সিঙ্গাপুরের জাতীয় দিবসের কুচকাওয়াজ ২০২৬ ঘিরে এবার বাড়তি উচ্ছ্বাস ছড়াচ্ছেন মাসকটের আড়ালে থাকা তরুণরা। দর্শকদের মাতাতে তাঁদের প্রাণবন্ত নাচ, ছন্দময় অঙ্গভঙ্গি ও উদ্দীপনাময় পরিবেশনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। একটি ভিডিওতেই হাজার হাজার প্রতিক্রিয়া জমা পড়েছে।
দর্শকদের মাতাতেই সর্বোচ্চ শক্তি
জাতীয় দিবসের কুচকাওয়াজে মাসকট পরিবেশনাকারীদের সামনে ছিল একটাই লক্ষ্য—দর্শকদের মধ্যে যতটা সম্ভব আনন্দ ও উদ্দীপনা তৈরি করা। সেই লক্ষ্য পূরণে তাঁরা মঞ্চে কখনো দ্রুত নাচছেন, কখনো গানের তালে শরীর দোলাচ্ছেন, আবার কখনো একসঙ্গে লাফিয়ে দর্শকদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছেন।
জাতীয় শিক্ষা কার্যক্রমের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁদের পরিবেশনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে একটি ভিডিওতে প্রায় ৪১ হাজার পছন্দের প্রতিক্রিয়া পড়েছে।
পোশাকের আড়ালে বদলে যায় ব্যক্তিত্ব
মাসকট ‘ব্রেভ’-এর ভূমিকায় থাকা ১৯ বছর বয়সী হি মিংঝে জানান, দর্শকদের কাছ থেকে এমন উচ্ছ্বসিত সাড়া পাবেন, তা তিনি ভাবেননি। সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়া তাঁদের আরও ভালোভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা দিচ্ছে।
মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় থাকা মানুষের প্রতি সামাজিক নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি কমাতে কাজ করা একটি জাতীয় উদ্যোগের প্রতীক হিসেবে ‘ব্রেভ’ তৈরি করা হয়েছে।
অন্যদিকে জাতীয় দিবসের মাসকট ‘অগাস্ট’-এর পোশাকে থাকা সো জিয়ে ফেংয়ের অভিজ্ঞতাও বেশ ভিন্ন। সাধারণত শান্ত স্বভাবের এই তরুণ মঞ্চে উঠে এমন নাচ করেছেন, যা দেখে তাঁর পরিবার ও বন্ধুরাও অবাক হয়েছেন।
মাসকটের পোশাক পরলে দর্শক তাঁকে চিনতে পারেন না। সেই কারণে নিজের স্বাভাবিক সংকোচ কাটিয়ে মঞ্চে পুরোপুরি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।
ছোট পরিবেশনাও বড় আয়োজনের অংশ
জিয়ে ফেংয়ের মতে, মঞ্চে কয়েক মুহূর্তের একটি নাচ হয়তো খুব ছোট অংশ মনে হতে পারে। কিন্তু নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে সেটি পরিবেশন করলে পুরো অনুষ্ঠানের আবহ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
মাসকটের পোশাকের আড়ালে থাকা আরেক পরিবেশনাকারী জাভান এন জিয়ে রেনও জানান, সবাইকে যতটা সম্ভব শক্তি নিয়ে পরিবেশনা করার উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এ বছরের জাতীয় দিবসের মূল ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই তাঁরা নিজেদের সেরাটা দিতে চাইছেন।
২ হাজার ৬০০ পরিবেশনার সঙ্গে মাসকটরাও
জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় দিবসের কুচকাওয়াজে ২ হাজার ৬০০-এর বেশি পরিবেশনকারী এবং ৩৬ জন শিল্পী অংশ নেবেন। বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ ও জাতীয় প্রচারণার প্রতিনিধিত্বকারী মাসকটগুলোর মধ্যে রয়েছে বেকি বান্নি, শ্যারিটি, ক্যাপ্টেন গ্রিন, নিলা ও সিঙ্গা।
এবারের তিন তরুণ মাসকট পরিবেশনকারীই প্রথমবারের মতো এই দায়িত্ব পালন করছেন। অনুষ্ঠানের শেষ অংশে তাঁদের নিজেদের মতো করে নাচের ভঙ্গি তৈরির সুযোগও রয়েছে।
নিরাপত্তায় বিশেষ নজর
মাসকটের পোশাকের ভেতরে দীর্ঘ সময় থাকা বেশ উষ্ণ ও কষ্টকর হতে পারে। তাই পরিবেশনাকারীদের নিরাপত্তা ও সুস্থতার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তাঁদের নির্দিষ্ট সময় পরপর পানি পান করানো হচ্ছে এবং কতক্ষণ পোশাকের ভেতরে থাকা যাবে, তারও সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। আতশবাজির কাছাকাছি যাওয়া কিংবা মঞ্চের কিনারায় অবস্থান করা থেকেও তাঁদের দূরে রাখা হচ্ছে।
মাসকটের পোশাক যাতে হঠাৎ বাতাস হারিয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে না পড়ে, সে জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারীদের কাছে অতিরিক্ত ব্যাটারিও রাখা হচ্ছে। অনুষ্ঠানস্থলে নির্দিষ্ট জায়গায় সময়মতো পৌঁছানো এবং নিরাপদে চলাচলের জন্য তাঁদের সঙ্গে থাকছেন প্রশিক্ষিত সহকারীরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















