ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তাঁর বাবা ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির তুলনায় পরমাণু অস্ত্র তৈরির বিষয়ে অনেক বেশি আগ্রহী বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। যুদ্ধের পর ইরানের নেতৃত্বে কঠোরপন্থীদের প্রভাব বাড়ার মধ্যেই এমন মূল্যায়ন সামনে এসেছে।
পরমাণু অস্ত্র নিয়ে বদলেছে অবস্থান
মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরানের নতুন নেতৃত্ব উন্নত পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা রাখে। মোজতবা খামেনি প্রকাশ্যে কখনো ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির পক্ষে অবস্থান নেননি। তবে তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারের অবস্থান আগের তুলনায় বেশি কঠোর বলে মনে করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি পরমাণু অস্ত্র তৈরির বিরোধিতা করেছিলেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছিল, ইরান এমন সক্ষমতা অর্জন করতে চায়, যাতে প্রয়োজন হলে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে পারে। তবে আলী খামেনির এই বিষয়ে অনীহাকে অনেক মার্কিন কর্মকর্তা বাস্তব ও আন্তরিক বলে মনে করতেন।
যুদ্ধের পর আরও কঠোর ইরান
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের পর ইরানের নতুন সরকার আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটির নেতৃত্ব হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা করেছে এবং আলোচনার ক্ষেত্রেও কঠিন অবস্থান দেখিয়েছে।
মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন বলছে, মোজতবা খামেনি তাঁর বাবার মতো ব্যাপক ক্ষমতা ও প্রভাবের অধিকারী নন। আলী খামেনি তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরান শাসন করেছিলেন। বর্তমানে মোজতবা সরকার পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকলেও তাঁর ক্ষমতা পুরোপুরি নিরঙ্কুশ নয়।
যুদ্ধের পর আড়ালে মোজতবা
যুদ্ধের শুরুতে গুরুতর আহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি জনসম্মুখে খুব কম আসছেন এবং যোগাযোগও সীমিত করেছেন। নিজের নিরাপত্তা নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন বলে মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন। বিশেষ করে বিমান হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার আশঙ্কায় তাঁর প্রকাশ্য কর্মকাণ্ড কমেছে।
তবে গোয়েন্দা মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ একটি সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। মোজতবা খামেনির পরমাণু অস্ত্র সম্পর্কে মনোভাবের বেশিরভাগ তথ্য যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের। ফলে যুদ্ধের পর তাঁর অবস্থানে কতটা পরিবর্তন এসেছে, তা পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।

পরমাণু স্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ
মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ইরান এখনো পরমাণু কর্মসূচি নতুন করে চালু করার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তবে দেশটি পরমাণু অবকাঠামো ও সক্ষমতা রক্ষায় কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর কিংবা চলমান যুদ্ধের বিরতির সময়ে ইরান অন্তত কিছু পরমাণু সেন্ট্রিফিউজ সরিয়ে নিয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এসব সরঞ্জামের কিছু অংশ মধ্য ইরানের একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরমাণু অস্ত্রের আশঙ্কায় নতুন চাপ
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা পরমাণু অস্ত্র তৈরির বিষয়ে সম্ভাব্যভাবে আগ্রহী—এমন মূল্যায়ন সামনে আসায় দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদারের পক্ষে যুক্তি শক্তিশালী হতে পারে। বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বাড়ানো হবে কি না, তা বিবেচনা করছেন।
ইরানের নেতৃত্ব পরিবর্তন ও চলমান সংঘাতের পর পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। যুদ্ধ থামানোর উদ্যোগের পাশাপাশি ইরানের পরমাণু সক্ষমতা ভবিষ্যতে কোন পথে যায়, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বড় প্রশ্ন হয়ে উঠছে।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির পরমাণু অস্ত্র নিয়ে সম্ভাব্য অবস্থান এবং যুদ্ধের পর দেশটির পরমাণু স্থাপনা রক্ষার উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















