে সমস্যা এখানেই শেষ নয়। আগামী বছরের জন্য ইউক্রেনের আরও প্রায় ১৯ বিলিয়ন ইউরোর ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে ১২ মাসের মধ্যেই ইউরোপকে আবার নতুন করে বিশাল অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে হতে পারে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে কোন দেশ আছে?

একই সঙ্গে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন ইউরোপের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে ইউরোপে

ফ্রান্স ও জার্মানির মতো দেশে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দলগুলো ইউক্রেনকে সহায়তা বন্ধের দাবি তুলছে। বিশেষ করে ফ্রান্সের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এই ইস্যুকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

তবুও জার্মানি, নর্ডিক দেশগুলো, নেদারল্যান্ডস ও পোল্যান্ডের মতো দেশগুলোর শক্ত সমর্থনে ইউক্রেনের প্রতি ইউরোপের অবস্থান এখনো দৃঢ় রয়েছে।

ইউক্রেনের ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের প্রক্রিয়াও ধীরগতিতে চলছে। ইউরোপ কিছু প্রতীকী সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও জেলেনস্কি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

তার স্পষ্ট বার্তা—“ইউক্রেন প্রতীকীভাবে নয়, বাস্তবে ইউরোপকে রক্ষা করছে। এখানে মানুষ সত্যিই মারা যাচ্ছে।”

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মেট গালায় ককরোচ ভাইরাল — ট্রাম্পকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে মিম ঝড়, বিয়ন্সে থেকে ম্যাডোনা সবাই ম্লান

ইউক্রেন যুদ্ধ এখন ইউরোপের কাঁধে: যুক্তরাষ্ট্রের সরে দাঁড়ানোয় বাড়ছে চাপ

০১:২৫:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

ইউক্রেন যুদ্ধ ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের হাত থেকে সরে ইউরোপের কাঁধে এসে পড়ছে—এমনটাই স্পষ্ট হচ্ছে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপে। নতুন ঋণ, অস্ত্র উৎপাদন চুক্তি এবং অর্থায়নের পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে ইউরোপ এখন যুদ্ধের প্রধান অর্থনৈতিক ও সামরিক ভরসা হয়ে উঠছে।

ইউরোপ এগোচ্ছে, কিন্তু সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট

ইউরোপীয় দেশগুলো—বিশেষ করে জার্মানি, ডেনমার্ক, নরওয়ে ও যুক্তরাজ্য—ইউক্রেনের সঙ্গে যৌথভাবে অস্ত্র উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে। জার্মানি সম্প্রতি ইউক্রেনকে ৪ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে, যেখানে বিমান প্রতিরক্ষা, ড্রোন এবং সামরিক উৎপাদনে জোর দেওয়া হয়েছে।

তবে ইউরোপ এখনো যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প হতে পারেনি। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র এবং যুদ্ধক্ষেত্রের গোয়েন্দা তথ্য এখনো মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট Volodymyr Zelensky নিজেও বলেছেন, “যুদ্ধের সময় আমাদের সবার সহায়তা দরকার—যুক্তরাষ্ট্রও দরকার।”

আমরা ইরানকে পুরোপুরি পরাজিত করেছি: ট্রাম্প | Barta Bazar

যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কমছে

ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ও সামরিক ভূমিকা কমাতে চেয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স প্রকাশ্যে বলেছেন, ইউক্রেনকে অর্থায়ন বন্ধ করা তাদের অন্যতম বড় অর্জন।

এর ফলে ইউরোপকে এখন বেশি দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। যদিও ইউরোপীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র কিনে ইউক্রেনে পাঠাচ্ছে, সরাসরি সহায়তার অভাব যুদ্ধের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলছে।

অর্থায়নে অনিশ্চয়তা

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনকে সহায়তা দিতে প্রায় ৯০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণ প্যাকেজ অনুমোদন করেছে। এই অর্থ চলতি বছর ও আগামী বছরের জন্য ইউক্রেনের বাজেট ও প্রতিরক্ষা খরচের বড় অংশ মেটানোর কথা।

তবে সমস্যা এখানেই শেষ নয়। আগামী বছরের জন্য ইউক্রেনের আরও প্রায় ১৯ বিলিয়ন ইউরোর ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে ১২ মাসের মধ্যেই ইউরোপকে আবার নতুন করে বিশাল অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে হতে পারে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে কোন দেশ আছে?

একই সঙ্গে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন ইউরোপের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে ইউরোপে

ফ্রান্স ও জার্মানির মতো দেশে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দলগুলো ইউক্রেনকে সহায়তা বন্ধের দাবি তুলছে। বিশেষ করে ফ্রান্সের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এই ইস্যুকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

তবুও জার্মানি, নর্ডিক দেশগুলো, নেদারল্যান্ডস ও পোল্যান্ডের মতো দেশগুলোর শক্ত সমর্থনে ইউক্রেনের প্রতি ইউরোপের অবস্থান এখনো দৃঢ় রয়েছে।

ইউক্রেনের ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের প্রক্রিয়াও ধীরগতিতে চলছে। ইউরোপ কিছু প্রতীকী সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও জেলেনস্কি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

তার স্পষ্ট বার্তা—“ইউক্রেন প্রতীকীভাবে নয়, বাস্তবে ইউরোপকে রক্ষা করছে। এখানে মানুষ সত্যিই মারা যাচ্ছে।”