বিরাট কোহলির দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ভর করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো আইপিএল শিরোপা জিতেছে বেঙ্গালুরু। ফাইনালে গুজরাটকে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখার কীর্তি গড়েছে দলটি।
গত মৌসুমে দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো আইপিএল জিতেছিল বেঙ্গালুরু। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতাই এবারও বজায় রাখল তারা। ১৫৬ রানের লক্ষ্য মাত্র ১৮ ওভারে পেরিয়ে গিয়ে জয় নিশ্চিত করে দলটি।
শুরুতেই চাপে গুজরাট

ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ছন্দ খুঁজে পায়নি গুজরাট। বেঙ্গালুরুর নিয়ন্ত্রিত ও ধারালো বোলিংয়ের সামনে পাওয়ারপ্লের মধ্যেই ফিরে যান দলের দুই সেট ওপেনার। ফলে দ্রুত চাপে পড়ে যায় দলটি।
মধ্যক্রমে কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা হলেও বড় জুটি গড়ে ওঠেনি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৫ রান সংগ্রহ করে গুজরাট।
কোহলির আগ্রাসী ব্যাটিং
লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল বেঙ্গালুরু। বিরাট কোহলি ও ভেঙ্কটেশ আইয়ার দ্রুত রান তুলে দলের ভিত গড়ে দেন। পাওয়ারপ্লেতেই দুই উইকেট হারিয়ে ৭০ রান তুলে ফেলে বেঙ্গালুরু।

চাপের ম্যাচে আবারও নিজেকে প্রমাণ করেন কোহলি। ৪২ বলে অপরাজিত ৭৫ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ৩টি ছক্কা। একই সঙ্গে আইপিএল ক্যারিয়ারের দ্রুততম অর্ধশতকও পূর্ণ করেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার।
কোহলির এই ইনিংসের মাধ্যমে তার আইপিএলে অর্ধশতকের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৮টি, আর শতক রয়েছে ৯টি।
সুন্দর লড়লেন, সঙ্গ পেলেন না
গুজরাটের হয়ে ওয়াশিংটন সুন্দর শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ৫০ রান করেন। ৩৭ বলে খেলা এই ইনিংস দলকে কিছুটা আশা দেখালেও অন্য প্রান্ত থেকে পর্যাপ্ত সমর্থন পাননি তিনি।

দলের দুই প্রধান রান সংগ্রাহক শুভমান গিল ও সাই সুদর্শনের দ্রুত বিদায় গুজরাটের ব্যাটিংকে বড় ধাক্কা দেয়। এরপর আর ম্যাচে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে পারেনি দলটি।
বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্স
বেঙ্গালুরুর বোলাররা পুরো ম্যাচে শৃঙ্খলিত বোলিং করেন। কোনো বোলারই ওভারপ্রতি ১০ রানের বেশি দেননি। রাশিখ দার তিনটি উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল বোলার হন। এছাড়া ভুবনেশ্বর কুমার ও জশ হ্যাজলউড দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
ব্যাট ও বল—দুই বিভাগেই দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে ফাইনালে আধিপত্য বিস্তার করে বেঙ্গালুরু। আর সেই জয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বিরাট কোহলি, যার ব্যাটেই লেখা হলো আরেকটি স্মরণীয় শিরোপা জয়ের গল্প।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















