সিঙ্গাপুরের তরুণদের শিক্ষা, কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত বিকাশে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে নতুন পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৬ সালের শুরুর সময় পর্যন্ত ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ৬০ হাজারের বেশি তরুণের মতামত নিয়ে তৈরি হয়েছে এই পরিকল্পনা।
তরুণদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে তৈরি এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো তাদের আরও আত্মবিশ্বাসী, সমাজের সঙ্গে সংযুক্ত এবং দেশের উন্নয়নে সক্রিয় নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। পরিকল্পনায় কর্মজীবনের প্রস্তুতি, মানসিক সুস্থতা, সামাজিক যোগাযোগ এবং তরুণদের নেতৃত্বে বিভিন্ন উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পড়াশোনার আগে কর্মজীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা
জরিপে অংশ নেওয়া ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী তরুণদের ৫৮ শতাংশ জানিয়েছেন, পড়াশোনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তারা বিভিন্ন পেশা সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা পেতে চান। তবে অনেকেই জানেন না কীভাবে সেই অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন।
এই সমস্যার সমাধানে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি বছর ৩০ হাজার কর্মজীবন পরিচিতি সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালেই শুরু হবে ১০ হাজার সুযোগ দিয়ে।
এসব সুযোগের মাধ্যমে তরুণরা কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজের পরিবেশ সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ পাবেন। কোথাও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরিচিতি ও কর্মীদের কাজ পর্যবেক্ষণের সুযোগ থাকবে, আবার কোথাও কয়েক সপ্তাহের জন্য নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রকল্পেও কাজ করতে পারবেন।
নিজের পছন্দের পথ খুঁজে পেয়েছেন ক্লডিয়া
২৪ বছর বয়সী ক্লডিয়া রুথ সেলভাকুমারের অভিজ্ঞতাও তরুণদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠেছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে তিনি মূলত ভালো ফল করার দিকেই মনোযোগী ছিলেন। পরে ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও বিষয়টির প্রতি তার তেমন আগ্রহ ছিল না।
একজন সিনিয়রের পরামর্শে তিনি জানতে পারেন, অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে ভিন্ন বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম আয়োজনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বুঝতে পারেন, মানুষের সঙ্গে কাজ করা এবং অন্যদের সহায়তা করতেই তার বেশি ভালো লাগে।
শেষ পর্যন্ত তিনি সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। বর্তমানে তিনি সমাজকর্ম ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অধ্যয়ন নিয়ে পড়ছেন এবং একই সঙ্গে সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পেশার সুযোগ সম্পর্কে জানাতে কাজ করছেন।
তরুণদের পাশে থাকবেন পরামর্শদাতারা
নতুন পরিকল্পনায় শুধু চাকরি বা পেশা বেছে নেওয়ার বিষয় নয়, তরুণদের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে সঠিক পরামর্শ পাওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
২৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থী সে জিয়া জুনের জীবনে এমন পরামর্শদাতার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একটি ছয় মাসের কর্মসূচিতে তিনি দুইজন পেশাজীবীর কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ পান। কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরামর্শদাতারা শুধু পেশাগত বিষয়ে সহযোগিতা করেননি, বরং আত্মবিশ্বাস বাড়াতেও সহায়তা করেছেন। কোনো বিষয়ে দ্বিধায় পড়লে তিনি তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা থেকে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস পান।
তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির লক্ষ্য
সিঙ্গাপুরের নতুন যুব পরিকল্পনায় শিক্ষা থেকে কর্মজীবনে প্রবেশের সময় তরুণদের যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের সামাজিক সম্পর্ক, মানসিক সুস্থতা এবং নেতৃত্বের দক্ষতা বাড়ানোর দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনার মূল ভাবনা হলো, শুধু কোনো পেশার নাম বা যোগ্যতার তালিকা জানলেই হবে না; তরুণদের সেই কাজের বাস্তব পরিবেশ সম্পর্কে জানার সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তাদের পাশে অভিজ্ঞ ও বিশ্বাসযোগ্য মানুষও থাকতে হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















