যুদ্ধবিরতির মেয়াদ চলমান থাকলেও লেবাননে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করার নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। হিজবুল্লাহর নিয়ন্ত্রিত এলাকায় আরও গভীরে প্রবেশ করে তাদের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক অভিযানে দক্ষিণ লেবাননের ঐতিহাসিক বউফোর্ট দুর্গ এবং আশপাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি অবস্থান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এই অবস্থানকে দক্ষিণ লেবানন ও উত্তর ইসরায়েলের ওপর নজরদারির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
যুদ্ধবিরতির পরও থামেনি সংঘর্ষ

এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমেনি। সীমান্তজুড়ে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত ড্রোন হামলা ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে লেবাননের লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ইসরায়েলি বিমান হামলা এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে বহু পরিবারকে ঘরবাড়ি ছাড়তে হয়েছে। একইভাবে উত্তর ইসরায়েলের বহু বাসিন্দাও নিরাপত্তার কারণে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
আরও উত্তরে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে লিতানি নদী পর্যন্ত এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে। এখন বাহিনী আরও উত্তরে জাহরানি নদীর দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
নেতানিয়াহু বলেছেন, হিজবুল্লাহর প্রভাববলয়ের এলাকাগুলোতে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করাই তাদের উদ্দেশ্য। তিনি সেনাবাহিনীকে স্থল অভিযান সম্প্রসারণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং অভিযান অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিয়েছেন।

দক্ষিণ লেবাননে বাড়ছে হামলা
সপ্তাহান্তে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক বিমান হামলা চালানো হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে জাহরানি নদীর দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে এবং অনেক এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয় বিভিন্ন এলাকায় হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
বউফোর্ট দুর্গের কৌশলগত গুরুত্ব
প্রায় ৯০০ বছরের পুরোনো বউফোর্ট দুর্গ দীর্ঘদিন ধরেই সামরিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি অবস্থান হিসেবে পরিচিত। এখান থেকে দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং উত্তর ইসরায়েলের দিকে নজর রাখা সম্ভব।

২০০০ সালে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের পর এই প্রথমবারের মতো দুর্গটি আবার তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে গড়ে তোলা নিরাপত্তা বলয়ের অংশ হিসেবে এই অবস্থান ধরে রাখা হবে।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাঝেও উত্তেজনা
সংঘাত কমাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগ চললেও মাঠের পরিস্থিতি এখনও অস্থির। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে আগের সমঝোতা থাকলেও সাম্প্রতিক সামরিক অগ্রযাত্রা নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বউফোর্ট দুর্গে ইসরায়েলি উপস্থিতি শুধু সামরিক সাফল্যের প্রতীক নয়, এটি রাজনৈতিক বার্তাও বহন করে। এর মাধ্যমে ইসরায়েল দেখাতে চাইছে যে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের অভিযান এখনও শেষ হয়নি এবং কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে তারা দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















