মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে বাজার খোলার পরই অপরিশোধিত তেলের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ-সংক্রান্ত সমঝোতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে বলে খবর প্রকাশের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ে, যার প্রভাব পড়ে জ্বালানি বাজারে।
সপ্তাহের শুরুতেই দামে উল্লম্ফন
সোমবার বাজার খোলার পর যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ডভিত্তিক অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৯ ডলার ৬০ সেন্টে পৌঁছায়। একই সময়ে উত্তর সাগরের ব্রেন্ট ক্রুডের দামও প্রায় ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে আগস্ট সরবরাহের জন্য ব্যারেলপ্রতি ৯৩ ডলার ১৬ সেন্টে লেনদেন হতে দেখা যায়।

আগের সপ্তাহে ছিল বড় পতন
এর আগে গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১১ শতাংশেরও বেশি কমে গিয়েছিল। তখন বাজারে ধারণা তৈরি হয়েছিল যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে একটি শান্তি চুক্তি শিগগিরই হতে পারে। সেই সম্ভাবনায় বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি আবার স্বাভাবিকভাবে চালু হওয়ার আশা জোরালো হয়েছিল।
বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল সরবরাহ এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। ফলে সেখানে স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ কমবে বলে ধারণা করেছিলেন বিশ্লেষকেরা।
নতুন আলোচনায় কঠোর বার্তা
তবে সপ্তাহান্তে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায়, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকের একটি নতুন খসড়া তেহরানে পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন প্রস্তাবে আগের তুলনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আরও কঠোর শর্ত যুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই খবরে বাজারে আবারও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে আলোচনার পথ জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা কমে যেতে পারে। সেই অনিশ্চয়তার কারণেই তেলের দামে নতুন করে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে।
বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাবের শঙ্কা

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি শুধু জ্বালানি খাতেই নয়, পরিবহন, উৎপাদন ও ভোক্তা পর্যায়ের ব্যয়ের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের প্রতিটি পরিবর্তন বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির পরবর্তী অগ্রগতি এখন তেলবাজারের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে উঠেছে। আলোচনা কত দ্রুত এগোয় এবং উত্তেজনা কতটা কমে, তার ওপরই আগামী দিনের দামের গতিপথ অনেকাংশে নির্ভর করবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















