আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে স্বাস্থ্য খাতের জন্য বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। নতুন অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে ৩৫ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১৮ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা। এই বৃদ্ধি স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে ব্যয়ের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্য খাতে বড় বরাদ্দ
নতুন উন্নয়ন কর্মসূচিতে মোট বরাদ্দের প্রায় ১২ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। খাতভিত্তিক বরাদ্দের দিক থেকে এটি পরিবহন ও যোগাযোগ এবং শিক্ষা খাতের পর তৃতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে।
এই বরাদ্দের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জন্য ২৬ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা এবং চিকিৎসা শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের জন্য ৮ হাজার ২২১ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের জন্যও কিছু অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।

ব্যয়ের রেকর্ড হতাশাজনক
বরাদ্দ বাড়লেও বাস্তবতা হলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন দুটি বিভাগ চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে তাদের বরাদ্দের খুব সামান্য অংশ ব্যয় করতে পেরেছে। এপ্রিল পর্যন্ত তারা ব্যয় করেছে মাত্র ৯৩৩ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের তুলনায় অত্যন্ত কম।
গত কয়েক বছর ধরেই উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য খাতের দুর্বলতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর ফলে সংশোধিত বাজেটে অনেক সময় মূল বরাদ্দ কমিয়ে আনতে হয়েছে।
কেন পিছিয়ে স্বাস্থ্য খাত?
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ ও জটিল ক্রয়প্রক্রিয়া, প্রকল্প অনুমোদনে বিলম্ব, অর্থ ছাড়ের জটিলতা এবং দক্ষ জনবলের অভাব স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বাস্তবায়নের প্রধান বাধা।

অনেক ক্ষেত্রে যে কাজ এক বছরে শেষ হওয়ার কথা, তা সম্পন্ন করতে আরও বেশি সময় লেগে যায়। এছাড়া প্রকল্প পরিচালকদের পরিবর্তন, সমন্বয়ের ঘাটতি এবং প্রশাসনিক জটিলতাও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়।
কী করতে হবে?
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, বরং সেই অর্থ কার্যকরভাবে ব্যবহারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে ওষুধ, টিকা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে প্রকল্প পরিচালকদের প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং ক্রয়ব্যবস্থায় সমন্বয় জোরদারের প্রয়োজন রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সমন্বয় সেল ও সহায়তা কেন্দ্র গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

আশা ও চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে
স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিন ধরে জিডিপির তুলনায় কম বিনিয়োগের সমালোচনা রয়েছে। তাই নতুন বরাদ্দকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই অর্থ যদি যথাসময়ে ও কার্যকরভাবে ব্যয় করা না যায়, তাহলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হবে। ফলে আগামী অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বরাদ্দের সঠিক ও পূর্ণ বাস্তবায়ন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















