ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে নতুন একটি কূটনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের মধ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যেই ধাপে ধাপে উত্তেজনা হ্রাস এবং কার্যকর যুদ্ধবিরতির পথ তৈরি করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করেছেন। এসব আলোচনায় সংঘাত নিয়ন্ত্রণ এবং সীমান্ত পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ধাপে ধাপে উত্তেজনা কমানোর পরিকল্পনা
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সব ধরনের হামলা বন্ধ করবে। এর বিনিময়ে ইসরায়েল বৈরুতসহ লেবাননের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সামরিক অভিযান বা উত্তেজনা বৃদ্ধি থেকে বিরত থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা, এই পদক্ষেপ উভয় পক্ষের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি করবে এবং ধীরে ধীরে সংঘাত কমানোর সুযোগ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে এটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতির জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনার পথও খুলে দিতে পারে।
লেবাননের অভ্যন্তরীণ আলোচনা
প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে লেবাননের পার্লামেন্টের স্পিকার নাবিহ বেরি ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি দাবি করেন, হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে—এ বিষয়ে তিনি নিশ্চয়তা দিতে পারেন। কিন্তু তার মতে, প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ইসরায়েলকেই হামলা ও গোলাগুলি বন্ধ করতে হবে।
সংঘাতের ভবিষ্যৎ কোন পথে?
বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষ যদি প্রাথমিক শর্তগুলো মেনে নেয়, তাহলে সীমান্ত এলাকায় সহিংসতা কমতে পারে। তবে পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং নিরাপত্তা উদ্বেগ এখনো বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নতুন এই মার্কিন উদ্যোগ সফল হলে তা শুধু ইসরায়েল ও লেবাননের জন্য নয়, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















