দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষের পথে পৌঁছেছে। এবারের নির্বাচনকে দেশটির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা, শান্তি প্রক্রিয়া এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনের আগে পরিচালিত বিভিন্ন জরিপে বামপন্থী সিনেটর ইভান সেপেদা সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও ডানপন্থী আইনজীবী আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলার কাছ থেকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন। ফলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শান্তি নীতি নিয়ে বিভক্ত ভোটাররা
নির্বাচনের বড় একটি বিষয় হয়ে উঠেছে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর শান্তি উদ্যোগ। তিনি বিভিন্ন গেরিলা ও মাদক চোরাচালান সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সহিংসতা কমানোর চেষ্টা করেছিলেন।
তবে এই নীতি নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকদের দাবি, আলোচনাকেন্দ্রিক অবস্থানের কারণে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং সহিংসতা ও মাদক রপ্তানি বেড়েছে। অন্যদিকে সমর্থকরা বলছেন, দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে সংলাপের বিকল্প নেই।
নিরাপত্তা প্রশ্নে কঠোর অবস্থান
![]()
ডানপন্থী প্রার্থী আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা নির্বাচনী প্রচারে কঠোর নিরাপত্তা নীতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের কথা বলেছেন।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে অনেক ভোটার তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তাদের মতে, দেশে আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আরও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
সামাজিক ন্যায়ের পক্ষে সেপেদা
অন্যদিকে ইভান সেপেদা বিদায়ী সরকারের সমর্থন পেয়েছেন। তার সমর্থকদের দাবি, বর্তমান সরকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, শিক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানো এবং ভূমিহীনদের মধ্যে জমি বণ্টনের মতো উদ্যোগগুলো অনেক ভোটারের কাছে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। সেপেদা সামাজিক ন্যায়বিচার, পরিবেশ সুরক্ষা এবং মানবাধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচার চালিয়েছেন।
সহিংসতার ছায়ায় নির্বাচন
এবারের নির্বাচনী প্রচারণা নানা সহিংস ঘটনায় আলোচিত হয়েছে। গাড়িবোমা হামলা, ড্রোন হামলা এবং একজন শীর্ষ প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন শুধু নতুন প্রেসিডেন্ট বেছে নেওয়ার বিষয় নয়; বরং কলম্বিয়া আগামী বছরগুলোতে শান্তি আলোচনার পথ অনুসরণ করবে নাকি কঠোর নিরাপত্তা অভিযানের দিকে যাবে, সেটিও নির্ধারণ করবে।
ফলাফলের দিকে এখন নজর পুরো দেশের। কারণ এই ভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে সংঘাত, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন প্রশ্নে কলম্বিয়ার পরবর্তী পথচলা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















