০৯:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
কোরিয়ার ছোঁয়ায় নতুন স্বাদের ইনারি-সুশি: ভুট্টা, টোফু আর ঝাল মাখনের অনন্য মেলবন্ধন উত্তর কোরিয়া-রাশিয়ার সামরিক জোটে বদলে যাচ্ছে ইউরোপ ও ইন্দো-প্যাসিফিকের নিরাপত্তা সমীকরণ টানা পঞ্চম মাসে টয়োটার বৈশ্বিক বিক্রি কমল, চাপ বাড়ছে গাড়ি শিল্পে ইরানকে থামাতে পারবে কি চীন? উপসাগরীয় দেশগুলোর নতুন কূটনৈতিক পরীক্ষা বিমসটেককে অগ্রাধিকার দিচ্ছে নেপাল, আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে নতুন উদ্যোগ ভূমিকম্পের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে কুমামোতো, ফিরছে পরিবহন ও শিল্প কার্যক্রম পরীক্ষায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিন প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে ঢুকে পড়ল অ্যানথ্রপিকের এআই মডেল বিমসটেককে অগ্রাধিকার দিচ্ছে নেপাল, আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে নতুন উদ্যোগ গাড়িতে ধূমপানের ভুলে বদলে গেল জীবন, পুলিশে জানানো সেই চালককেই এখন ধন্যবাদ সাবেক আসক্তের ভালোবাসার ভিড়েও কেন মানুষ একা? নিঃসঙ্গতার বীজ লুকিয়ে থাকে শৈশবের অদৃশ্য ক্ষতে

টানা ধাক্কায় অনোয়ারের জোট, নেগেরি সেম্বিলানে ক্ষমতা হারিয়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে আবারও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। নেগেরি সেম্বিলান অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের নেতৃত্বাধীন পাকাতান হারাপান (পিএইচ) জোট ক্ষমতা হারিয়েছে। বারিসান ন্যাশনাল (বিএন) এবং তাদের নতুন রাজনৈতিক সহযোগী পেরিকাতান ন্যাশনাল (পিএন) মিলে রাজ্যের পরিষদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এই ফল শুধু একটি অঙ্গরাজ্যের সরকার পরিবর্তনের ঘটনা নয়; বরং মালয়েশিয়ার জাতীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

দুই মেয়াদের শাসনের অবসান

সরকারি ফলাফলে দেখা যায়, ৩৬টি আসনের মধ্যে বিএন ১৮টি এবং তাদের সহযোগী পিএন ৭টি আসনে জয়ী হয়েছে। অর্থাৎ, দুই জোট মিলিয়ে তারা ২৫টি আসন দখল করে সরকার গঠনের মতো শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে, গত দুই মেয়াদ ধরে ক্ষমতায় থাকা পাকাতান হারাপান মাত্র ১১টি আসনে জয় পেয়েছে। আগের নির্বাচনে তাদের আসন ছিল ১৭টি। ফলে কয়েক বছরের ব্যবধানে দলটির জনপ্রিয়তায় উল্লেখযোগ্য পতনের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।

আনোয়ার ইব্রাহিমের জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা

নেগেরি সেম্বিলানের ফল প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে জোহর ও সাবাহর নির্বাচনে তার জোট বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়েছিল। এবার তৃতীয়বারের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে ক্ষমতা হারানো তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

যদিও এটি অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন, তবুও বিশ্লেষকদের মতে, ধারাবাহিক এই ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

বিজয়ের পর বিএনর বার্তা

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বিএন সভাপতি আহমদ জাহিদ হামিদি বলেন, জনগণের রায় তাদের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছে। তিনি জানান, নতুন সরকার গঠন এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে পিএনের সঙ্গে আলোচনা হবে।

তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, এই রাজনৈতিক সমঝোতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে এবং সামনে মেলাকার নির্বাচনেও দুই জোট একসঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে।

সামনে আরও বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা

নেগেরি সেম্বিলানের এই ফল এখন মেলাকা রাজ্যের নির্বাচনকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, সেখানে যদি বিএন-পিএন জোট আবারও সফল হয়, তাহলে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যেতে পারে।

মালয়েশিয়ার সংসদের ২২২টি আসনের মধ্যে ১২৩টিতেই মালয় ভোটার সংখ্যাগরিষ্ঠ। ফলে মালয়-ভিত্তিক রাজনৈতিক জোটগুলোর মধ্যে সমন্বয় ভবিষ্যতের সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Negeri Sembilan polls: BN-PN wins supermajority of 25 seats, as Anwar's PH  suffers another setback - CNA

পরাজয় মেনে নিলেন আনোয়ার

নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বিএনকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, গত আট বছর নেগেরি সেম্বিলানের জনগণ পাকাতান হারাপান ও মুখ্যমন্ত্রী আমিনুদ্দিন হারুনের ওপর যে আস্থা রেখেছিলেন, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, ফেডারেল সরকার নতুন অঙ্গরাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

রাজনৈতিক সৌজন্য বজায় রেখে দেওয়া এই বক্তব্য অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

হেরে গেলেন প্রভাবশালী নেতারাও

নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল পরিবহনমন্ত্রী এবং ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন পার্টির মহাসচিব অ্যান্থনি লোকের পরাজয়। তিনি টানা তিন মেয়াদ ধরে ধরে রাখা চেন্নাহ আসনটি অল্প ব্যবধানে হারিয়েছেন।

পরাজয়ের পর তিনি স্বীকার করেন, নিজের আসন ধরে রাখতে না পারলে রাজ্য পর্যায়ের নেতৃত্বে থাকার নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে যায়। তাই তিনি দলের রাজ্য সভাপতির পদ ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানান। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেই নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী আমিনুদ্দিন হারুনও নিজের নতুন আসনে জয় পাননি। তিনি ভোটারদের রায় মেনে নিয়ে ভবিষ্যতে দলের জন্য কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।

নির্বাচনে কী কী বিষয় প্রভাব ফেলেছে

নির্বাচনী প্রচারে জাতিগত পরিচয়কে কেন্দ্র করে নানা বক্তব্য বড় বিতর্ক তৈরি করে। বিরোধী জোটের কিছু বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দেয়। পাশাপাশি রাজ্যের রাজপরিবারকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিরোধও নির্বাচনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে।

বিএন অভিযোগ তোলে, রাজপরিবারসংক্রান্ত সংকট মোকাবিলায় তৎকালীন রাজ্য সরকার যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দিতে পারেনি। এই বিষয়টিও ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে অনেকের ধারণা।

ভোটার উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে

এবার নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭২ দশমিক ৬৪ শতাংশ, যা আগের নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেবল ভোটের হার নয়, কোন দল নিজেদের সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যেতে বেশি সফল হয়েছে, সেটিই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণ করেছে।

তাদের মতে, পাকাতান হারাপানের বড় অংশের সমর্থক শহরাঞ্চল, তরুণ এবং কর্মসূত্রে নিজ নির্বাচনী এলাকা থেকে দূরে বসবাসকারী ভোটার। এসব ভোটার সবাই ভোট দিতে ফিরতে না পারলে দলটির ক্ষতি হয়। অন্যদিকে, বিএনর ভোটভিত্তি তুলনামূলকভাবে গ্রাম ও আধা-শহর এলাকায় বেশি হওয়ায় তাদের সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে আনা সহজ হয়।

জাতীয় রাজনীতির জন্য কী বার্তা

বিশ্লেষকদের মতে, নেগেরি সেম্বিলানের ফলকে সরাসরি ফেডারেল সরকারের প্রতি অনাস্থা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে সাধারণত স্থানীয় নেতৃত্ব, প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক শক্তি এবং স্থানীয় সমস্যা জাতীয় ইস্যুর তুলনায় বেশি প্রভাব ফেলে।

তবুও টানা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে পাকাতান হারাপানের দুর্বল ফল এবং বিএন-পিএন সমঝোতার সাফল্য আগামী সাধারণ নির্বাচনের আগে মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে নতুন জোট, নতুন কৌশল এবং নতুন ক্ষমতার সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে সামনে মেলাকা নির্বাচন এবং পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কোরিয়ার ছোঁয়ায় নতুন স্বাদের ইনারি-সুশি: ভুট্টা, টোফু আর ঝাল মাখনের অনন্য মেলবন্ধন

টানা ধাক্কায় অনোয়ারের জোট, নেগেরি সেম্বিলানে ক্ষমতা হারিয়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে মালয়েশিয়া

০৭:৫৯:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে আবারও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। নেগেরি সেম্বিলান অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের নেতৃত্বাধীন পাকাতান হারাপান (পিএইচ) জোট ক্ষমতা হারিয়েছে। বারিসান ন্যাশনাল (বিএন) এবং তাদের নতুন রাজনৈতিক সহযোগী পেরিকাতান ন্যাশনাল (পিএন) মিলে রাজ্যের পরিষদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এই ফল শুধু একটি অঙ্গরাজ্যের সরকার পরিবর্তনের ঘটনা নয়; বরং মালয়েশিয়ার জাতীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

দুই মেয়াদের শাসনের অবসান

সরকারি ফলাফলে দেখা যায়, ৩৬টি আসনের মধ্যে বিএন ১৮টি এবং তাদের সহযোগী পিএন ৭টি আসনে জয়ী হয়েছে। অর্থাৎ, দুই জোট মিলিয়ে তারা ২৫টি আসন দখল করে সরকার গঠনের মতো শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে, গত দুই মেয়াদ ধরে ক্ষমতায় থাকা পাকাতান হারাপান মাত্র ১১টি আসনে জয় পেয়েছে। আগের নির্বাচনে তাদের আসন ছিল ১৭টি। ফলে কয়েক বছরের ব্যবধানে দলটির জনপ্রিয়তায় উল্লেখযোগ্য পতনের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।

আনোয়ার ইব্রাহিমের জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা

নেগেরি সেম্বিলানের ফল প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে জোহর ও সাবাহর নির্বাচনে তার জোট বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়েছিল। এবার তৃতীয়বারের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে ক্ষমতা হারানো তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

যদিও এটি অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন, তবুও বিশ্লেষকদের মতে, ধারাবাহিক এই ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

বিজয়ের পর বিএনর বার্তা

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বিএন সভাপতি আহমদ জাহিদ হামিদি বলেন, জনগণের রায় তাদের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছে। তিনি জানান, নতুন সরকার গঠন এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে পিএনের সঙ্গে আলোচনা হবে।

তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, এই রাজনৈতিক সমঝোতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে এবং সামনে মেলাকার নির্বাচনেও দুই জোট একসঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে।

সামনে আরও বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা

নেগেরি সেম্বিলানের এই ফল এখন মেলাকা রাজ্যের নির্বাচনকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, সেখানে যদি বিএন-পিএন জোট আবারও সফল হয়, তাহলে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যেতে পারে।

মালয়েশিয়ার সংসদের ২২২টি আসনের মধ্যে ১২৩টিতেই মালয় ভোটার সংখ্যাগরিষ্ঠ। ফলে মালয়-ভিত্তিক রাজনৈতিক জোটগুলোর মধ্যে সমন্বয় ভবিষ্যতের সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Negeri Sembilan polls: BN-PN wins supermajority of 25 seats, as Anwar's PH  suffers another setback - CNA

পরাজয় মেনে নিলেন আনোয়ার

নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বিএনকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, গত আট বছর নেগেরি সেম্বিলানের জনগণ পাকাতান হারাপান ও মুখ্যমন্ত্রী আমিনুদ্দিন হারুনের ওপর যে আস্থা রেখেছিলেন, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, ফেডারেল সরকার নতুন অঙ্গরাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

রাজনৈতিক সৌজন্য বজায় রেখে দেওয়া এই বক্তব্য অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

হেরে গেলেন প্রভাবশালী নেতারাও

নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল পরিবহনমন্ত্রী এবং ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন পার্টির মহাসচিব অ্যান্থনি লোকের পরাজয়। তিনি টানা তিন মেয়াদ ধরে ধরে রাখা চেন্নাহ আসনটি অল্প ব্যবধানে হারিয়েছেন।

পরাজয়ের পর তিনি স্বীকার করেন, নিজের আসন ধরে রাখতে না পারলে রাজ্য পর্যায়ের নেতৃত্বে থাকার নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে যায়। তাই তিনি দলের রাজ্য সভাপতির পদ ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানান। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেই নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী আমিনুদ্দিন হারুনও নিজের নতুন আসনে জয় পাননি। তিনি ভোটারদের রায় মেনে নিয়ে ভবিষ্যতে দলের জন্য কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।

নির্বাচনে কী কী বিষয় প্রভাব ফেলেছে

নির্বাচনী প্রচারে জাতিগত পরিচয়কে কেন্দ্র করে নানা বক্তব্য বড় বিতর্ক তৈরি করে। বিরোধী জোটের কিছু বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দেয়। পাশাপাশি রাজ্যের রাজপরিবারকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিরোধও নির্বাচনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে।

বিএন অভিযোগ তোলে, রাজপরিবারসংক্রান্ত সংকট মোকাবিলায় তৎকালীন রাজ্য সরকার যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দিতে পারেনি। এই বিষয়টিও ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে অনেকের ধারণা।

ভোটার উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে

এবার নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭২ দশমিক ৬৪ শতাংশ, যা আগের নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেবল ভোটের হার নয়, কোন দল নিজেদের সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যেতে বেশি সফল হয়েছে, সেটিই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণ করেছে।

তাদের মতে, পাকাতান হারাপানের বড় অংশের সমর্থক শহরাঞ্চল, তরুণ এবং কর্মসূত্রে নিজ নির্বাচনী এলাকা থেকে দূরে বসবাসকারী ভোটার। এসব ভোটার সবাই ভোট দিতে ফিরতে না পারলে দলটির ক্ষতি হয়। অন্যদিকে, বিএনর ভোটভিত্তি তুলনামূলকভাবে গ্রাম ও আধা-শহর এলাকায় বেশি হওয়ায় তাদের সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে আনা সহজ হয়।

জাতীয় রাজনীতির জন্য কী বার্তা

বিশ্লেষকদের মতে, নেগেরি সেম্বিলানের ফলকে সরাসরি ফেডারেল সরকারের প্রতি অনাস্থা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে সাধারণত স্থানীয় নেতৃত্ব, প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক শক্তি এবং স্থানীয় সমস্যা জাতীয় ইস্যুর তুলনায় বেশি প্রভাব ফেলে।

তবুও টানা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে পাকাতান হারাপানের দুর্বল ফল এবং বিএন-পিএন সমঝোতার সাফল্য আগামী সাধারণ নির্বাচনের আগে মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে নতুন জোট, নতুন কৌশল এবং নতুন ক্ষমতার সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে সামনে মেলাকা নির্বাচন এবং পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।